বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ২০ দেশের তালিকা প্রকাশ
ফটো গ্যালারি
প্রকাশিত: ১৩:৫৯, ২০ জুন ২০২৬; আপডেট: ১৪:২৫, ২০ জুন ২০২৬
বিশ্বের বহু দেশের জনগণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বহুল কাঙ্খিত একটি দেশ হলেও বৈশ্বিক শান্তি বা নিরাপত্তার বিচারে এর অবস্থান বিশ্বে বর্তমানে ১৩তম।
নিরাপত্তা যদিও আপেক্ষিক একটি বিষয়, তারপরও বিষয়টি পুরোপুরি অনুমানের উপরও ছেড়ে দেওয়া যায় না। কারণ, সব সময়ই কোনো দেশের নিরাপত্তা পরিমাপের সাধারণ কিছু মানদণ্ড অবশ্যই থাকে, যার মধ্য দিয়ে সেই দেশটির সার্বিক পরিস্থিতির একটি চিত্র খুব সহজে বোঝা যায়।
এ ক্ষেত্রে, বিশ্বের বহু দেশের জনগণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বহুল কাঙ্খিত একটি দেশ হলেও বৈশ্বিক শান্তি বা নিরাপত্তার বিচারে এর অবস্থান বিশ্বে বর্তমানে ১৩তম। এটি এমনকি ভেনেজুয়েলা, লেবানন এবং ভারতের থেকেও পিছিয়ে আছে। ২০২৬ সালের গ্লোবাল পিস ইনডেক্স (জিপিআই) সম্প্রতি এ তালিকা করেছে।
গ্লোবাল পিস ইনডেক্স, ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে চলতি জুন মাসে। এতে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ ২০টি দেশের তালিকা করা হয়েছে। তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে এখানে প্রধান তিনটি নিয়ামক বিবেচনা করা হয়েছে। এগুলো হলো - দেশটিতে চলমান কোনো সহিংসতা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সেনাশাসন।
চলমান সহিংসতার ক্ষেত্রে দেশটির ভেতরে নিজস্ব বা বাইরের কোনো দেশের সঙ্গে সহিংসতা এবং কতো সময় ধরে তা চলমান ও এর কারণ - এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে - হত্যার হার, রাজনৈতিক সংঘাত, সহিংস আন্দোলন এবং দেশে বিরাজমান অপরাধের মাত্রার মতো বিষয়গুলো।
সর্বশেষ, দেশে সেনাবাহিনীর সক্ষমতার ক্ষেত্রে মোট জিডিপির কতো শতাংশ এ খাতে ব্যয় করা হয়, অস্ত্রের ব্যবহার এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়াদি গুরুত্ব পেয়েছে।
২০২৬ সালের গ্লোবাল পিস ইনডেক্স অনুযায়ী এখানে বিশ্বের ২০টি নিরাপদ বা শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকা দেওয়া হলো :
২০. অস্ট্রেলিয়া :

দেশটিতে বিরাজমান আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এর অবস্থান : টি৩৪;
সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে : ২৩ এবং
সেনা অবস্থানের ক্ষেত্রে : ৪৮।
এ ছাড়া, সম্প্রতি ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের প্রকাশিত সবচেয়ে উন্নত দেশের তালিকাতেও অস্ট্রেলিয়া ১৪তম অবস্থানে রয়েছে। মূলত, দেশটির উন্নত স্বাস্থ্য খাত, প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং কাজের সুযোগের উন্নত হারও এর মূল কারণ।
১৯. লাটভিয়া :

দেশটিতে বিরাজমান আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এর অবস্থান : ৪৬;
সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে : ১৮ এবং
সেনা অবস্থানের ক্ষেত্রে : ৫১।
এর মধ্য দিয়ে লাটভিয়া পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ দেশের ক্ষেত্রে ১২তম অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে।
১৮. মরিশাস :

