নেপালে হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার
উদ্ধার কাজ চলমান
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৩:১১, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬; আপডেট: ২৩:২০, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয়রা। ছবি : ডয়চে ভেলে।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় গত সপ্তাহে সংঘটিত ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে। পাহাড়ের হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক এ বন্যায় এখনও নিখোঁজ রয়েছে ৩ হাজার ৯০০ এরও বেশি মানুষ। এর মধ্যে প্রায় ৮০০ জন বিদেশি পর্যটক। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা থেকে আজ মঙ্গলবার এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে, নেপালের ত্রিশূলী নদীর প্বার্শবর্তী একটি সুড়ঙ্গে আটকে পড়েছে ৬০০ এরও বেশি কর্মী। সুড়ঙ্গটি মূলত ওই এলাকায় থাকা জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের একটি অংশ। কিন্তু, আকস্মিক বন্যায় পুরো এলাকাসহ ওই সুড়ঙ্গটিও কাদা-মাটিতে ডুবে গেছে।
এ অবস্থায় মেশিনের সাহায্যে বাতাস পাম্প করে ওই সুড়ঙ্গে রাস্তা বের করে প্রবেশ করে উদ্ধারকর্মীরা। কিন্তু, সেখানে কারও সন্ধান না পাওয়ায় ফিরে আসে তারা। তবে, সুড়ঙ্গের ভেতরে অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকায় এখনও অনেকের জীবিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করেছে আটকে পড়া কর্মীদের স্বজনরা।

তবে, এ পর্যন্ত ওই এলাকা থেকে ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্রা শাহ জানান। বর্তমানে চীন ও নেপালের সেনা সদস্যসহ ভারত, কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে উদ্ধার অভিযানের দল গঠন করা হয়েছে এবং তারা জীবিতদের উদ্ধারে যথাসাধ্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে নেপালের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে।
কিন্তু, বন্যার কারণে চলাচলের বহু রাস্তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ অনেক কঠিন হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় কাদামাটি, পাথর এবং ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে অনুসন্ধানী কুকুর দিয়ে উদ্ধার কাজ এগিয়ে নেওয়া চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, ভয়াবহ এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিব্বত অংশে এ পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও প্রায় ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব গণমাধ্যম জানিয়েছে। তবে, এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট হিমালয় পর্বতমালার একটি হিমবাহ ধসে পড়ে আকস্মিক এ বন্যার সৃষ্টি হয়। এ সময় হিমবাহের সঙ্গে প্রচণ্ড গতি নিয়ে উঁচু পাহাড় থেকে নিচের উপত্যকায় নেমে আসে বড় বড় পাথরখণ্ড, বরফ এবং গলিত পানি। এ জলপ্রবাহ এতোটাই শক্তিশালী ছিলো যে এর প্রভাবে ৫ দশমিক ২ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়।
এ অবস্থায় এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে জানমাল রক্ষায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে তিনি লিখেন, ‘এ ঘটনা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দেশগুলো কতটা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় এখন আমাদের অবশ্যই সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। একইসঙ্গে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট এ ধরনের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করাও জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
সূত্র : বিবিসি, ডয়চে ভেলে।



