ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত
বিমানবন্দরে আটকে পড়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার যাত্রী
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৩:৫৬, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬; আপডেট: ০১:৫৭, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ড্রোনের সাহায্যে তোলা ছবিতে আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। ছবি : সিএনএন।
ইন্দোনেশিয়ায় একটি আগ্নেয়গিরি থেকে শুরু হওয়া অগ্নুৎপাতের কারণে বাতিল হয়ে গেছে বিমানের প্রায় ৩ হাজার ফ্লাইট। অগ্নুৎপাতের কারণে সৃষ্ট ধোঁয়ার কারণে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে বর্তমানে আটকে পড়েছে বিভিন্ন দেশের ৩ লাখ ৪০ হাজার যাত্রী।
গত শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাও নামের আগ্নেয়গিরি থেকে হঠাৎ করেই অগ্নুৎপাত শুরু হয়। এ সময় আগ্নেয়গিরি থেকে প্রচণ্ড বেগে লাভা বের হতে শুরু করে এবং একইসঙ্গে পুরো এলাকাজুড়ে অগ্নুৎপাতের ছাই ছড়িয়ে পড়ে।
আগ্নেয়গিরিটি রাজধানী জাকার্তা থেকে মাত্র ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করায় এ ছাই রাজধানীসহ প্বার্শবর্তী লামপাঙ্গ প্রদেশের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। পুরো সপ্তাহজুড়েই আগ্নেয়গিরিটি সক্রিয় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
এ অবস্থায় জাকার্তার সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার ১১টা ৫৯ মিনিটে আবার কার্যক্রম শুরু হবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরটিতে আটকে পড়া যাত্রীর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই ভাড়া ফেরত চাওয়াসহ ফ্লাইট আবার চালুর বিষয়ে নিশ্চয়তা পেতে অস্থির হয়ে উঠেছে।
এদের মধ্যে অনেকেরই গতকাল রবিবারের মধ্যে নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার কথা থাকলেও পুরো দুইদিন ধরে তারা বিমানবন্দরেই আটকে আছে। ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে মধুচন্দ্রিমায় এসে আটকে পড়েছে মালয়েশিয়ার নববিবাহিত এক দম্পতি। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের আগে তাদের আর কোনো ফিরতি ফ্লাইট নেই বলে বিমানবন্দর থেকে জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করে তারা।
এ বিষয়ে স্বামী আমির হামজা (২৯) বলেন, ‘আরও পাঁচদিন আমরা এখানে কি করবো? আমরা শুধু আমাদের মধুচন্দ্রিমার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ নিয়ে এসেছিলাম এবং আমাদের গতকালই নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিলো। আমরা ভেবেছিলাম আমাদের হয়তো বিমানবন্দরের লাউঞ্চে কয়েক ঘণ্টা থাকতে হবে এবং আজ সকালেই বাড়ি ফিরে যেতে পারবো। কিন্তুু, এটা কখনোই ভাবিনি যে আমাদের এতোদিনের জন্য এখানে আটকে পড়তে হবে।’

এদিকে, আরও বেশ কয়েকদিন এমন অগ্নুৎপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আজ ইন্দোনেশিয়ার ভূতত্ত্ব সংস্থা থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে দেশটির জাভায় আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের কারণে সৃষ্ট ছাই ৬ হাজার মিটার উচ্চতায় এবং সুমাত্রায় ১৫ হাজার মিটার উচ্চতা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া দফতর থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
বর্তমানে সক্রিয় এ আগ্নেয়গিরিটি জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝামাঝি সান্দা প্রণালিতে অবস্থিত। আগ্নেয়গিরিটি থেকে সর্বশেষ গতকাল রবিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৩ মিনিটে অগ্নুৎপাত হয়।
এ অবস্থায় বিমানবন্দরগুলো কখন বা কবে নাগাদ পুরোপুরি সচল হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী গতকাল এ বিষয়ে বলেছিলেন যে, ছাই কি আরও ছড়িয়ে পড়ছে নাকি তা কমছে, এটি নিশ্চিত হতে তারা প্রতি ৩০ মিনিট পর পর পরীক্ষা করে যাচ্ছেন।
এদিকে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আগ্নেয়গিরির সক্রিয় জ্বালামুখের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে না যেতে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। এমনকি এ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করা জাহাজগুলোকেও আগ্নেয়গিরির ৩ কিলোমিটারের মধ্যে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে, অগ্নুৎপাতের কারণে কোনো ধরনের সুনামির ঝুঁকি নেই বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আনাক ক্রাকাতাও মানে ক্রাকাতাওয়ের সন্তান। গত শতাব্দীর শুরুতে সাগরের তলদেশে ক্রাকাতাও পর্বতে ১৮৮৩টি অগ্নুৎপাতের মধ্য দিয়ে এর জ্বালামুখ তৈরি হয় এবং এ আগ্নেয়গিরিটি জেগে উঠে। সে সময় থেকে এখনও পর্যন্ত এটি প্রায়ই সক্রিয় হয়ে ওঠে।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এমনভাবেই আগ্নেয়গিরিটির জ্বালামুখ দিয়ে অগ্নুৎপাত শুরু হয় এবং এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে সে সময় ৪০০ এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। একইসঙ্গে, এ দুর্যোগে তখন সুমাত্রা ও জাভা দ্বীপের উপকূলবর্তী এলাকায় আহত ও বাস্তচ্যুত হয় আরও হাজার হাজার মানুষ।
সূত্র : বিবিসি।



