অন্যান্য

ফিলিপাইনের দক্ষিণে শক্তিশালী ভ‍ূমিকম্পের আঘাত

নিহত কমপক্ষে ৩২

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩:০৮, ৮ জুন ২০২৬;  আপডেট: ২৩:২০, ৮ জুন ২০২৬

ফিলিপাইনের দক্ষিণে শক্তিশালী ভ‍ূমিকম্পের আঘাত

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একটি স্কুল ভবন। ছবি : সিএনএন।

ফিলিপাইনের দক্ষিণের মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলীয় এলাকায় আজ সোমবার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এ ভূমিকম্পে ওই এলাকায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। 

ফিলিপাইন স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি ফিলিপাইনের ২৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমের শহর বুরিয়াসে প্রথম আঘাত হানে।

এর গভীরতা ৩৫ কিলোমিটার ছিলো বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সূত্রে জানা যায়। এ সময় ভূমিকম্পটি আশঙ্কাজনক বলে উল্লেখ করে সংস্থাটি। 

এদিকে, মূল ভূমিকম্পের পরে আরও ১৩৮টি আফটার শক অনুভূত হয়। এগুলো ১ দশমিক ৩ থেকে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ছিলো বলে জানা যায়। ভূমিকম্পের কেন্দ্রে আরও আফটার শকের আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে ফিলিপাইনের ভূকম্পনসংক্রান্ত বিভাগ।

ভূমিকম্পের পর পরই  ফিলিপাইনসহ ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। এ সময় উপকূলবর্তী বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। 

জেনারেল সান্তোস শহরের ক্ষতিগ্রস্ত একটি ফাস্টফুড রেস্টুরেন্টের অবস্থা পরিদর্শন করছে পুলিশ। ছবি : সিএনএন।

তবে, পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরবর্তীতে সুনামি সতর্কবার্তা বাতিল করে উভয় দেশ। কিন্তু, শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রের ঢেউ ৩ ফুট উচ্চতায় উঠে। এতে, ওই এলাকার একটি গ্রামে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

এ পরিস্থিতিতে দ্রুততার সঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মিন্দানাওয়ের পরিস্থিতি সামলাতে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’

এদিকে, শক্তিশালী এ ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ৩২ জন নিহত ও ২০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।  এছাড়া, অনেকে নিখোঁজ রয়েছে। এ অবস্থায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে

ভূমিকম্পে মূলত মিন্দানাওয়ের সর্বদক্ষিণের সারানগানি প্রদেশের বন্দর নগরী জেনারেল সান্তোস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৭ লাখের বেশি বাসিন্দার এ নগরীর অনেক ঘরবাড়ি ও ভবন ভূমিকম্পের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ বিষয়ে জেনালে সান্তোসের পুলিশ কর্মকর্তা মাস্টার সার্জেন্ট রবার্ট ডেগোন বলেন, ‘অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ভবন ও ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পড়েছে। কিন্তু, আমরা সেগুলোর সংখ্যা এখনও হিসেব করতে পারিনি। কারণ, আমরা উদ্ধারকাজে ব্যস্ত ছিলাম।’

সারানগানি প্রদেশে এ পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এর অধিকাংশ ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, জেনারেল সান্তোসে এ পর্যন্ত ১০ জন নিহত ও আরও ২২ জন নিখোঁজ রয়েছে।

ভেঙ্গে পড়া একটি ভবনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে রেড ক্রসের কর্মীরা। ছবি : সিএনএন।

এদিকে, মিন্দানাওয়ের ধাবাও ওক্সিডেন্টাল নামের প্রদেশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ভূমিকম্পের সময় শ্রেণিকক্ষ থেকে মাঠে বেরিয়ে এসে মাথানিচু করে বসে পড়ে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এ দৃশ্য দেখা যায়।

এ সময় মাটি প্রচণ্ডভাবে দুলতে থাকায় শিক্ষকরা আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে চেষ্টা করেন। এক সময় শক্তিশালী ভূমিকম্পে স্কুল ভবনের ছাদ ধসে পড়তেও দেখা যায়। তবে, এতে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ফিলিপাইন প্রশান্ত মহাসাগরের বহুল আলোচিত ‘রিং অব ফায়ার’ এর একদম কিনারে অবস্থিত। এটি এমন একটি ভূকম্পনজনিত ফাটলের বক্ররেখা যার কারণে ফিলিপাইনে বরাবরই আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত, ভূমিকম্প ও সুনামির মতো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সূত্র : ডয়চে ভেলে, সিএনএন, বিবিসি।