রাজনীতি

ইউরোপজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ

সহিংসতায় রূপ নিলো জার্মানির চলমান প্রতিবাদ

রাজনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৪২, ২ নভেম্বর ২০২৬;  আপডেট: ০৩:০২, ২ নভেম্বর ২০২৬

সহিংসতায় রূপ নিলো জার্মানির চলমান প্রতিবাদ

শনিবার রাতে জার্মানির বিভিন্ন শহরে দোকানপাটে ভাঙ্গচুর চালায় বিক্ষোভকারীরা।

জার্মানিতে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে দেখা দেওয়া অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। গত শনিবার রাতে দেশটির রাজধানী ফ্রাঙ্কফুর্টে বিক্ষোভকারীদের বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাট ভাঙ্গচুর ও লুটপাট চালাতে দেখা গেছে।

রাজধানী ছাড়াও দেশটির অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র বার্লিনসহ কোন এবং হামবুর্গ শহরেও চলমান বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও হাতে থাকা পানির বোতল নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের উপর জলকামান থেকে পানি ছিটানো হয় বলে পুলিশ জানায়।

এর আগে, দিনের শুরুতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী এক জায়গায় জড়ো হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের আন্দোলন শুরু করে। ‘পরিস্থিতি জেন-জি’র নিয়ন্ত্রণে’ - এ প্রচারণার মধ্য দিয়ে একটি দল এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়। এ সময় তারা জীবনযাত্রার অতিরিক্ত ব্যয়, স্কুলের জন্য অপর্যাপ্ত তহবিল, জনস্বার্থে ব্যবহৃত তহবিলে কাঁটছাট এবং সামরিক খাতে বিশাল অঙ্কের ব্যয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।

বিক্ষোভকারীদের দমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় পুুুলিশকে।তবে, হঠাৎ করেই শনিবার রাতে শান্তিপূর্ণ এ আন্দোলন সহিংস বিক্ষোভে মোড় নেয়। এ সময় ফ্রাঙ্কফুর্টের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু দোকানের জানালা ও দরজার কাচ ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছোঁড়া হয়। বেশ কিছু জায়গায় দোকানপাট লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

একই সময় কোন শহরের প্রধান রেল স্টেশনে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল নিক্ষেপ ও সাইকেল নিয়ে আক্রমণ চালাতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। হামবুর্গে পুলিশের ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেওয়াসহ আতশবাজি নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীরা। বার্লিনে বিক্ষোভকারীদের দমাতে গিয়ে ২৭ পুলিশ আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফ্রাঙ্কফুর্টের অনেক রাস্তা বন্ধ করে দেয় পুলিশ। একইসঙ্গে, বিক্ষোভ দমনে ফ্রাঙ্কফুর্টসহ মিউনিখ এবং বার্লিনের বিভিন্ন জায়গা থেকে ১৮ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। এ ছাড়া অবস্থা সামাল দিতে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের বিশেষ বাহিনীও নিয়োগ করা হয়।

ভাঙ্গচুরের সাথে সাথে কোথাও কোথাও দোকানে লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

তবে, ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে কিছু উগ্র বামপন্থী উসকানি দিয়ে পরিবেশ অশান্ত করেছে বলে অভিযোগ করে কোন শহরের পুলিশ।

এদিকে, তারা যুদ্ধ ও দমনপীড়নের রাজনীতি নয় শান্তি ও মুক্তির জন্য আন্দোলন করছে বলে জেন-জি আন্দোলনকারীদের এক মুখপাত্র লিনা ফ্রেডরিখ জানায়। সে বলে, ‘আমাদের এখন সবচেয়ে বেশি দরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে আরও সরকারি সহায়তা। সামরিক খাতে বাধ্যতামূলক বিশাল ব্যয়ের আমরা বিরোধী। আমরা চাই সব খাতে সমান বরাদ্দ দেওয়া হোক।’ 

উল্লেখ্য, জার্মানির সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপের আরও বেশ কয়েকটি শহরেও বর্তমানে ব্যাপক আকারে জনতার আন্দোলন-প্রতিবাদ চলমান রয়েছে।

পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা।

ফ্রান্সে জীবন যাত্রার অতিরিক্ত ব্যয়সহ অপর্যাপ্ত জনসেবা বিশেষত শিক্ষাখাতের নাজুক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে টানা তিন সপ্তাহের মতো বিক্ষোভ চলমান রয়েছে। এর অংশ হিসেবে শনিবার দেশটিতে প্রায় সাড়ে তিন লাখের মতো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

এ ছাড়াও ইউরোপের দেশ ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল, আলবেনিয়া এবং সার্বিয়াতেও জীবন যাত্রার অসহনীয় ব্যয়, জনস্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাতের নাজুক পরিস্থিতি, বসতবাড়ির উচ্চমূল্য ও সংকট এবং সরকারের দুনীর্তির বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশাল আকারের বিক্ষোভ চলমান রয়েছে।

সূত্র : বিবিসি ও সিএনএন।