অন্যান্য

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব

আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা ডব্লিউএইচও’র

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩:৪৬, ১৭ মে ২০২৬;  আপডেট: ১০:৪১, ২৪ মে ২০২৬

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব

ডিআর কঙ্গোতে এবার ১৭তম বারের মতো মারাত্মক এ রোগটির প্রাদুর্ভাব দেখা দিলো।

মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) আশঙ্কাজনকহারে ছড়িয়ে পড়েছে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ। এ অবস্থায় জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে বর্তমান পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। দেশটিতে এবার ১৭তম বারের মতো মারাত্মক এ রোগটির প্রাদুর্ভাব দেখা দিলো।

ডিআর কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে প্রথম দেখা দেওয়া এ ভাইরাসে এ পর্যন্ত প্রায় ২৪৬ জন আক্রান্ত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিবেচনায়, এটি এখনও মহামারি পর্যায়ে পৌঁছেনি বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

কিন্তু, এখনও আক্রান্ত ব্যক্তির প্রকৃত সংখ্যা এবং ভৌগলিকভাবে তা কতোটুকু ছড়িয়েছে, এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সতর্ক করেছেন সংস্থাটির পরিচালক ডাক্তার টেডরোস অ্যাডহ্যানোম জিব্রিইয়েসাস।

এছাড়া, ডিআর কঙ্গোতে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মানবিক সংকটের মধ্যে জনসংখ্যার অত্যাধিক চাপ, শহুরে এলাকায় প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া এবং অঞ্চলটিতে বিপুল পরিমাণ অকার্যকর স্বাস্থ্যসেবার মতো পরিস্থিতিগুলো এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।

একইসঙ্গে, দেশটির সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে প্রতিনিয়ত মানুষের যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে ওইসব দেশগুলোতেও ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমান্তে জরুরি সেবা কার্যক্রম কেন্দ্র স্থাপন করে ভাইরাসের লক্ষণ পর্যবেক্ষণ, চলাচলের উপর নজরদারি ও   সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ডিআর কঙ্গো এবং উগান্ডাকে পরামর্শ দিয়েছে ডব্লিউএইচও।

এ ছাড়া, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে আলাদা করে ফেলা এবং টেস্টে ভাইরাস নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত সেবা কার্যক্রম চলমান রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়। 

ডিআর কঙ্গো ছাড়াও প্বার্শবর্তী দেশ উগান্ডায় এ ভাইরাসে দুইজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ডব্লিউএইচও।

একইসঙ্গে, অন্যান্য দেশগুলোকে আতঙ্কিত হয়ে সীমান্ত ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ না করারও অনুরোধ করে সংস্থাটি। বরং, এ অবস্থায় সতর্ক অবস্থানে থেকে সব কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তবে, স্থানীয় ও আঞ্চলিকভাবে সংক্রমণটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় এটি বর্তমানের তুলনায় আরও বড় আকারের প্রাদুর্ভাব হিসেবে দেখা দিতে পারে বলে ডব্লিউএইচও থেকে সতর্ক করা হয়।

ইবোলা কি এবং এটি কিভাবে ছড়ায়?

ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কারণ কি? - এটি মূলত একটি ভাইরাসের কারণে হয়। এটি বিরল হলেও তা খুবই মারাত্মক এবং কখনো কখনো তা মৃত্যুর কারণ হিসেবে দেখা দেয়। বর্তমানে ইবোলার তিনটি ধরন শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলো সহজে সংক্রমিত হয়। বর্তমানের ধরনটিকে বলা হচ্ছে বান্ডিবুগয়ো। 

এতে মানুষ কিভাবে সংক্রমিত হয়? - সংক্রমিত কোনো ব্যক্তির রক্ত এবং বমির মাধ্যমে এ রোগের ভাইরাসটি আরেকজন ব্যক্তির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

এটি কতোটা মারাত্মক? - এর আগে বান্ডিবুগয়ো ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ৩০ শতাংশের মৃত্যু হয়।

কয়দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়? - সংক্রমিত হওয়ার দুই থেকে ২১ দিনের মধ্যে সংক্রমিত ব্যক্তির মধ্যে ইবোলা ভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ পায়।

এর লক্ষণগুলো কি কি? - প্রাথমিক লক্ষণগুলো হঠাৎ করেই দেখা দেয় এবং এ সময় জ্বর, মাথাব্যথা এবং ক্লান্তির মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়। পরবর্তীতে, রোগীর ডায়রিয়া ও বমি হতে থাকে এবং এক সময় শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। মারাত্মক অবস্থায় অনেক রোগীর শরীরের ভেতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে। 

ইবোলা ভাইরাসের উৎস কি? - সংক্রমিত বাদুড় থেকে ইবোলা মানুষের মধ্যে সংক্রিমত হয়। সংক্রমিত বাদুড়ের খাওয়া কোনো ফল থেকেই প্রথম তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

এর কি কোনো টিকা রয়েছে? – বর্তমানে ইবোলার জাইরি নামের ধরনটির টিকা রয়েছে। তবে, বান্ডিবুগয়ো ধরনের কোনো টিকা এখনও পর্যন্ত নেই।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে বর্তমান ডিআর কঙ্গোতে প্রথম ইবোলা শনাক্ত হয়। সে সময় তা বাদুড় থেকে ছড়িয়েছিলো বলে ধারণা করা হয়। গত ৫০ বছরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এ রোগে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

এখনও পর্যন্ত এ রোগের নির্ভরযোগ্য কোনো প্রতিকার বা প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। ডব্লিউএইচও’র মতে, বর্তমানে এ রোগে মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ। 

২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ডিআর কঙ্গোতে এ রোগের প্রাদুর্ভাবে প্রায় ২ হাজার ৩০০ লোকের প্রাণহানি হয়। গত বছর দেশটির এক প্রত্যন্ত এলাকায়ও আবারও ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার পর ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছিলো।

সূত্র : বিবিসি।