রাজনীতি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভা

‘আমরা সন্ত্রাসবাদের শিকার’: ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান

রাজনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:৪০, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬;  আপডেট: ২৩:৫৫, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘আমরা সন্ত্রাসবাদের শিকার’: ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান

মার্কিন হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়তুল্লাহ আলি খামিনি। ছবি : ডয়চে ভেলে।

ইরান কখনোই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে মাথা নত করবে না বলে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান। একইসঙ্গে ইরান ‘সন্ত্রাসবাদের শিকার’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আজ বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভায় এসব কথা বলেন পেজেস্কিয়ান। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে চলমান এ সভার আজ দ্বিতীয় দিন। তার এ বক্তব্যের সময় উপস্থিত এক মার্কিন প্রতিনিধি সভাস্থল ত্যাগ করেন।

নিউ ইয়র্ক স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় সভায় বক্তব্য দিতে মঞ্চে আসেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান। এ সময় তিনি পরেছিলেন ইরানের পতাকা সম্বলিত কোট পিন। একইসঙ্গে, তাঁর হাতে ছিলো দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়তুল্লাহ আলি খামিনির একটি ছবি। চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শুরুর দিকে এক বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন।

সভায় বক্তব্যের শুরুতে পেজেস্কিয়ান বলেন, ‘গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট আমাদের সন্ত্রাসী বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু, আমরা আসলে সন্ত্রাসবাদের শিকার। আমি এমন এক ইরান থেকে এসেছি যেখানে আমাদের সর্বোচ্চ নেতাকে কোনো ধরনের বৈধ কারণ ছাড়াই হত্যা করা হয়েছে।’

একইসঙ্গে, তিনি ইরানের একটি বিদ্যালয়ের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বোমা হামলায় বহু নিষ্পাপ শিশু নিহত হয়। এ সময় তিনি ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ছবি দেখান। পেজেস্কিয়ান বলেন, ‘তারা হচ্ছে ওইসব নিষ্পাপ শিশু, আদতে যারা কোনো ধরনের অপরাধ করে নি।’

ইরানের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে অ্যাখ্যা দেন এবং দেশ দুটি সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন। তার এ বক্তব্যের প্রতিবাদে এ সময় সভাকক্ষে উপস্থিত একজন মার্কিন প্রতিনিধি সভাস্থল ত্যাগ করেন।

মিনাবের একটি বিদ্যালয়ে মার্কিন বোমা হামলায় নিহত শিক্ষার্থীদের ছবি দেখিয়ে নিষ্পাপ শিশুদের হত্যার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসীতে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। ছবি : ডয়চে ভেলে।

তবে, মাসুদ পেজেস্কিয়ান তার বক্তব্য অব্যাহত রাখেন এবং এ সম্পর্কে আরও বলেন, ‘আমরা শুধু আমাদের প্রতিরোধ করছি, আমরা সন্ত্রাসী নই। আমাদের নিরপরাধ জনগণ এসব কাপুরষোচিত হামলা ও আগ্রাসনের শিকার। আর আমরা আমাদের দেশ ও জনগণের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তা প্রতিরোধ করবো।’

তবে, এ সময় তিনি ইরানে সংঘটিত জনবিক্ষোভে চালানো সরকারি সহিংস দমন-পীড়নের বিষয়ে কোনো বক্তব্য উল্লেখ করেন নি। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর কিছুদিন আগে দেশটিতে এ বিক্ষোভ সংঘটিত হয়।

এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ সভার প্রথম দিন বক্তব্য দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় সভার প্রথম বক্তা হিসেবে তিনি ইরানে সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি বা দেশটিকে যুদ্ধে পরাজিত করা বিষয়ে বড় একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।

একইসঙ্গে, উভয় দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ইতিমধ্যে ‘আশাব্যঞ্জক আলোচনা’ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে, আজ তাঁর বক্তব্যে মাসুদ পেজেস্কিয়ান ইরান কখনোই পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করবে না বলে উল্লেখ করেছেন। কারণ, এ কর্মসূচি শুধু দেশটির জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হয় বলে আবারও দাবি করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে হরমুজ প্রণালি। ছবি : সিএনএন।

কিন্তু, একমাত্র এ কর্মসূচি পুরোপুরি বাতিল করলেই ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি করা সম্ভব বলে ক্রমাগত বলে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ, এ কর্মসূচির আড়ালে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে বলে বরাবরই অভিযোগ ও দাবি করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র ইসরায়েল।

এ বিষয়ে সাধারণ সভায় দেওয়া বক্তৃতায় ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের দেশ মাথা নত করবে না এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অধিকার কখনোই ছেড়ে দেবে না।’

এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধের বিষয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন পেজেস্কিয়ান। এ ক্ষেত্রে,  মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের চেষ্টা করাতেই ইরান এমন উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়েছে বলে যুক্তি দেন তিনি।

কিন্তু, কিভাবে এসব সমস্যার সমাধান হবে, এ বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কোনো প্রস্তাব বা পরামর্শ দেন নি। তবে, ইরান আলোচনার বিপক্ষে নয় বলে জানান প্রেসিডেন্ট পেজেস্কিয়ান। কিন্তু, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেনা আগ্রাসন অব্যাহত রাখলে তারাও নতি স্বীকার করবে না বলে আবারও সতর্ক করে দেন তিনি।

সূত্র : ডয়চে ভেলে, আল-জাজিরা, সিএনএন।