অন্যান্য

ইউরোপের বিভিন্ন উড়োজাহাজে আবারও বোমা হামলার হুমকি

ফ্লাইটের শিডিউল বিপর্যয়

প্রকাশিত: ২২:১৩, ৫ নভেম্বর ২০২৬;  আপডেট: ২২:৪৫, ৫ নভেম্বর ২০২৬

ইউরোপের বিভিন্ন উড়োজাহাজে আবারও বোমা হামলার হুমকি

হুমকির পর প্রথম ফ্লাইট হিসেবে এয়ার লিঙ্গাসের এ৩২০ মডেলের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটি প্যারিসের সেনা বিমানঘাঁটিতে অবতরণে বাধ্য হয়।

ইউরোপজুড়ে বোমা হামলার হুমকি পাওয়ায় চলমান ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে ওই অঞ্চরের বিভিন্ন বেসামারিক বিমান সংস্থা। আজ বৃহস্পতিবার প্রায় ১২টি ফ্লাইটে হঠাৎ করেই বোমা হামলার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় উড়োজাহাজগুলোর জরুরি অবতরণে বাধ্য হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগেই আরও একবার এ ধরনের হুমকি আতঙ্কে ফ্লাইটের শিডিউল বিপর্যয় ঘটে এবং পোল্যান্ডের একটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে, এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো দল বা ব্যক্তি দায় স্বীকার করে নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকেও সন্দেহভাজন কোনো দল বা ব্যক্তির নাম জানানো হয় নি।

এদিকে, জনগণের উপর যেকোনো ধরনের হুমকি অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপিয় ইউনিয়নের পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক কমিশনার অ্যাপোসটোলস জিটজিকোসতাস। তিনি বলেন, ‘কাছাকাছি সময়ে ঘটে যাওয়া এ ধরনের ঘটনাগুলোর একটির আরেকটির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখনও সময় আসে নি। তবে, সত্য উদঘাটনে আমরা জাতীয় পর্যায়ে তদন্ত কাজ চলমান রেখেছি।’

নতুন এ বোমা হামলার হুমকির কারণে আজ আয়ারল্যান্ডের এয়ার লিঙ্গাস বিমান সংস্থার একটি উড়োজাহাজ প্যারিসে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। এটি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন থেকে ইতালির রোমের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলো। পরবর্তীতে এতে থাকা ১৫১ জন যাত্রী ও ৬ জন ক্রকে নিরাপদে উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে আনা হয়। বর্তমানে বোম স্কোয়াড বিমানবন্দরে অবস্থান করছে বলে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নো জানান। 

অন্যদিকে, বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পর তিনটি উড়োজাহাজ বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানায়। এগুলোর মধ্যে একটি ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন এবং আরেকটি স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ থেকে যাত্রা করেছিলো। পরবর্তীতে, এগুলো বুলগেরিয়ার সোফিয়াতে অবতরণ করে। অপর উড়োজাহাজটি লন্ডন থেকে যাত্রা করে এবং বুলগেরিয়ার প্লভদিব শহরে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়। 

বিমানের ফ্লাইটগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের কাজের সঙ্গে জড়িত ফ্লাইটরাডার২৪ নামের ওয়েবসাইট বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে। তবে, জরুরি অবতরণের পর উড়োজাহাজগুলো তল্লাশি করে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায় নি বলে বুলগেরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান।

আইরিশ বিমান সংস্থা রাইনএয়ারের তিনটি উড়োজাহাজ বুলগেরিয়ায় অবতরণে বাধ্য হয়।

চেক রিপাবলিকের রাজধানী প্রাগের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা চারটি উড়োজাহাজও একই ধরনের হুমকি পাওয়ার পর জরুরি অবতরণ করে। তবে, পরবর্তী তল্লাশির পর এগুলোতেও সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায় নি বলে চেক পুলিশ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

পোল্যান্ডের এলওটি পোলিশ বিমান সংস্থার একটি উড়োজাহাজ দেশটির রাজধানী ওয়ারশ থেকে যাত্রা করে। কিন্তু, মাঝ-আকাশে বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পর উড়োজাহজেই এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে, ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কিছু না থাকায় এটি এর নির্দিষ্ট গন্তব্য অর্থাৎ বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে নিরাপদে অবতরণ করে। 

এছাড়াও, নিরাপত্তার ঝুঁকির মুখে ইতালির মিলান থেকে ওয়ারশতে যাওয়ার পথে উইজ বিমান সংস্থার একটি উড়োজাহাজ ভিয়েনাতে অবতরণ করে। 

অন্যদিকে, ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কি থেকে রোমে যাওয়ার পথে ফিনএয়ারের একটি উড়োজাহাজ এবং হেলসিঙ্কি থেকে ভিয়েনা যাওয়ার পথে জেটিমি বিমান সংস্থার একটি উড়োজাহাজেও বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়। তবে, এ উড়োজাহাজগুলো কোনো ঝামেলা ছাড়াই নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে। 

উল্লেখ্য, এর আগে গত মঙ্গলবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকটি ফ্লাইটে একইভাবে বোমা হামলার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে উড়োজাহাজগুলো জরুরি অবতরণ করে এবং এগুলোর ভেতর নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়। 

একইসঙ্গে, কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয় পোল্যান্ডের একটি বিমানবন্দরও। তবে, শেষ পর্যন্ত অপ্রীতিকর কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় নি।

সূত্র : আল-জাজিরা ও ডয়চে ভেলে।