আগামী নভেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের
রাজনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: ০০:৪৩, ১০ জুলাই ২০২৬
যুদ্ধবিধ্বস্থ গাজা উপত্যকায় কিভাবে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এ বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।
ফিলিস্তিনে চলতি বছরের ২৮ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এক ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ জারি করেন। বাস্তবায়িত হলে এটি হবে গত ২০ বছরের মধ্যে ফিলিস্তিনের প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানায়, ‘ঘোষিত তারিখে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে ফিলিস্তিনের জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচনের আহ্বান জানানো হলো।’
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে আর্থিকভাবে সমর্থন করা আন্তর্জাতিক মহল বহুদিন থেকেই এ ভূখণ্ডে একটি জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিলো। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট আব্বাস গত মাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেরও ঘোষণা দেন। ঘোষণা অনুযায়ী এ নির্বাচন আগামী ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হবে।
তবে, বর্তমানে ফিলিস্তিনের মধ্য বয়সী নাগরিকদের অধিকাংশের বয়সই ২০ বছরের কোটায়। অর্থাৎ, দেশটির একটি বড় অংশই কখনো নির্বাচনে অংশ নেয় নি।
এ ছাড়া, রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং প্রেসিডেন্ট আব্বাসের হাতে জাতীয় নির্বাচন করার মতো পর্যাপ্ত ক্ষমতা রয়েছে কিনা, এ বিষয়টিও এখনও স্পষ্ট নয়। রাজনৈতিক স্তবিরতা, দুর্নীতি এবং জনগণের কাছে দিন দিন গ্রহণযোগ্যতা হারানোর কারণে দলটি দেশ ও দেশের বাইরে প্রতিনিয়তই সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছে।
এদিকে, টানা দুই বছর ব্যাপক ইসরায়েলি হামলায় বর্তমানে গাজা উপত্যকা প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। উপত্যকার বড় বড় ভবনসহ অধিকাংশ অবকাঠামোই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় ফিলিস্তিনের ওই অংশে সুষ্ঠভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টিও বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এ ছাড়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজা উপত্যকা পরিচালনাকারী দল হামাসের সঙ্গে সম্প্রতি ইসরায়েলি সরকারের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী হামাস খুব শিগগিরই উপত্যকার ক্ষমতার ভার একটি টেকনোক্র্যাটিক প্যানেলের কাছে হস্তান্তর করবে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গাজা উপত্যকা পরিচালনার দায়িত্ব নিবে ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি)।
এ অবস্থায় সার্বিকভাবে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে একটি সুষ্ঠ ও গঠনমূলক নির্বাচনের বিষয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ৯০ বছর বয়সী আব্বাস ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে ফিলিস্তিনের ক্ষমতা গ্রহণ করেন। চার বছরের জন্য ক্ষমতায় আসা আব্বাসের এ শাসনামল হিসেব অনুযায়ী ২০০৯ সালেই শেষ হওয়ার সময় ধার্য ছিলো।
কিন্তু, সে বছর হামাস আব্বাসের ফাতাহ পার্টিকে নির্বাচনে হারানোর পর ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে দল দুটির মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি হয়ে যায়। সে সময় থেকে চুক্তি অনুযায়ী এখন পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ বছর ধরে হামাস গাজা উপত্যকা ও ফাতাহ পার্টি পশ্চিম তীর শাসন করে চলেছে।
সূত্র : ডয়চে ভেলে।



