ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প : নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭১৯
নির্খোঁজ হাজারের বেশি
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ০৩:২৬, ৩০ জুন ২০২৬; আপডেট: ০৩:৪২, ৩০ জুন ২০২৬
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বিভিন্ন দেশ থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পণ্যসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলায় সংঘটিত শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা এ পর্যন্ত ১ হাজার ৭৯১ জনে পৌঁছেছে। গত বৃহম্পতিবার পর পর আঘাত হানা এ দুটি ভূমিকম্পে এখনও আরও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। তাদের উদ্ধারে এখনও চেষ্টা চলছে। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গতকাল সোমবার এসব তথ্য জানিয়েছে।
মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভয়াবহ দুটি ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৩৪ জন আহত হয়েছে। বিধ্বংসী এ ভূমিকম্পে বাড়িঘর হারিয়ে বর্তমানে ১৫ হাজার ৮৬৬ জন গৃহহীন অবস্থায় রয়েছে। গতকাল দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রধান হোর্হে রদ্রিগুয়েজ এসব তথ্য জানান।
এদিকে, গতকাল সকালে উদ্ধারকাজ চলাকালীন আবারও একটি আফটার শক অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিলো ৪ দশমিক ৬ এবং গভীরতা ছিলো ১০ কিলোমিটার।
ভেনেজুয়েলার ক্যারিবিয়ান সাগরের উত্তরের উপকূূলবর্তী ক্যারাবাল্লেদাতে বন্দর নগরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিলো বলে যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানায়। তবে, এতে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন রদ্রিগুয়েজ।

এদিকে, বর্তমানে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উদ্ধার কাজ চালানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরাঞ্চলের বন্দর নগরী লা গুয়েইরাতে উদ্ধার কাজে জোর তৎপরতা চলছে।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৩০ হাজার জরুরি উদ্ধারকর্মী এবং বিভিন্ন দেশের ২ হাজার ৭০০ বিশেষজ্ঞ উদ্ধার কাজে সাহায্য করছে। তারপরও এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
এ ক্ষেত্রে, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর উদ্ধার কাজের পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে সে সময় পার হয়ে গেছে গত শনিবার বিকেলে। তারপরও, গত রবিবার বেশ কয়েকটি সফল উদ্ধার কাজের পর উদ্ধারকর্মীসহ নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্বিগ্ন স্বজনদের আশাবাদী হতে দেখা গেছে।
এ অবস্থায়, বিধ্বস্থ ভবনে আটকে পড়াদের প্রয়োজনমতো খাবার ও পানি দেওয়া সম্ভব হলে তাদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত রবিবার দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ‘আজকে আমরা অনেককে জীবিত উদ্ধার করেছি, তাই উদ্ধার কাজ এখনই বন্ধ করা হচ্ছে না। কারণ, আমরা এখনও আশাবাদী।'
এ ক্ষেত্রে লা গুয়েইরায় ধসে পড়া একটি ভবনের ভেতর থেকে ২১ বছরের অ্যারোন লেভি নামের এক তরুণকে উদ্ধার করা হয়। সে টানা ১০৬ ঘণ্টা ধ্বংস্তূপের নিচে আটকে ছিলো বলে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানান।
একইসঙ্গে, ভূমিকম্পের তিনদিন পর বিধ্বস্থ ভবন থেকে মা ও তার ১৮ দিনের শিশু সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করার ঘটনাও কর্মীদের তৎপরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে মোট ২৪টি দেশ ৫০০ টনেরও বেশি প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী, ২ হাজার ৭০০ উদ্ধার ও সহায়তাকর্মী এবং ৮৬টি দলের অনুসন্ধানী কুকুর দিয়ে সাহায্য করেছে বলে ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ জানায়।

তবে, কিছু জায়গায় উদ্ধার কাজের ধীর গতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে বাসিন্দাদের। একইসঙ্গে, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পণ্যসামগ্রী পেতেও সময় লাগছে বলে অভিযোগ করেন বিভিন্ন এলাকার অনেক ভুক্তভোগী।
তবে, আপাতত গৃহহীন বাসিন্দারা অস্থায়ী ক্যাম্পে থাকবে বলে প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, ভূমিকম্পে বিধ্বস্থ ভবনগুলোর বর্তমান ক্ষয়ক্ষতির অবস্থা এবং নিরাপত্তার বিষয়টি দেখতে প্রেসিডেন্সিয়াল কমিশন গঠন করা হয়েছে বলে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব টিভিতে ঘোষণা দেন তিনি।
সূত্র : আল-জাজিরা, বিবিসি ও সিএনএন।



