ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ
ফটো ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৩৪, ১৮ আগস্ট ২০২৬; আপডেট: ০১:৩৮, ১৮ আগস্ট ২০২৬
মহাদেশটিতে গ্রীষ্মকাল এখনও শেষ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশজুড়ে শুরু হওয়া দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মহাদেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এ দাবানলে এ পর্যন্ত পুড়ে ছাই হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৭৬ হাজার হেক্টরের মতো জমি।
বর্তমানে এ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপের বেলজিয়াম থেকে গ্রিস পর্যন্ত। মহাদেশটিতে গ্রীষ্মকাল এখনও শেষ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মূলত, মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে বর্তমানে গ্রীষ্মকালে যে তীব্র দাবদাহ হয়, এটিই এমন ভয়াবহ দাবানলের প্রধান উৎস বলে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
এখানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
বেলজিয়াম : বর্তমানে দেশটির জার্মানির সীমান্তসংলগ্ন হাই ফেন্স পার্কে প্রায় ৫০০ অগ্নিনির্বাপক কর্মী দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে অনবরত কাজ করে যাচ্ছে। তবে, গতকাল সোমবার বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা স্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

গত শুক্রবার দেশটিতে শুরু হওয়া এ দাবানলে এরইমধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ে বেলজিয়ামের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলগুলোর মধ্যে একটি।
গ্রিস : দেশটির রাজধানী এথেন্সের নিকটবর্তী স্যালামিনা দ্বীপে অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের পক্ষে দুটি দাবানল প্রায় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে গতকাল জানানো হয়।

এর আগে দাবানলে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ থেকে বাঁচতে দ্বীপটি থেকে প্রায় ৫০০ এর মতো বাসিন্দাকে নৌযানে করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ব্যাপক পর্যটকের উপস্থিতিতে দ্বীপটিতে দাবানল শুরু হয় বলে জানা গেছে।
ফ্রান্স : দেশটির পশ্চিমের জিরোন্দে অঞ্চলের লা পোর্জে গ্রামে ভয়াবহ দাবানলের ঘটনা ঘটে। গত মাসে শুরু হওয়া এ দাবানলে এ পর্যন্ত গ্রামটির মোট ১৮৩টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে গ্রামটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা ও পর্যটক।

তবে, গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের দক্ষিণপশ্চিমাংশের ল্যানদেস অঞ্চলে শুরু হওয়া দাবানল বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে, এ অঞ্চলের লাগলন গ্রামের ২৫০ জন বাসিন্দাকে নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
স্পেন : দেশটির অ্যারাগন অঞ্চলে চলমান দাবানলে এ পর্যন্ত এক সেনা নিহত ও শত শত মানুষ তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এ দাবানলে বর্তমানে ওই অঞ্চলের ১ হাজার বছরের পুরোনো একটি মঠ ধ্বংসের ঝুঁকিতে রয়েছে।

এরইমধ্যে ১৬ হাজার ৬০০ হেক্টর ভূমি পুড়িয়ে ফেলা ভয়াবহ এ দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা।
পর্তুগাল : দেশটিতে বর্তমানে বেশ কয়েকটি জায়গায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ন্ত্রণে অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে, আগুন নেভাতে গিয়ে এক কর্মী সামান্য আহত হয়েছে বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। স্পেন সীমান্তসংলগ্ন পর্তুগালের ডাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ক্রোয়েশিয়া : দেশটির পর্যটক শহর ওমিসে গত বৃহস্পতিবার প্রথম দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে তখন প্রায় ১ হাজার মানুষ শহরটি ছাড়তে বাধ্য হয়। তবে, বর্তমানে দাবানল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কিন্তু, এর আগে দাবানলে দগ্ধ হয়ে ১ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় আরও প্রায় ৪০ জন। এর মধ্যে ৭ জনের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।

এদিকে, সম্প্রতি ক্রোয়েশিয়ার অ্যাড্রিয়াটিক উপকূলে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু আগুন লাগানো হয়েছে সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে দেশটির পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র : ডয়চে ভেলে, দ্য রেসিডেন্ট এবং ইন্টারনেট।



