বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ইউরোপের ৭টি দেশের বিভিন্ন সুপারমার্কেটে সন্দেহজনক সাইবার হামলা

নষ্ট লাখ লাখ ইউরোর খাদ্যপণ্য

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:৩৪, ২ নভেম্বর ২০২৬;  আপডেট: ২২:৪২, ২ নভেম্বর ২০২৬

ইউরোপের ৭টি দেশের বিভিন্ন সুপারমার্কেটে সন্দেহজনক সাইবার হামলা

সুপারমার্কেটগুলোতে সাইবার হামলার কারণে রিফ্রিজারেটারে থাকা খাবারগুলো সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হয় কর্মীরা।

ইউরোপের ৭টি দেশের ডজনেরও বেশি সুপারমার্কেটে সন্দেহজনক সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় ওই সুপারমার্কেটে থাকা রিফ্রিজারেটর এবং ফ্রিজারগুলো আক্রান্ত হয় এবং এগুলোতে থাকা বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আজ সোমবার ইউরোপের বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গের দেলহেইজ গ্রুপের প্রায় ৪০টি সুপারমার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া সুইডেন, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, এস্তোনিয়া এবং ফিনল্যান্ডের বেশ কিছু সুপারমার্কেটে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে।

সন্দেহজনক এ হামলার কারণে ফ্রিজগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিফ্রস্ট মুডে (ফ্রিজে জমে থাকা বরফ গলে যাওয়ার নির্দেশনা) চলে যায় এবং ফ্রিজগুলো গরম হতে শুরু করে। এ সময় ফ্রিজগুলোর তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যায়।

গত মাসে একই পদ্ধতিতে ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি সুপারমার্কেটের ফ্রিজেও এ ধরনের হামলা চালানো হয়। আক্রান্ত ফ্রিজগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যাবকোবেল থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

ইউরোপিয় ইউনিয়নের কৃষি ও খাদ্য বিষয়ক কমিশনার ক্রিস্টফ হ্যানসেন আজ এ ঘটনাকে ইউরোপের খাদ্য ব্যবস্থার উপর সুপরিকল্পিত হামলা বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‌'এ ঘটনায় খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো ঝুঁকি না থাকলেও এর কারণে যে পরিমাণ খাবার নষ্ট হয়েছে, তা ব্যবসার উপর  বড় এক ধাক্কা।'

এ ঘটনায় লাখ লাখ ইউরো মূল্যের খাবার নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে সুপারমার্কেটগুলো সেসব ফেলে দিতে বাধ্য হয় বলে বিভিন্ন দেশের স্থানীয় গণমাধ্যম থেকে জানা যায়। 

এ হামলার ঘটনায় নষ্ট হয়েছে লাখ লাখ ইউরোর খাদ্যপণ্য।

তবে, কারা এ ধরনের হামলার সঙ্গে জড়িত, এ বিষয়ে এখনও সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে বেলজিয়াম ও সুইডেনের সাইবার-নিরাপত্তা সংস্থাগুলো থেকে জানানো হয়েছে।

সুইডেনের জাতীয় সাইবার-নিরাপত্তা কেন্দ্র থেকে আজ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ সংক্রান্ত তদন্ত কাজ শুরুর বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে, রিফ্রিজারেটরের সঙ্গে সঙ্গে সিকিউরিটি ক্যামেরা, অ্যালার্ম নেটওয়ার্কসহ এ ধরনের সব প্রযুক্তিগত মেশিনের ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

উল্লেখ্য, বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গের দেলহেইজ ছাড়াও বেলজিয়ামের স্পার, সুইডেনের আইসিএ ও কুপ, ফিনল্যান্ডের কে-স্টোরস, নেদারল্যান্ডসের অ্যাহোল্ড দেলহেইজসহ আয়ারল্যান্ড ও এস্তোনিয়ার বেশ কিছু চেইন শপ এ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি ও ডয়চে ভেলে।