তিন ঘণ্টায় দুুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো উঃ কোরিয়া
রাজনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩:১৩, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬; আপডেট: ২৩:১৭, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চলতি মাসের শুরুতে উত্তর কোরিয়ার চালানো এ ধরনের একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দৃশ্য দক্ষিণ কোরিয়ার একটি টিভি চ্যানেলে সম্প্রচার করা হয়।
উত্তর কোরিয়া দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে আজ রবিবার দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে শক্তিশালী এ দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়। গত এক সপ্তাহের মধ্যে এটি দেশটির দ্বিতীয় দফা এ ধরনের কোনো পরীক্ষা।
এমন এক সময়ে উত্তর কোরিয়া এ পরীক্ষা চালালো, যার মাত্র একদিন আগেই কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে দেশটি। যৌথ নৌ মহড়ার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে বলে দাবি করে উত্তর কোরিয়া।
আজ স্থানীয় সময় বিকালে পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রে একটি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (শর্ট-রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল বা এসআরবিএম) পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। এর তিন ঘণ্টা পরই আরেকটি স্বল্প মাত্রার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ সব তথ্য জানানো হয়। এ অবস্থায় স্থানীয় সময় আনুমানিক বিকেল তিনটায় উত্তর কোরিয়ার ওনসান এলাকা থেকে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপনের বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। এটি একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিলো বলে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জানান।
জাপানের তরফ থেকেও এটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিলো বলেই নিশ্চিত করা হয়। এ সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে এসে পড়ে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে জানায়।
এদিকে, প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপনের পর এটি প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয় এবং এটি হোওয়াগসং-১১ সিরিজের দলভুক্ত হয়ে থাকতে পারে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী থেকে জানানো হয়। অন্যদিকে, বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে ওনসান থেকেই দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপন করা হয়। এ সময় এটি ৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দেয় বলে জানানো হয়।
বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জানান। একইসঙ্গে, উত্তর কোরিয়ার এ ধরনের পদক্ষেপের নিন্দাও জানায় জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া।
এদিকে, গত শনিবার উত্তর কোরিয়ার পরমাণু গবেষণার উপর জাতিসংঘের নজরদারির প্রস্তাবটি বাতিল করে দেয় দেশটি। একইসঙ্গে, প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাংশে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের যৌথ নৌ মহড়ারও নিন্দা জানায় দেশটি।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোরিয়া উপদ্বীপে এরইমধ্যে বিরাজমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির আরও অবনতি করবে বলে সমালোচনা করে উত্তর কোরিয়ার প্রধান কিম জং উনয়ের বোন কিম ইয়ু জং। একইসঙ্গে, এ ধরনের উদ্যোগ তাদের পরমাণু কর্মসূচীতে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৯ অগাস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রশান্ত মহাসগারের পশ্চিমাংশের গুয়ামের নিকটবর্তী জলসীমায় এ নৌ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। গুয়াম মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আওতাধীন একটি বিশেষ দ্বীপাঞ্চল।
সূত্র : সিএনএন।



