উঃ কোরিয়ার সঙ্গে সুরক্ষিত অঞ্চলের সীমা কমিয়ে আনছে দঃ কোরিয়া
রাজনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২:৪৮, ১৭ জুন ২০২৬
নতুন সিদ্ধান্তের কারণে এখন সীমান্ত এলাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণ নিজস্ব জমি সংরক্ষণ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উত্তর কারিয়ার সঙ্গে সীমান্তের সুরক্ষিত অঞ্চলের (বাফার জোন) প্রায় ২৭০ কিলোমিটার অংশের কড়াকড়ি শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। আজ বুধবার সিউলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর মধ্য দিয়ে সীমান্ত অঞ্চলের কৃষক ও অন্যান্য বাসিন্দারা আরও কিছু ভূমি ব্যবহারের সুযোগ পাবে বলে এ সময় উল্লেখ করা হয়। কারণ, এসব এলাকায় অতিরিক্ত কড়াকড়ির কারণে বহুদিন ধরেই কাজের সমস্যার অভিযোগ জানিয়ে আসছিলো দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষকেরা।
এ ক্ষেত্রে সিভিলিয়ান কন্ট্রোল লাইন (সিসিএল) অর্থাৎ সীমান্তের দক্ষিণের সেনা-নিয়ন্ত্রিত সুরক্ষিত অঞ্চলের সীমা সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার থেকে গড়ে সর্বনিম্ন ৬ কিলোমিটার পর্যন্ত কমানো হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গাইয়ু-বাক বলেন, ‘জনগণের চলাচল সীমিত করা এবং নিশ্চিত সেনা অভিযানের জন্য সিসিএল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো, কিন্তু এর প্রকৃত সীমা পুনর্নিধারণে বার বার অনুরোধ করা হচ্ছিলো। এ অবস্থায় আমরা সিসিএল এলাকায় সেনা উপস্থিতি কমিয়ে আনার এবং এলাকাটিকে কাজে লাগানোর জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণকে ওই এলাকায় বসবাস বা কৃষিকাজ করতে সেনাবাহিনীর অনুমতি নিতে হয়। এমনকি ওই এলাকায় থাকা ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে কোনো নির্মাণ কাজের জন্যও সেনা অনুমতির প্রয়োজন হয়। এর ফলে এলাকার বাসিন্দারা প্রচুর অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা জানান।

ফলে, নতুন এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ওই এলাকার জনগণ। কারণ, এর মধ্য দিয়ে এখন কৃষিকাজ বাড়ানোসহ পর্যটক আকর্ষণের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
উল্লেখ্য, কাগজে-কলমে দুই কোরিয়ার মধ্যে এখনও যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। কারণ, ১৯৫০ থেকে ৫৩ সাল পর্যন্ত সংঘটিত ওই যুদ্ধ একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে বন্ধ হয়। কিন্তু, আনুষ্ঠানিকভাবে ওই যুদ্ধ শেষ করতে এখনও পর্যন্ত উভয় দেশের মধ্যে কোনো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।
এ অবস্থায় ওই যুদ্ধবিরতির পর পরই দক্ষিণ কোরিয়া সিসিএল প্রতিষ্ঠা করে। মূলত, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বিদ্যমান সীমান্ত এলাকায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ ও সেনা মোতায়েন রাখাই ছিলো এর উদ্দেশ্য।
সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান সীমান্ত এলাকার দক্ষিণাংশে পশ্চিমে আরও ৭ কিলোমিটার এবং পূর্বে আরও ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় কড়াকড়ি আরোপ করে।
সূত্র : ডয়চে ভেলে।