দেশটিতে বিরাজমান আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এর অবস্থান : টি১;
সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে : ৬০ এবং
সেনা অবস্থানের ক্ষেত্রে : ৯।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, আফ্রিকার সাব-সাহারাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে মরিশাস সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ একটি দেশ। এ ক্ষেত্রে গতবারের তুলনায় এবার দেশটি তালিকায় একবারে ১১ ধাপ এগিয়ে গেছে। একইসঙ্গে, তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে বিবেচ্য তিনটি নিয়ামকের ক্ষেত্রেই অনেক উন্নতি করেছে। তালিকায় দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখতে দেশটির শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
১৭. নেদারল্যান্ডস :

দেশটিতে বিরাজমান আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এর অবস্থান : ১৬;
সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে : ১২ এবং
সেনা অবস্থানের ক্ষেত্রে : ১৩৭।
তালিকায় সার্বিকভাবে ১৭তম অবস্থানে থাকলেও ২০টি দেশের তিনটি নিয়ামকের ক্ষেত্রে সেনা অবস্থান সূচক ১৩৭ থাকা নেদারল্যান্ডেসের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন অবস্থান। মূলত, বিশ্বের দেশগুলোর সেনাবাহিনীর জন্য বরাদ্দ বাজেটের হিসেবেই নেদারল্যান্ডসের অবস্থান বর্তমানে ১৭তম। কারণ, ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের তথ্যমতে, দেশটির সেনাবাহিনীর জন্য বরাদ্দ বাজেটের পরিমাণ ২৯ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার।
১৬. ভুটান :

দেশটিতে বিরাজমান আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এর অবস্থান : ২৯;
সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে : ৩৮ এবং
সেনা অবস্থানের ক্ষেত্রে : ৪।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুটান বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ। তারপরও, বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে এ দেশেই শ্রমিকের গড় কর্মঘণ্টা সবচেয়ে বেশি। ২০২৪ সালে ভুটানের জনগণ প্রতি সপ্তাহে গড়ে মোট ৫৪ দশমিক ৪ ঘণ্টা কাজ করে।
১৫. হাঙ্গেরি :

দেশটিতে বিরাজমান আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এর অবস্থান : টি২৩;
সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে : ৩১ এবং
সেনা অবস্থানের ক্ষেত্রে : ১৩।
২০ বছর টানা ক্ষমতায় থাকার পর চলতি বছরের এপ্রিলে নির্বাচনে পরাজিত হন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিকতর অর্বান। সম্প্রতি দেশটির সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ৮ বছর পর্যন্ত সীমিত করা হয়। পলিটিকোর এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালে রাশিয়ার সঙ্গে সখ্যতা, চরম ডানপন্থী অবস্থান এবং এলজিবিটিকিউপ্লাস সমাজের বিরোধীতার জন্য তিনি ব্যাপক বিতর্কের মুখোমুখি হন।
১৪. কানাডা :

দেশটিতে বিরাজমান আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এর অবস্থান : টি৩৪;
সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে : টি১৬ এবং
সেনা অবস্থানের ক্ষেত্রে : ২৬।
উত্তর ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে কানাডা সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ, কিন্তু, ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশটির নিরাপত্তা সূচক ৭ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
১৩. চেক প্রজাতন্ত্র :

দেশটিতে বিরাজমান আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এর অবস্থান : ২২;
সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে : ২২ এবং
সেনা অবস্থানের ক্ষেত্রে : ১৯।
এ ছাড়াও বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত জনস্বাস্থ্য সূচকের ক্ষেত্রে এটি তৃতীয় স্থানে রয়েছে বলে ইউএস রিপোর্ট অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড নিউজ সূত্রে জানা যায়। প্রকৃত মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং নিস্ন আয় বৈষম্যই এর মূল কারণ।
১২. মালয়েশিয়া :

