রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করতে যাচ্ছে সৌদি আরব

রাজনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:০৮, ২২ জুলাই ২০২৬;  আপডেট: ২২:১২, ২২ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করতে যাচ্ছে সৌদি আরব

নতুন এ চুক্তির আওতায় ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে কূটনৈতিক সমর্থন দিতে সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে বাধ্য করা হয় নি বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খুব শিগগিরই একটি চুক্তির ঘোষণা দিতে যাচ্ছে সৌদি আরব। এর মধ্য দিয়ে পারস্য উপসাগরের এ দেশটি জনগণের কাজে ব্যবহারের জন্য পরমাণু কর্মসূচী চালুর সুযোগ পাবে। আজ বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সংক্রান্ত খবরটি প্রকাশ করতে পারেন বলে সিবিএস নিউজ সূত্রে জানা গেছে।

এ চুক্তির মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোটি কোটি ডলার খরচ করবে এবং দেশটির কোনো একটি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরবে পরমাণু স্থাপনা নির্মাণে সাহায্য করবে। এ কর্মসূচীর আওতায় পরমাণু স্থাপনায় ইউরেনিয়াম উৎপাদন করা হবে। এ ইউরেনিয়াম বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হলেও এটি দিয়ে পরমাণু বোমাও তৈরি করা যায়।

ফলে, জনগণের উপকারি এ কর্মসূচী চালু করা হলেও সৌদি আরব শেষ পর্যন্ত পরমাণু অস্ত্রই তৈরি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মিত্র ইসরায়েল।

তবে, মূলত রফতানি করা তেলের ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমানো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতেই সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ চুক্তি করছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে।

এ ক্ষেত্রে দেশ দুটি ৩০ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি করতে যাচ্ছে এবং এতে হাজার হাজার কোটি ডলার ব্যয় করা হবে বলে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ট্রাম্প এরইমধ্যে চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। 

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে এবং দেশটি সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম উৎপাদন শুরু করলে আগামী ১০ বছর সৌদি আরব এককভাবে বা অন্য কোনো বিদেশি অংশীদারের সঙ্গে এ সংক্রান্ত আর কোনো চুক্তি করতে পারবে না বলেও জানানো হয়।

বর্তমানে চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে। কংগ্রেসের সরকারি ও বিরোধী দলের অনেক সদস্য এর বিরোধিতা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষই ট্রাম্পের সরকারি দল রিপালিকানদের দখলে।

উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে বর্তমান মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মূল বিষয়ই হলো পরমাণু কর্মসূচী সংক্রান্ত বিরোধ। কারণ, ইরান বিদ্যুৎ উৎপাদনের আড়ালে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে বলে দাবি করে দেশ দুটি। কিন্তু, বরাবরই এ দাবি নাকচ করে আসছে ইরান।

সূত্র : বিবিসি।