অন্যান্য

ভেনেজুয়েলায় পর পর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত

এ পর্যন্ত নিহত ১৬৪

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩:০১, ২৫ জুন ২০২৬;  আপডেট: ২৩:২৯, ২৫ জুন ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় পর পর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত

ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবন থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধারে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। ছবি : ডয়চে ভেলে।

ভেনেজুয়েলায় গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় পর পর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে পুরো দেশজড়ে এ পর্যন্ত ১৬৪ জন নিহত ও আরও প্রায় ৯৭১ জন আহতের খবর নিশ্চিত করেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। 

ভেনেজুয়েলায় ১৯০০ সালের পর সংঘটিত সবচেয়ে শক্তিশালী এ ভূমিকম্প দুটির প্রথমটির মাত্রা ছিলো রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পরই ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প দেশটিতে আঘাত হানে।

শক্তিশালী এ ভূমিকম্প দুটির উৎপত্তিস্থল ছিলো রাজধানী কারাকাসের ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে, সান ফেলিপ শহরের কাছে। তবে, এর পর সংঘটিত আফটার শকগুলোর কেন্দ্রস্থল ছিলো দেশটির বড় বড় শহরগুলোর খুব কাছে।

এ অবস্থায় ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস)। একইসঙ্গে, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানায় সংস্থাটি। শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের কারণে পুরো দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

কারণ, কারাকাসসহ আরও অনেক জায়গায় বহু ভবন ধসে পড়েছে। বিধ্বস্থ এসব ভবনে এখনও অনেকে আটকে রয়েছে। ভেনেজুয়েলার লা গুয়েইরা রাজ্যে একশরও বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের কারণে পুরো দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইউএসজিএস জানায়। ছবি : সিএনএন।

উদ্ধারকর্মীরা এসব ভবন থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধারে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জাতিসংঘের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

এ অবস্থায় দেশে রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ। একইসঙ্গে, কারাকাসের সিমোন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এটি বন্ধ ঘোষণা করেন তিনি।

এদিকে, কারাকাসে ভূমিকম্প থেকে বেঁচে যাওয়া এক ব্যক্তি ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘মনে হচ্ছিলো দীর্ঘ সময় ধরে পৃথিবীটা কাঁপছে। আর, দুটি ভূমিকম্পকে মনে হচ্ছিলো বহু সময় ধরে চলা বড় একটি ভূমিকম্প।’

১৯৬৭ সালে ভেনেজুয়েলায় এমনই ভয়াবহ একটি ভূমিকম্প হয়েছিলো। সেই দুর্যোগ থেকে বেঁচে ফেরা এক বাসিন্দা বলেন যে, এমন ঘটনা তিনি আগে কখনো দেখেননি।

ভূমিকম্পে বিধ্বস্থ একটি ভবন থেকে বের হতে সক্ষম হওয়া অপর এক বাসিন্দা বলেন, ‘পুরো পরিবেশটি ছিলো ভয়াবহ ভৌতিক সিনেমার মতো।’

মূল ভূমিকম্পের পর সংঘটিত আফটার শকগুলোর কেন্দ্রস্থল ছিলো দেশটির বড় বড় শহরগুলোর খুব কাছে। ছবি : আল-জাজিরা।

এ পরিস্থিতিতে এরইমধ্যে ভেনেজুয়েলায় উদ্ধারকর্মীর দল পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একইসঙ্গে, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশটির প্রধান বিমানবন্দরেও সাহায্য পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মযাজক পোপ চতুর্দশ লিও জরুরি সহায়তার অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলায় ১ লাখ ইউরো (১ লাখ ১৩ হাজার ৭৮১ ডলার) পাঠিয়েছেন বলে ভেটিক্যান সিটি থেকে জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও উদ্ধার কাজে সহযোগিতার জন্য জরুরি উদ্ধারকারী দল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া, মেক্সিকোসহ লাতিন আমেরিকার দেশগুলো এরইমধ্যে সাহায্য পাঠানো শুরু করেছে। একইসঙ্গে, সাহায্য পাঠাচ্ছে জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

চীনও সাহায্য পাঠানোর কথা জানিয়েছে। ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে সমবেদনা প্রকাশ করেছেন ভারত ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

আহতদের সেবা দিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাঠাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশ। ছবি : ডয়চে ভেলে।

এদিকে, বর্তমানে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন স্কুল ভবনগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, এমন এক সময় ভয়াবহ এ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হলো যখন এরইমধ্যে ভেনেজুয়েলা চরম আর্থিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

এ অবস্থায় বিপর্যয়কর এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের কাছে ২০০ মিলিয়ন ডলার সাহায্য চাওয়া হয়েছে বলে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানিয়েছেন।

সূত্র : বিবিসি, সিএনএন, ডয়চে ভেলে, আল-জাজিরা।