দেশটিতে বিরাজমান আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এর অবস্থান : ১০;
সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে : ৪৭ এবং
সেনা অবস্থানের ক্ষেত্রে : ২।
বিশ্ব ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে মালয়েশিয়া এর মোট জিডিপির মাত্র ১ শতাংশ সামরিক খাতে ব্যয় করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এ হার মোট জিডিপির ৩ শতাংশেরও বেশি।
১১. ডেনমার্ক :

দেশটিতে বিরাজমান আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এর অবস্থান : ২০;
সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে : ৫ এবং
সেনা অবস্থানের ক্ষেত্রে : ১২০।
জনগণের সর্বোচ্চ উন্নত জীবনমানের কারণে এর আগে বিশ্বের সবচেয়ে সেরা দেশের স্বীকৃতি পায় ডেনমার্ক। জীবনযাত্রার ব্যয়, শ্রম বাজার এবং জনস্বাস্থ্য সেবার উন্নত মানের কারণে সার্বিক জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়াই এ স্বীকৃতি পাওয়ার মূল কারণ।
১০. জাপান :

দেশটিতে বিরাজমান আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এর অবস্থান : টি৩৮;
সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে : ৪ এবং
সেনা অবস্থানের ক্ষেত্রে : ৭৫।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গড় আয়ুর দেশের তালিকায় প্রায়ই প্রথম সারিতে স্থান পায় দেশটি।
৯. ফিনল্যান্ড :

দেশটিতে বিরাজমান আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এর অবস্থান : টি৪৭;
সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে : ২ এবং
সেনা অবস্থানের ক্ষেত্রে : ৫৩।
জিপিআই এর সামাজিক নিরাপত্তা সূচকের মানদণ্ডে ফিনল্যান্ড বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শান্তিপূর্ণ দেশ। এ ছাড়া, সার্বিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় এর অবস্থান দশম। একইসঙ্গে, বিভিন্ন জরিপে ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের তালিকায় প্রথম স্থানে অবস্থান করছে ফিনল্যান্ড। ফলে, উন্নত জীবনমানের সন্ধানকারীদের জন্য ফিনল্যান্ড প্রথম পছন্দের জায়গা।
৮. সিঙ্গাপুর :

দেশটিতে বিরাজমান আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এর অবস্থান : ৫;
সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে : ৬ এবং
সেনা অবস্থানের ক্ষেত্রে : ১২৬।
জিপিআইয়ের তালিকা অনুযায়ী এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শান্তিপূর্ণ দেশ। দেশটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য খুব আকর্ষণীয় একটি দেশ। বিশেষত, যারা সিলিকন ভ্যালির মতো অর্থনৈতিক জোনে বিনিয়োগে আগ্রহী। তবে, সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা এবং আভ্যন্তরীণ সংঘাতের সূচক হিসেবে দেশটি জিপিআইয়ের তালিকার শীর্ষ দশে থাকলেও সেনাবাহিনীতে খরচের সূচকে এর অবস্থানে তালিকার প্রায় শেষের দিকে।
৭. পর্তুগাল :

দেশটিতে বিরাজমান আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এর অবস্থান : ১৩;
সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে : ২৫ এবং
সেনা অবস্থানের ক্ষেত্রে : ৩।
যেসব মার্কিনীর অন্য দেশে গিয়ে বসবাসের আগ্রহ আছে, তাদের কাছে পর্তুগাল দিন দিনই আকর্ষণীয় দেশে পরিণত হচ্ছে। ২০২৪ সালে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজারের মতো মার্কিন নাগরিক পর্তুগালে অভিবাসন নিতে ইচ্ছুক। মার্কিন নাগরিকদের অভিবাস নিয়ে কাজ করা ওয়েবসাইট এক্সপাটসি এ জরিপ চালায়। বর্তমানে, সামরিক বাহিনী সূচকে জিপিআইয়ের তালিকায় সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় তিন নম্বরে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছে দেশটি।
৬. অস্ট্রিয়া :

