অর্থ ও বাণিজ্য

৯০টিরও বেশি দেশের জন্য ‘ভিসা-মুক্ত’ সুবিধা বাতিল করছে থাইল্যান্ড

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২:১৯, ২০ মে ২০২৬;  আপডেট: ২২:৩০, ২০ মে ২০২৬

৯০টিরও বেশি দেশের জন্য ‘ভিসা-মুক্ত’ সুবিধা বাতিল করছে থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ড বরাবরই বিশ্বের নানা দেশের পর্যটকের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ছবি : বিবিসি।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ড পর্যটকদের জন্য ‘ভিসা-মুক্ত’ সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বের ৯৩টি দেশের জন্য ৬০ দিনের এ ভিসা-মুক্ত প্রবেশ  ও অবস্থানের সুবিধা বাতিল করা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে বর্তমানে শুধু অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও কিছু দেশ ৩০ দিনের ভিসা-মুক্ত সুবিধা পাবে। এ ছাড়া, অন্যান্য দেশের পর্যটকদের ভিসাসহ দেশটি ভ্রমণ করতে হবে বলে জানানো হয়।

মূলত জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়। কারণ, অনেক দেশের পর্যটকই এ সুবিধা নিয়ে দেশটিতে অবৈধ উপার্জন বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে থাইল্যান্ডে পর্যটকদের মন্দির ভাঙ্গচুর, মাতাল হয়ে বারগুলোতে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ার মতো ঘটনা ব্যাপকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। 

একইসঙ্গে, মাদক ও মানব পাচারের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে অনেক পর্যটককে গ্রেফতার করতেও বাধ্য হয় থাই পুলিশ।

এ ছাড়া, সম্প্রতি থাইল্যান্ডে ইসরায়েলি দূতাবাস থেকেও এর নাগরিকদের স্থানীয় আইন-কানুন মেনে চলার নির্দেশ দিতে দেখা যায়। চলতি মাসের প্রথম দিকে ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ নির্দেশ দেয় দূতাবাস।

এ সময় ওই ইসরায়েলি পর্যটকরা থাইল্যান্ডের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র পুকেটে অবসরযাপন করছিলো।

এদিকে, বর্তমানে থাইল্যান্ডে রাশিয়ার পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। গত বছর দেশটিতে পর্যটক ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভারত, চীন ও মালয়েশিয়ার পরেই ছিলো রাশিয়ার অবস্থান। 

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পরও দেশটির পর্যকটকদের জন্য সীমান্ত খোলা রাখাই এর মূল কারণ। কেননা, ২০২২ সালে মস্কো ইউক্রেনে হামলার পর ইউরোপের বেশ কিছু দেশ রাশিয়ার পর্যটকদের ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করে।

কিন্তু, বর্তমানে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থান বিষয়ে ক্রমাগতভাবে রাশিয়ার পর্যটকদের সতর্ক করতে হচ্ছে থাই পুলিশকে।

এর আগে ২০২২ সালেও আরেকবার দেশটির অপরাধ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিলো থাইল্যান্ড। সে সময় দেশটির অপরাধীদের মধ্যে গাজার অপব্যবহার কমাতে এশিয়ার মধ্যে প্রথম দেশ হিসেবে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কিন্ত, সে সময় বিনোদনের অংশ হিসেবে এর ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় আইন-কানুন প্রয়োগ করা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, পরিস্থিতি সামাল দিতে মেডিক্যাল সংক্রান্ত ব্যবহার ছাড়া গাজার আর অন্য যেকোনো ধরনের ব্যবহারকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি। 

উল্লেখ্য, অপূর্ব সব দ্বীপ, শুভ্র বালুময় সৈকত ও অপরুপ পাহাড়ি সৌন্দর্যের কারণে থাইল্যান্ড বরাবরই বিশ্বের নানা দেশের পর্যটকের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এসব কারণে শুধু ২০২৫ সালেই নানা দেশ থেকে ৩ কোটি ৩০ লাখের মতো পর্যটক থাইল্যান্ড ভ্রমণে আসে।

কিন্তু, করোনা মহামারির সময় পর্যটকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সে সময় দেশটির প্রধান প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী এ খাতে ভয়ঙ্কর ধস নামে। এ অবস্থায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পর্যটন আকর্ষণে ভিসা-মুক্ত এ সুবিধা চালু করে থাইল্যান্ড। 

সূত্র : সিএনএন।