রাজনীতি

বৈরুতের শহরতলীতে ইসরায়েলি হামলা : নিহত ৩

রাজনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:৫৫, ১৪ জুন ২০২৬;  আপডেট: ০০:৩৩, ১৫ জুন ২০২৬

বৈরুতের শহরতলীতে ইসরায়েলি হামলা : নিহত ৩

ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি পর্যবেক্ষণ করছেন লেবাননের পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বৈরুতে এক ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ৩ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছে। দেশটির দক্ষিণাংশের এক শহরতলীতে আজ রবিবার হামলার এ ঘটনা ঘটে। লেবাননের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ দল প্রথমে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পরই তারা পাল্টা আক্রমণ করে বলে ইসরায়েলের তরফ থেকে দাবি করা হয়। এ সময় তারা দেশটির দক্ষিণের দাহি শহরে হিজবুল্লাহর মূল ঘাঁটিতে আঘাত করে বলে দ্য ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানায়।

এদিকে, হামলা চালানো ভবনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে। এ অবস্থায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইরানের এক জৈষ্ঠ্য কর্তকর্তা।

একইসঙ্গে, লেবাননে ইসরায়েলি এ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ করেছে ইরান। দেশটি তাদের ওয়াদা ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাগহের গালিবাফ।

একইসঙ্গে, বৈরুতের শহরতলীতে সংঘটিত এ হামলার প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের জৈষ্ঠ্য সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাফর।

তবে, হামলার বিষয়ে পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যখন ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার একদম কাছাকাছি চলে এসেছি, তখন এ ধরনের ঘটনা খুবই অনাকাঙ্খিত।’

সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি আরও লিখেন, ‘যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলার অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে। তবে, যে হামলার কারণে তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে এটি খুবই সামান্য একটি হামলা। এতে কেউ আহত বা নিহতও হয়নি। ফলে, এ ধরনের কাজের মধ্য দিয়ে এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ে ঝামেলা তৈরি করা উচিত নয়।’

ট্রাম্প বলেন, ‘লেবাননের কোথাও-ই এখন ইসরায়েলের হামলা করা উচিত নয়। একইভাবে, অন্য কোনো দল বা দেশ বিশেষ করে হিজবুল্লাহরও উচিত নয় ইসরায়েলে হামলা করা।’

তিনি বলেন, ‘এটি একটি দীর্ঘ ও চমৎকার শান্তি প্রক্রিয়ার শুরু হওয়া উচিত - চলুন আমরা এ মুহূর্তটিকে নষ্ট না করি।’

উল্লেখ্য, আজ রবিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে গতকাল শনিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন। তবে, তাঁর এ নির্দিষ্ট দিন-তারিখ বিষয়ে সে সময় অনিশ্চিয়তার কথা জানায় ইরান।

এদিকে, এ চুক্তিকে একটি বড় রকমের বাধা হিসেবে দেখছে ইসরায়েল। একইসঙ্গে, আলোচনার পাশাপাশি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে দেশটি। মূলত, হিজবুল্লাহ ইসলায়েলের উত্তরাংশে হামলা অব্যাহত রাখায় তারাও পাল্টা হামলা চালিয়ে যেতে চায় বলে জানা গেছে।

কারণ, হিজবুল্লাহর সঙ্গে তাদের এ সংঘাত ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এবং এ বিষয়ে দেশের জনগণের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করে ইসরায়েল।  তবে, ইরান শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে সমর্থ হলে ইসরায়েল লেবাননে হামলা বন্ধে বাধ্য হবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। 

এছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাধারণত ইসরায়েলের পক্ষ সমর্থন করলেও বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায়, ব্যয়বহুল এ সংঘাত বন্ধে মরিয়া ট্রাম্প বর্তমানে ইসারেয়েলের এ ভূমিকায় বরং ক্রমাগত হতাশা ও বিরক্তি প্রকাশ করে চলেছেন।

সূত্র : বিবিসি।