রাজনীতি

ইরান বিষয়ে মধ্যস্থতা করলে ওমানে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের

রাজনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:৫৫, ১৭ আগস্ট ২০২৬;  আপডেট: ২৩:০৫, ১৭ আগস্ট ২০২৬

ইরান বিষয়ে মধ্যস্থতা করলে ওমানে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত হলেও দেশটি ইরান বিষয়ে মধ্যস্থতা করতে গেলে এ পরিণতি হবে বলে সতর্ক করেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মূলত, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া বিষয়ে ওমানের সঙ্গে ইরানের আলোচনা চলছে বলে দেশটির তরফ থেকে আজ সোমবার জানানো হয়। এর পর পরই এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

আজ এক ফোনালাপের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন বলে ওই গণমাধ্যমের এক সংবাদকর্মী জানান। এ সময় ইরানের বিপ্লবি রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে বলেও ট্রাম্প মন্তব্য করেন বলে দাবি করেন ওই সংবাদকর্মী।

কিন্তু, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ হচ্ছে না বলে পরবর্তীতে পাল্টা দাবি করে আইআরজিসি। তবে, ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে আজ ইরানের তরফ থেকে জানানো হয়।

এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের আজ শেষ দিন। মূলত, যুদ্ধ নিয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে এ স্মারকে স্বাক্ষর করেছিলো দেশ দুটি।

তবে এখনই যুদ্ধ শেষ করার কোনো তাড়া নেই বলে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন বলেও জানা গেছে। তাঁর মতে, ইরান ভালো খেলোয়াড় হলেও তারা হারতে যাচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এর সামর্থের খুব কমই প্রয়োগ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান দ্বন্ধে তারা নিরপেক্ষ বলে বরাবরই দাবি করে আসছে ওমান। তা সত্ত্বেও এ যুদ্ধ শুরুর পর বেশ কয়েকবার ওমানে হামলা চালায় ইরান। তবে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি আবার চালুর বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে দেশটি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এর পর পরই অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে জ্বালানির দাম। কারণ, এ পথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজির এক পঞ্চমাংশই সরবরাহ করা হয়।

এ অবস্থায় এ প্রণালি আবার চালু করা বরাবরই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এ ক্ষেত্রে, প্রণালি খুলে দিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে আসছে ওয়াশিংটন। ফলে, ইরানের সঙ্গে ওমানের আলোচনার বিষয়ে বর্তমানে কঠিন অবস্থান নেয় দেশটি।

তবে, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিলেই হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হবে বলে চলতি মাসের প্রথম দিকে মন্তব্য করেছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস রাঘচি।

মূলত, যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষতির সমঝোতা স্মারকের শর্ত ভঙ্গ করার ইরানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই এ ক্ষতিপূরণ দাবি করে দেশটি।

এ ক্ষেত্রে, এ পথ দিয়ে চলাচল করা প্রতিটি মালবাহী জাহাজের জন্য ৫ থেকে ৭ শতাংশ হারে জরিমানা আদায় করা হবে বলে এর আগে ইরানি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিলো।

সূত্র : বিবিসি।