শিল্প-সাহিত্য-বিনোদন

`ভারতের নাইটিংগেল` লতা মঙ্গেশকরের জীবনাবসান

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১:০৪, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২;  আপডেট: ২১:১৪, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২

`ভারতের নাইটিংগেল` লতা মঙ্গেশকরের জীবনাবসান

ভক্তদের হৃদয়ে চির-অমলিন থাকবেন লতা মঙ্গেশকর। ছবি : বিবিসি।

মধুময় কণ্ঠের জাদুতে গোটা বিশ্বের সঙ্গীতানুরাগীদের বিমোহিত করেছেন লতা মঙ্গেশকর। বিগত সাত দশকে ভারতের অসংখ্য চলচ্চিত্র জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল হয়েছে তাঁর গাওয়া গানের বদৌলতে। এই সুদীর্ঘ সময় ধরে কেবল ভারত নয়, গোটা উপমহাদেশের অনেকের ঘরে 'লতার গান' শোনা প্রতিদিনের নিয়মের মতোই যেন। ভারত নয়, বিশ্ববাসী আজ হারালো কিংবদন্তি এই গানের পাখিকে। আজ রবিবার সকাল ৮টা ১২ মিনিটে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে ৯২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন লতা মঙ্গেশকর; সবার শ্রদ্ধার 'লতা জি'

প্রায় এক মাস আগে তাঁর দেহে কোভিড১৯-এর ভাইরাস ধরা পড়ে। হাসপাতালে চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। পরে আবারও স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। তবে এ যাত্রায় চিকিৎসকরা আর বাঁচাতে পারলেন না ভারতবাসীর পরম ভালোবাসার 'লতা দিদি'কে।

ভক্তকুলের পরম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত লতা মঙ্গেশকরের শেষকৃত্যে বলিউডের তারকা, ভারতের রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। প্রয়াত এই শিল্পীর মৃত্যুতে ভারত সরকার দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে। কিংবদন্তী এই গাইয়েকে শ্রদ্ধা জানাতে এই দুদিন ভারতের জাতীয় পতাকা থাকবে অর্ধনমিত।

মাত্র নয় বছর বয়সে প্রথমবার জনসমক্ষে গান করেন লতা মঙ্গেশকর। বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব নিতে মাত্র ১৩ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে গান শুরু করেন। এরপর ৭০ বছর ধরে ৩৬টি ভাষায় প্রায় ৩০ হাজার গান গেয়েছেন তিনি। সর্বোচ্চ মর্যাদার রাষ্ট্রীয় পুরস্কার বা বিদেশের সম্মানজনক পুরস্কার-সম্মাননা তাঁর ঝুলিতে কম আসেনি। তবে, এমন হাজারো পুরস্কার দিয়েও লতা মঙ্গেশকরের শিল্পী পরিচয়কে ব্যাখ্যা করা যায় না। তিনি নিজেও শিল্পী ও ব্যক্তি হিসেবে গোটা বিশ্বের মানুষের কাছ থেকে যে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা পেয়েছেন, সবসময় সেটিকেই বড় করে দেখেছেন।

তাঁর মৃত্যুর খবর জানার পর সঙ্গীতশিল্পী, তারকা, রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষ - নিজেদের প্রতিক্রিয়ায় সবাই এটিই বলছেন, মৃত্যুর পরও লতা মঙ্গেশকর সবার হৃদয়ে আগের মতোই প্রাতঃস্মরণীয় থেকে যাবেন : ভক্তিতে, শ্রদ্ধায় আর ভালোবাসায়। সূত্র : বিবিসি, সিএনএন।