ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগ ব্রিটেনের
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা
রাজনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩:৪৪, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬; আপডেট: ২৩:৫২, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দখলকৃত পশ্চিত তীরের শিলো এলাকায় ইসরায়েলি মালিকাধীন কোম্পানি লিবির নির্মাণ করা অবৈধ স্থাপনা। ছবি : আল-জাজিরা।
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে ফ্রান্স ও কানাডাসহ পশ্চিমের মোট ১১টি দেশ। আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলে জানানো হয়েছে। ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যৌথ এ উদ্যোগ নিলো দেশগুলো।
যুক্তরাজ্যের (ইউনাউটেড কিংডম বা ইউকে) সংসদে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ঘোষণার সময় পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি তৎপরতার কঠোর সমালোচনা করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। এ সময় তিনি বলেন, ‘অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারী সন্ত্রাসীরা ফিলিস্তিনে জাতিগত নিধন চালাচ্ছে।’ একইসঙ্গে, দেশটির এ ধরনের কর্মকান্ডের উপর দুই দেশের সম্পর্কের ধরন কি হবে, সে বিষয়টি নির্ভর করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের এ উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে একটি যৌথ চিঠি প্রকাশ করেছে পশ্চিমের আরও ১১টি দেশ। দেশগুলো হলো - কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন। এ সময় তারাও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনাকারীদের ওপর যুক্তরাজ্যের মতো একই ধরনের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে বলে ঘোষণা দেয়। দেশগুলোর এ সিদ্ধান্তের উপর্যুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল ও এর ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র।
তবে, যুক্তরাজ্য আর চুপ করে থাকবে না এবং ফিলিস্তিন ছাড়তে বাধ্য হওয়া বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিবে বলে মিলিব্যান্ড উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে, ইসরায়েলের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে তারা শক্ত পদক্ষেপ নিবে বলেও জানান তিনি।

যুক্তরাজ্যের এ বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলিদের কাছ থেকে যেকোনো ধরনের পণ্য আমদানি বন্ধ করা হবে। একইসঙ্গে, অবৈধ বসতি স্থাপনের সঙ্গে জড়িত যেকোনো ধরনের নির্মাণ, অবকাঠামো, অর্থায়ন এবং রিয়েল এসেস্ট খাতের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিব্যান্ড বলেন, ‘কমনওয়েলথসহ আন্তর্জাতিক যেকোনো ক্ষেত্রে ব্রিটেনের এখন নেতৃত্বের ভূমিকায় থেকে এটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন যে কোনো রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক বা সংস্থা যেনো কোনোভাবে অবৈধ এ কাজে সাহায্য না করে বা এর মধ্য দিয়ে সুবিধাভোগী না হয়।’ মূলত, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল নিয়ে ‘দুই রাষ্ট্র নীতির’ ধারণাটি রক্ষা ও বাস্তবায়ন করতেই তাদের এ উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে, একে ‘অযৌক্তিক ও অনৈতিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত’ বলে এর সমালোচনা করেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়োন সা’আর। একইসঙ্গে, এটি ইসরায়েলের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচালের যুক্তরাজ্যের একটি কৌশল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ অবস্থায় যুক্তরাজ্যের এসব সিদ্ধান্তের জবাবে জেরুজালেমে অবস্থিত ইউকে কনস্যুলেট বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। একইসঙ্গে, ১১ ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা ও আইনজীবীর ফিলিস্তিনে প্রবেশের অনুমতি দিতেও অস্বীকৃতি জানায় দেশটি।

এছাড়া, গাজা যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত সংস্থা সিএমসিসি (দ্য কোর্ডিনেশন সেন্টার ইন সাউদার্ন ইসরায়েল) থেকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের বাধ দেওয়াসহ রামাল্লাভিত্তিক ব্রিটিশ সেনা সংস্থা ব্রিটিশ সাপোর্ট টিম (বিএসটি) এর কার্যক্রমও বাতিল ঘোষণা করে ইসরায়েল। এ দলটি ছোট পরিসরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রনাধীন বাহিনীকে (পিএএসএফ) বিভিন্ন সাহায্য ও সমর্থন দিয়ে আসছিলো।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের নতুন এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আজ কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই স্থিতিশীলতার পক্ষে। এতো কিছুর মধ্যে পশ্চিম তীরে আবার কোনো অস্থিতিশীলতা তৈরি হোক আমরাও তা চাই না। তবে, আমরা অবশ্যই যুক্তরাজ্য যা করেছে, এমন কিছু করবো না। আমি আজ তাদের নতুন ঘোষণাগুলো শুনেছি, কিন্তু এখনই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাইছি না।’
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীর দখল করে নেয় ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, উভয়ই দখলকৃত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত এবং ওই দুই এলাকায় ইসরায়েলি স্থাপনা নির্মাণকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
এ অবস্থায় ইসরায়েলের বর্তমান বেনঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকারের সময়কালে এ বিষয়টির উপর জোর দেওয়ার কারণে পশ্চিম তীরে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের পরিমাণও অনেক বেড়ে যায়, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র : সিএনএন, আল-জাজিরা।


