অন্যান্য

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভ‍ূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩

ঘরছাড়া হাজার হাজার বাসিন্দা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০২:৫০, ১৭ আগস্ট ২০২৬;  আপডেট: ০২:৫৭, ১৭ আগস্ট ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভ‍ূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩

ইন্দোনেশিয়ায় বেশ কয়েকবছরের মধ্যে সংঘটিত প্রচণ্ড শক্তিশালী এ ভূমিকম্পটির পর এ পর্যন্ত প্রায় ৩৪১টি আফটার শক অনুভূত হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ৫৩ জনে পৌঁছেছে। এতে বর্তমানে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে প্রায় ৫ হাজার বাসিন্দা। ভূমিকম্পের আঘাতে এ পর্যন্ত মোট ৩৬ জন গুরুতর এবং আরও প্রায় ৭৭ জন সামান্য আহত হয়েছে বলে গতকাল রবিবার দেশটির উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী বেঞ্জামিন পাওলাস অক্টাভিয়ানাস জানান।

গত শনিবার ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ৭ দশিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী এ ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এ সময় এটির কেন্দ্রস্থল ছিলো ফ্লোরেস দ্বীপের এনদে শহরে। শহরটি পূর্ব নুসা টেঙ্গারা প্রদেশে অবস্থিত। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিলো ১০ কিলোমিটার। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

ইন্দোনেশিয়ায় বেশ কয়েকবছরের মধ্যে সংঘটিত প্রচণ্ড শক্তিশালী এ ভূমিকম্পটির পর এ পর্যন্ত প্রায় ৩৪১টি আফটার শক অনুভূত হয়েছে। শক্তিশালী এ ভূমিকম্পের কারণে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরবর্তীতে তা ওঠিয়ে নেওয়া হয়।

বর্তমানে এর কারণে সৃষ্ট ভূমধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট পরিষ্কার করে ধ্বংস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকর্মীরা।উদ্ধারকাজে গতি আনতে বর্তমানে সাড়ে তিন হাজারে বেশি সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ভূমিকম্পে দেশটিতে ১ হাজার ৩০০ এরও বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বর্তমানে ২০টি গ্যাস স্টেশন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ পরিস্থিতিতে পূর্ব নুসা টেঙ্গারা প্রদেশে রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার।

কারণ, ভূমিকম্পপরবর্তী পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ওই এলাকায় ব্যাপক অর্থ-সম্পদের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

আফটারশকের আতঙ্কে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্পে সেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন আহতরা।

এদিকে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্কা আবাসিক এলাকার ৩ হাজার ৩০০ এরও বেশি বাসিন্দা নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে খেলার মাঠে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (বিএনপিবি) এ তথ্য জানায়।

অন্যদিকে, ভূমিকম্পের মূল কেন্দ্রের নিকটবর্তী নাগেকেও এলাকার প্রায় ২ হাজার বাসিন্দা নিজ বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। কারণ, এতে এ এলাকার কমপক্ষে ১৫৭টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং প্রায় ২০০ এরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিএনপিবির প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুহারেন্তো জানান।  

বর্তমানে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বিছিন্ন বেশ কয়েকটি দ্বীপে উদ্ধার কাজে সাহায্য করতে তিনটি হেলিকপ্টার এবং উদ্ধারকারী নৌযান পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, প্রায় ২৯ কোটি জনগণ এবং ১৭ হাজার দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়া পৃথিবীর সবচেয়ে ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চল প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফয়ার’ এর উপরিভাগে অবস্থিত। ফলে, দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।

এর মধ্যে কিছু তেমন ক্ষতিকর না হলেও কিছু ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে সংঘটিত এমনই শক্তিশালী এক ভূমিকম্প ও এর কারণে সৃষ্ট সুনামিতে এই ফ্লোরেস দ্বীপেই আড়াই হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

সূত্র : আল-জাজিরা।