প্রদর্শনীর পর আলোচনায় বক্তারা
নারীর আত্মপরিচয় হারিয়ে যাওয়া ও খোঁজার গল্প `লাপাতা লেডিস`
শিক্ষা ও ক্যারিয়ার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২:২৭, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬; আপডেট: ০১:২৯, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চলচ্চিত্র প্রদর্শনী চলাকালে দর্শকদের একাংশ।
'লাপাতা লেডিস' শুধু ট্রেন থেকে দুজন নারীর হারিয়ে যাওয়ার গল্প নয়; এ গল্প বিয়ের পর 'ঘোমটার আড়ালে' হারিয়ে যাওয়া হাজারো নারীর।
সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটিতে কিরণ রাও পরিচালিত 'লাপাতা লেডিস' চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনীর পর আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির মিডিয়া অ্যান্ড মুভি ক্লাব আজ বৃহস্পতিবার এ প্রদর্শনী ও আলোচনা সভার আয়োজন করে।
বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ড. পারভীন হাসান, রেজিস্ট্রার ইলিয়াস আহমেদ এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা এ প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা পর্বে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চলচ্চিত্রটির সমাজতাত্ত্বিক গুরুত্ব ও নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপার্সন সজীব সরকার বলেন, 'লাপাতা লেডিস' এখানে শুধু ট্রেন থেকে হারিয়ে যাওয়া ওই দুজন নারীর গল্প নয়; বরং, পুরুষতান্ত্রিক 'প্রেসক্রিপশন' হিসেবে ব্যবহৃত 'ঘোমটা'র এ অ্যালেগোরি বিয়ের পর 'স্বামীর সংসারে' আত্মপরিচয় হারিয়ে ফেলা সব নারীরই গল্প।
তিনি বলেন, চলচ্চিত্রটিতে মূল দুই নারী চরিত্রের কনট্রাস্ট এখানে নারীর দুই ধরনের আত্মসমীক্ষাকে বুঝতে সাহায্য করে। একটি চরিত্র (ফুল কুমারি) স্বামী ও সংসারের প্রতি অন্ধ আনুগত্যকেই আদর্শ নারীর কর্তব্য মনে করেন। অন্যজন (জয়া) প্রতিবাদী; জোর করে চাপিয়ে দেওয়া বিয়ের ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করে পড়াশোনার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠা তার কাছে অগ্রাধিকার পায়। দুজনের চরিত্রের এ বৈপরীত্য, অসহায়ত্ব ও সংগ্রাম সব নারীরই জীবনের সার্বিক চিত্রটিকে ফুটিয়ে তোলে।
তিনি আরো বলেন, নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এখানে ফুল কুমারির মধ্যে যে রূপান্তর দেখানো হয়েছে, এই বার্তাটি নারীদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকেই ফুল কুমারি থেকে জয়া-তে রূপান্তরিত হতে হবে। আর, ট্রেন থেকে হারিয়ে গিয়েই যে তারা নিজেদের প্রকৃত সত্তা বা আত্মপরিচয় খুঁজে পেয়েছে, এ বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
সোশিওলজি অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপার্সন ড. ফজিলা বানু বলেন, এ চলচ্চিত্রে পরিবেশগত একটা ব্যাপার দেখানো হয়েছে যা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। জয়া যে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রাকৃতিক সমাধান ব্যবহারে আগ্রহ দেখিয়েছে, চলচ্চিত্রে এই বিষয়টির অন্তর্ভুক্তি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে।

বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের চেয়ারপার্সন ড. তানজিলা হোসাইন বলেন, এই চলচ্চিত্রটি নারীর অধিকার, তাদের চলার পথের নানা সমস্যা ও প্রতিকূলতা জয় করার মতো বিষয়গুলোর কারণে খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ধরনের চলচ্চিত্র থেকে আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের অনেককিছু শেখার আছে।
রেজিস্ট্রার ইলিয়াস আহমেদ বলেন, চলচ্চিত্রটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানুষের পরিচয় হারিয়ে যাওয়া। ঘোমটার আড়ালে একজন নারীর নিজের পরিচয় ও ব্যক্তিসত্তা হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি চলচ্চিত্রে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, একজন মানুষের নানা দিক থাকতে পারে। মানুষকে শুধু ভালো বা খারাপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; প্রত্যেক মানুষের ভিন্ন ভিন্ন রূপ ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কঠোর মনে হওয়া একজন মানুষেরও একটি নরম ও মানবিক দিক থাকতে পারে যা এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এখানে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে মানুষের নানা বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে নানা রকমের গল্প উঠে এসেছে। এখানে আত্মবিশ্বাসী একজন নারীকে যেমন দেখা যায়, তেমনি তার বিপরীত চরিত্রের একজন নারীর মধ্যে রূপান্তরের ঘটনাও আমরা দেখি।
মিডিয়া অ্যান্ড মুভি ক্লাবের কো-মডারেটর ও জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক কাজী নাফিয়া রহমান বলেন, আমরা নিয়মিত এ ধরনের চলচ্চিত্র দেখার আয়োজন করছি। এমন চলচ্চিত্রগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল ও আত্মবিশ্বাসী হওয়ার শিক্ষা নিতে হবে।
এ সময় তিনি মিডিয়া অ্যান্ড মুভি ক্লাবের নতুন কমিটি গঠিত হওয়ার ঘোষণা দিয়ে নবগঠিত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সবার পরিচয় করিয়ে দেন।
ক্লাবটির নতুন প্রেসিডেন্ট তানজিলা রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট হুমায়রা কবির প্রাপ্তি, জেনারেল সেক্রেটারি জুবাইদা শারমিন, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি সুমাইয়া রহমান পরমা ও ক্রিয়েটিভ সেক্রেটারি মোহাইমিনা খান। তারা সবাই জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী।
এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে রয়েছেন একই বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা আক্তার, জয়নাব খাতুন সালাসা, মালিহা আক্তার, সারা মোহাম্মদ শায়না, সাদিয়া ইসলাম ও মেহনাজ জাহান মাহী; কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সারাহ জাইমা রুশমিতা, ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ অ্যান্ড লিটারেচার বিভাগের এশা সুলতানা, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের মার্জিয়া রহমান রাইতা এবং সোশিওলজি অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের ইশরাত জাহান আরিনা।
সূত্র : সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।



