অন্যান্য

জাপান ও তাইওয়ানের পর এবার চীনে আঘাত হেনেছে টাইফুন বাভি

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩:৫৪, ১২ জুলাই ২০২৬;  আপডেট: ০০:১৪, ১৩ জুলাই ২০২৬

জাপান ও তাইওয়ানের পর এবার চীনে আঘাত হেনেছে টাইফুন বাভি

গতকাল শনিবার বিকেলে টাইফুন বাভি প্রথম চীনের উপকূলীয় শহর তাইঝহুতে আছড়ে পড়ে। ছবি : বিবিসি।

চীনে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বাভি। গত শনিবার বিকেলে এটি দেশটির পূর্বাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে। এর মধ্য দিয়ে গত এক সপ্তাহের মধ্যে চীনে পর পর দুটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলো। ঘূর্ণিঝড় বাভি থেকে সুরক্ষায় এরইমধ্যে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে দেশটি।

এর আগে জাপান ও তাইওয়ানে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়টি। এর প্রভাবে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে প্রচণ্ড বাতাস ও ভারী বৃষ্টি হয়। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তাইওয়ানে। বর্তমানে দেশ দুটির বড় অংশ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া, ফিলিপাইনে টাইফুন বাভির আঘাতে পাহাড় ধসে ১৭ জন নিহত হয়।

গতকাল শনিবার বিকেলে টাইফুন বাভি প্রথম চীনের উপকূলীয় শহর তাইঝহুতে আছড়ে পড়ে। পরে মধ্যরাতে তা দ্বিতীয়বারের মতো আছড়ে পড়ে ওয়েনঝহুতে। আজ রবিবার সকালে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র ঝেহজিইয়াং প্রদেশের হাংঝু শহরে আঘাত করে বলে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট তীব্র বাতাসে চীনের ঝেহজিইয়াং প্রদেশে একটি গাড়ি উল্টে পড়ে। ছবি : বিবিসি।

আগামীকাল সোমবার এটি পূর্বের অ্যানহুই এবং মঙ্গলবার শানডং পেনিনসুলা হয়ে পীত সাগরে মিলিয়ে যাবে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে শক্তি হারাবে।

এদিকে, শক্তিশালী এ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ঝেহজিইয়াংয়ের ১৭ লাখেরও বেশি এবং প্বার্শবর্তী এলাকার আরও হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় চীন। 

একইসঙ্গে, প্রদেশটির সব স্কুল ও অফিস বন্ধ ঘোষণা করাসহ বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৪০০ ফ্লাইটসহ ডজনের বেশি ট্রেন সেবাও বাতিল করে প্রাদেশিক সরকার। ওয়েনঝহু শহরেও প্রায় হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। 

উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুতে চীনের দক্ষিণাংশে আঘাত করে টাইফুন মায়সাক। শক্তিশালী এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এরইমধ্যে কমপক্ষে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং মারা গেছে অনেক গবাদি পশু। এর ফলে দেশটির কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে শনিবার জাপানের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ইশিগাকি দ্বীপের সব ফ্লাইট ও ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ছবি : ডয়চে ভেলে।

এদিকে, টাইফুন মায়সাকের প্রভাবে চীনের হুবাই প্রদেশে দুটি টর্নেডো সৃষ্টি হয়। টর্নেডো দুটি প্রদেশটিতে ব্যাপক ধ্বংসযক্ষ চালায়। এতে হুবাই প্রদেশের বেশ কিছু শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়। 

চীনে টর্নেডো সৃষ্টির ঘটনা খুবই বিরল। মূলত, উত্তরের ঠাণ্ডা বাতাসের সঙ্গে টাইফুন মায়সাকের সঙ্গে আসা গরম বাতাসের সংঘর্ষে এ দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে দেশটির আবহাওয়া দফতর জানায়।

সূত্র : বিবিসি, ডয়চে ভেলে।