প্রচণ্ড দাবদাহে ইউরোপজুড়ে আরও ১৩০০ জনের মৃত্যু : ডব্লিইউএইচও
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২২:০৮, ২৮ জুন ২০২৬; আপডেট: ২৩:৪৪, ২৮ জুন ২০২৬
ফ্রান্সে বেশ কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দাবদাহ ছড়িয়ে পড়ার পর আরও ১ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২১ জুন রেকর্ড সৃষ্টিকারী এ দাবদাহ শুরুর পর এ পর্যন্ত মৃত্যুর এসব ঘটনা ঘটে। আজ রবিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিইউএউচও) এ তথ্য জানিয়েছে।
এ বিষয়ে ডব্লিইউএউচও প্রধান তেদরোস অ্যাডহানোম গিব্রিয়াসিস বলেন, ‘বর্তমানে ১৫ কোটি মানুষ প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে রয়েছে। এরই মধ্যে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, স্কুলগুলো সব বন্ধ হয়েছে, বিদ্যুতের লাইনগুলো একে একে নষ্ট হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২১ জুন ইউরোপজুড়ে শুরু হওয়া প্রচণ্ড দাবদাহে এ পর্যন্ত আরও ১ হাজার ৩০০ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।’
এ অবস্থায় দাবদাহের কারণে সৃষ্ট জনস্বাস্থ্য বিষয়ক ঝুঁকি মোকাবেলায় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এর সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বলে গিব্রিয়াসিস জানান। এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে - পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা।
একইসঙ্গে, ভয়াবহ এ তাপমাত্রা থেকে সুরক্ষা পেতে দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া ও তা বাস্তবায়নেও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ডব্লিইউএউচও প্রধান বলেন, ‘এ ধরনের উচ্চ তাপমাত্রাকে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। ইউরোপের দেশগুলোর বাড়িঘর, কর্মস্থল এবং স্কুল ভবন এ ধরনের তাপ সহ্য করার মতো করে তৈরি করা হয়নি।’
দাবদাহ পরিস্থিতি বর্তমানে ইউরোপের পশ্চিমাংশ থেকে এর মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে বলে ফ্রান্সের বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়। এ অবস্থায় আজ এ অঞ্চলের প্রায় ১৯ কোটি ১০ লাখ বাসিন্দা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্য দিয়ে যাবে বলে জানানো হয়।
বর্তমানে জার্মানি, চেক রিপাবলিক, হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ডের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ থাকবে বলে আবহাওয়ার এক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া, তুরস্ক বাদে ইউরোপের বাকি অংশের মোট ৩৮ কোটি ১০ লাখ বাসিন্দা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপর তাপমাত্রার মধ্য দিয়ে যাবে। জার্মানির আবহাওয়া অধিদফতরের বরাতে এএফপি এসব তথ্য জানায়।
এ দিকে, গত ২৪ জুন থেকে এ পর্যন্ত প্রচণ্ড দাবদাহে ফ্রান্সে আরও ১ হাজার জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আজ জানিয়েছে। তবে, এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এ মাসেই তাপমাত্রা অনেক রেকর্ড ভেঙ্গেছে। এমনকি, সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডও ছাড়িয়েছে গেছে। এর মধ্যে গত ২৩ জুন সারাদেশে রেকর্ড পরিমাণ তাপমাত্রা ছিলো যা ২০০৩ সালের তাপমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।’
এ অবস্থায় গত ২৪ জুন দেশটিতে প্রচণ্ড দাবদাহে রেকর্ড ১ হাজার ২০০ এর বেশি এবং ২৫ ও ২৬ জুন আরও প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনের মৃত্যু হয়। এভাবে, গত এপ্রিল, মে মাস থেকে প্রচণ্ড গরমে প্রায় প্রতিদিনই ৯০০ থেকে ১ হাজার জনের মৃত্যু হচ্ছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

সব বয়সী নাগরিকই ভয়াবহ এ তাপপ্রবাহে কষ্ট পাচ্ছে। তবে, ৮৫ শতাংশ মৃত্যুর ঘটনাই ৬৫ বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ঘটছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়।
এ অবস্থায় বাসাবাড়িসহ হাসপাতাল, নার্সিং হোম - সব জায়গাতেই মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে জানানো হয়। তবে, বাসাবাড়িতে মৃত্যুর সংখ্যা ৪০ শতাংশ বেড়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে, ফ্রান্সের যেসব অংশে তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি, সেখানেই মৃত্যুর সংখ্যা বেশি বলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়।
এদিকে, জার্মানিতে আজ টানা তৃতীয় দিনের মতো সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। মূলত, দেশটির পূর্বাংশে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা যায়। এ অংশে আজ এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার এটি ছিলো ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন অর্থাৎ গত শুক্রবার প্রথম দেশটিতে তাপমাত্রা রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। সে সময় তাপমাত্রা উঠে ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
উল্লেখ্য, ইউরোপের বর্তমান অস্বাভাবিক এ তাপমাত্রা মনুষ্যসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে হচ্ছে বলে সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র : ডয়চে ভেলে।



