রাজনীতি

দক্ষিণ আফ্রিকায় বেড়ে চলেছে অভিবানবিরোধী বিক্ষোভ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন

রাজনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:২৫, ১ জুলাই ২০২৬;  আপডেট: ০৩:৫৪, ১ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় বেড়ে চলেছে অভিবানবিরোধী বিক্ষোভ

দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে সংখ্যাগরিষ্ঠ স্থানীয় জুলু সম্প্রদায়ের নাগরিকদের প্রবল বিক্ষোভ। ছবি : ডয়চে ভেলে।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রায় সব শহরেই ছড়িয়ে পড়েছে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করাসহ পুলিশ মোতায়েন করতে বাধ্য হয়েছে দেশটির সরকার। 

বিক্ষোভকারীরা বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থানরত বিদেশিদের গতকাল মঙ্গলবারের মধ্যে দেশটি ছেড়ে যাওয়ার সময় নির্ধারণ করে দেয়। তা না হলে তাদের গ্রেফতার করে নিজ দেশে পাঠানো হবে বলে হুমকি দেয় বিক্ষোভকারীরা।

কিন্তু, তাদের এ হুমকির কোনো ভিত্তি নেই বলে আশ্বস্থ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার। গত সোমবার দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোস এ বিষয়ে বলেন যে, জনগণের বিক্ষোভ করার অধিকার মানে কাউকে ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া, সংঘাত বা ভাঙ্গচুর করা নয়।

তিনি বলেন, ‘আপনার উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, কখনোই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়।’ কিন্তু, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় অনেক বিদেশি নাগরিকই দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।

এরইমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে যাচ্ছে অভিবাসীরা। ছবি : ডয়চে ভেলে।

এদিকে, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত - উভয় শ্রেণির নাগরিকই রয়েছে। এমনকি সারা দেশ থেকে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর লোকজনও এ বিক্ষোভে অংশ নেয়।

দেশটিতে বাস করা অবৈধ অভিবাসীদের সরকারের পক্ষ থেকে নিজ নিজ দেশে পাঠানো হবে - এটাই তাদের দাবি বলে বিক্ষোভকারীরা জানায়। এ ক্ষেত্রে সরকার থেকে আগে তাদেরকে আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় নিজেদের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভকারীরা।

এমনকি, পর্যাপ্ত যোগত্য থাকা এবং দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তারা কাজ না পেয়ে অভিবাসীরা কেন কাজ পাচ্ছে, এ বিষয়টি নিয়েও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা প্রকাশ পায়।

তবে, প্রথম থেকেই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের উদ্দেশ্যে রাস্তায় নামে বলে দাবি করে বিক্ষোভকারীরা। কিন্তু, এর সুযোগ নিয়ে অনেকে ভাঙ্গচুর চালানো, বিভিন্ন জায়গায় আগুন দেওয়া এবং বিদেশিদের ভয়-ভীতি দেখানোর মতো কাজ করছে বলে কয়েকজন স্বীকার করে।

অবৈধ অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার হাজার হাজার মানুষ। ছবি : ডয়চে ভেলে।

গত এপ্রিল থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিভাসনবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। কিন্তু, সম্প্রতি তা ব্যাপক আকার ধারণ করে। এর মধ্যে গত সপ্তাহ থেকে দেশটিতে বাস করা বিদেশিদের উপর আক্রমণ শুরু হয়।

এ ধরনের আক্রমণে এরইমধ্যে মোজাম্বিকের কমপক্ষে ২ জন এবং ইথিওপিয়ার ও মালাইউয়ের ১ জন করে অভিবাসী নিহত হয়।

এদিকে, তারা অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে বলে বিক্ষোভকারীদের তরফ থেকে দাবি করা হলেও দক্ষিণ আফ্রিকায় বৈধভাবে বসবাস করা বিদেশিরাও আক্রমণের শিকার হচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ অবস্থায় হাজার হাজার অভিবাসী বর্তমানে নিজ নিজ দেশের দূতাবাসের সামনে অবস্থা করতে বাধ্য হচ্ছে এবং নিজ জীবনের নিরাপত্তা চাইছে। কারণ, হামলা আতঙ্কে বা জরিমানার আশঙ্কায় বাড়ি ও কর্মস্থলের মালিক তাদের রাখতে ভয় পাচ্ছে বলে অভিবাসীরা দাবি করে।

সতর্ক অবস্থানে পুলিশ। ছবি : ডয়চে ভেলে।

তবে, এরইমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পালিয়ে গেছে অনেক অভিবাসী। এর মধ্যে কেউ কেউ নিজ থেকে চলে গেছে, আবার কেউ নিজ দেশের দূতাবাসের সাহায্য চাইছে। এ ছাড়া, আফ্রিকার অনেক দেশই তাদের নাগরিকদের নিরাপদে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে বাস বা উড়োজাহাজ পাঠাচ্ছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকায় এর আগেও বেশ কয়েকবার এ ধরনের অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ হয়। এর মধ্যে ২০০৮ সালের দাঙ্গায় ৬২ জন নিহত হয়। একইভাবে, ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে অভিবাসীদের ওপর স্থানীদের আক্রমণের ঘটনা ঘটে।

২০১৯ সালে দেশটির জোহানেসবার্গে বিদেশি মালিকাধীন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ১২ জন নিহত হয়।

সূত্র : আল-জাজিরা।