দেশটিতে বিরাজমান আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এর অবস্থান : ১১;
সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে : ২১ এবং
সেনা অবস্থানের ক্ষেত্রে : ৭।
জিপিআইয়ের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা। এ ছাড়াও ২০২২ এবং ২০২৩ সালে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের জরিপে সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের যোগ্যতা অর্জন করে শহরটি। ভিয়েনায় যারা বসবাস করে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় সাশ্রয়ী, তারা উন্নত মানের যাতায়াত ব্যবস্থা উপভোগ করে এবং শহরটির পরিচ্ছন্নতা উল্লেখ করার মতো।
৫. আয়ারল্যান্ড :

দেশটিতে বিরাজমান আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এর অবস্থান : ৯;
সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে : ১৫ এবং
সেনা অবস্থানের ক্ষেত্রে : ৮।
সেনা সূচকে আয়ারল্যান্ড শীর্ষ দশ দেশের মধ্যে একটি আর সার্বিকভাবে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশের হিসেবে তালিকার ৫ নম্বরে অবস্থান করছে। অনিন্দ্য সুন্দর প্রকৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক আবহের কারণে মার্কিনীদের কাছে আয়ারল্যান্ডও শীর্ষ পছন্দের একটি দেশ।
৪ . স্লোভেনিয়া :

দেশটিতে বিরাজমান আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এর অবস্থান : ১৯;
সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে : ৯ এবং
সেনা অবস্থানের ক্ষেত্রে : ৬।
জিপিআইয়ের সামরিক সূচক অনুযায়ী স্লোভেনিয়া শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় ৬ষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে ইউরোপের এ দেশটি পর্যটকদের কাছে একটি মূল্যবান রত্ন হিসেবে বিবেচিত।
৩. সুইজারল্যান্ড :

দেশটিতে বিরাজমান আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এর অবস্থান : ৬;
সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে : ৮ এবং
সেনা অবস্থানের ক্ষেত্রে : ২৫।
সুইজারল্যান্ডলের রাজধানী জেনেভা ‘শান্তির রাজধানী’ নামেই পরিচিত। তাই জিপিআইয়ের সামজিক শান্তি ও নিরাপত্তা সূচক অনুযায়ী এর অবস্থান শীর্ষ দশ দেশের মধ্যে থাকাটাই স্বাভাাবিক। দেশটির উন্নত জীবনমানের কারণে বরাবরই অভিবাসন প্রত্যাশীদের কাছে সুইজারল্যান্ড একটি আকর্ষণীয় নাম।
২. নিউজিল্যান্ড :

দেশটিতে বিরাজমান আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এর অবস্থান : ৪;
সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে : ১৪ এবং
সেনা অবস্থানের ক্ষেত্রে : ১১।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় নিউজিল্যান্ডের অবস্থান শীর্ষে। একইসঙ্গে, জিপিআইয়ের আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের সূচক হিসেবে এটি তালিকার শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে নিজের জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের শহরগুলোতে পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে বসবাস করার মতো উপর্যুক্ত পরিবেশ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঘুরে বেড়ানোসহ আরও নানামুখী আনন্দদায়ক কর্মকান্ডের জন্য এটি সবার কাছেই বসবাসের জন্য খুব প্রিয় একটি দেশ।
১. আইসল্যান্ড :

দেশটিতে বিরাজমান আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে এর অবস্থান : ১;
সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে : ৩ এবং
সেনা অবস্থানের ক্ষেত্রে : ১।
টানা ১৯ বছর আইসল্যান্ড বিশ্বের সবেচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। জিপিআইয়ের তালিকা অনুযায়ী আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘর্ষ এবং সেনাবাহিনীর খরচ সংক্রান্ত সূচকে এর অবস্থান শীর্ষে। কিন্তু, এটি বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধিক ব্যয়বহুল দেশও। তবে, উচ্চমাত্রার সামাজিক নিরাপত্তা ও অসামান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে বসবাসের জন্য আইসল্যান্ড মার্কিনীদের প্রথম পছন্দ হিসেবেই থাকে।
সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার আফ্রিকা।



