বিমান হামলায় আফগানিস্তানের ২৮ জঙ্গি নিহত : দাবি পাকিস্তানের
রাজনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২:৪৮, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬; আপডেট: ২৩:০১, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাকিস্তান সাধারণ আফগান জনগণকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তালেবান সরকার।
আফগানিস্তানের উত্তরপূর্বাঞ্চলে আজ সোমবার বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানোর প্রশিক্ষণস্থলে এ হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
চলতি বছরের জুন মাসের পর এটিই আফগানিস্তানে চালানো পাকিস্তানের এ ধরনের কোনো হামলার ঘটনা। এর আগে গত শুক্রবার পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী কোহাট এলাকার একটি পুলিশ ফাঁড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিলো আফগানিস্তান।
পাকিস্তানের সাম্প্রতিক এ হামলা বিষয়ে দেশটির তথ্য এবং সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ‘একটি আত্মঘাতী হামলা চালানোর প্রশিক্ষণ স্থানসহ মোট তিন জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে। এতে ২৮ জঙ্গিসহ আরও বেশ কিছু আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী নিহত হয়েছে। এ হামলায় প্রচুর পরিমাণ গোলা-বারুদ ও অস্ত্র ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।’
তবে, সাধারণ জনগণের বাড়িঘরে এ হামলা চালানো হয় ও এতে তিন আফগান নাগরিক নিহত হয় বলে দেশটির তালেবান সরকার থেকে অভিযোগ করা হয়। একইসঙ্গে, দেশটির কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তান হামলা চালায় বলে দাবি করে আফগানিস্তানের সরকারি মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত।
এ বিষয়ে সামাজিকমাধ্যম এক্সে ফিতরাত লিখেন, ‘সোমবার স্থানীয় সময় ভোর তিনটায় কুনারের নুর্গাল জেলায় বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। এতে একটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এতে ওই বাড়ির তিন সদস্য নিহত ও পরিবারটির আরও চার সদস্য আহত হয়।’
এ ছাড়াও, আফগানিস্তানের আরও দুই জায়গায় হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি। এতে একটি দোকান ও একটি খালি বাড়ি বিধ্বস্ত হয় বলে ফিতরাত জানান। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে উভয় পক্ষের এসব দাবির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় নি।
এদিকে, গত শুক্রবার আফগান-পাকিস্তান সীমান্তের কোহাট শহরের একটি পাকিস্তানি পুলিশ ফাঁড়িতে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় আফগান জঙ্গিরা। এ সময় জঙ্গিদের সঙ্গে পাকিস্তানি পুলিশের টানা ২০ ঘণ্টা বন্দুক যুদ্ধ চলে।
হামলায় ১৬ পুলিশসহ কমপক্ষে মোট ৩১ জন নিহত হয়। ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান নামের স্থানীয় একটি জঙ্গি গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করে। দলটির সঙ্গে জিহাদি দল তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর পাকিস্তানের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কে অবনতি হতে শুরু করে। তবে, সাম্প্রতিক এ হামলা, পাল্টা-হামলার আগে পরিস্থিতি বেশ কয়েকদিন শান্ত ছিলো।
কিন্তু, এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে দেশ দুটি। সে সময় তারা আফগানিস্তানের সঙ্গে উন্মুক্ত যুদ্ধে (ওপেন ওয়ার) লিপ্ত বলে ঘোষণা দেয় পাকিস্তান। কারণ, সে সময় পাকিস্তানের অভ্যন্তরণে সাধারণ জনগণ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিলো আফগানিস্তান।
তবে, এর আগে আফগান ভূখণ্ডে প্রথম বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। পরবর্তীতে, এর পাল্টা জবাবে আফগানিস্তানও পাকিস্তানের অভ্যন্তরণে বিমান হামলা পরিচালনা করে। এ অবস্থায় তখন থেকে এ পর্যন্ত আফগান-পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় উভয় দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় বহু লোকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
মূলত, পাকিস্তানের অভ্যন্তরণে হামলাকারী এসব জঙ্গিদের আফগানিস্তান আশ্রয় ও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করে যাচ্ছে দেশটি। এ ক্ষেত্রে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মূলত টিটিপি এবং বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী কিছু দলই বেশিরভাগ হামলার জন্য দায়ী বলে জানা যায়।
কিন্তু, পাকিস্তানের এ অভিযোগ বরাবরই নাকচ করে আসছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। এগুলো পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ জঙ্গি সমস্যা বলে দাবি আফগানিস্তানের।
সূত্র : ডয়চে ভেলে।



