প্রমোদতরীতে হান্তাভাইরাস সংক্রমণ
ফরাসি নাগরিকের শরীরে ভাইরাসের লক্ষণ
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৮:১০, ১১ মে ২০২৬; আপডেট: ১৮:২৫, ১১ মে ২০২৬
অ্যাম্বুেলেন্সে করে ৫ ফরাসি নাগরিককে প্যারিসের এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হান্তাভাইরাস সংক্রমিত প্রমোদতরী ফেরত এক ফরাসি নাগরিকের শরীরে ভাইরাসটির লক্ষণ পাওয়া গেছে। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লকর্নো এ তথ্য জানিয়েছে। ভাড়া করা বিমানে স্পেন থেকে প্যারিসে নিয়ে আসার পথে ওই নাগরিকের মধ্যে লক্ষণ দেখা দেয় বলে জানান তিনি।
এ পরিস্থিতিতে প্রমোদতরী এমভি হুন্ডিয়াস ফেরত বাকি পাঁচ নাগরিককেও সর্বোচ্চ সতর্কতায় আলাদা রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা চলবে বলে জানানো হয়।
গতকাল রবিবার যাত্রীদের নিয়ে বিমানটি বিমানবন্দরে অবতরণের পর পরই তাদেরকে সর্বোচ্চ সতর্কতার মধ্য দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজধানীর একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা তাদেরকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে তাদেরকে নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তবে, সেখানে তাদের বাধ্যতামূলক ৪৫ দিন আলাদা (সেলফ-আইসোলেশসন) কক্ষে থাকতে হবে বলে এক বিবৃতিতে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান।
এদিকে, প্রমোদতরী ফেরত ১৪ জন স্প্যানিশ নাগরিককে রাজধানী মাদ্রিদের একটি সামরিক হাসপাতালে বাধ্যতামূলকভাবে আলাদা করে রাখা হয়েছে। তবে, জাহাজে থাকা ২০ জন ব্রিটিশ নাগরিকের মধ্যে ভাইরাসের কোনো লক্ষণ না থাকায় তাদেরকে শুধু পর্যবেক্ষণে রাখা হবে বলে দেশটির স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিভাগ থেকে জানানো হয়।
এছাড়া, প্রমোদতরী থেকে হল্যান্ডের ৮ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ নাগরিককে নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মার্কিনীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ২ জনের দেহে হান্তাভাইরাসের সামান্য লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে বলে দেশটির তরফ থেকে জানানো হয়েছে।
গতকাল তুরস্ক ও আয়ারল্যান্ডের নাগরিকদের বহনকারী দুটি বিমানও স্পেন ছেড়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানিয়েছেন। এছাড়া, ৬ জনকে অস্ট্রেলিয়া এবং আরও ১৮ জনকে নেদারল্যান্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এর মধ্য দিয়ে প্রমোদতরীটিতে থাকা ১৫০ যাত্রীর মধ্যে ৯০ এরও বেশি যাত্রী এবং কর্মীকে রবিবারের মধ্যেই নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে স্পেনের স্বাস্থ্য সচিব হাভিয়ার পাদিল্লাহ জানান। আজ সোমবার অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে আরেকটি বিমান যাত্রা করবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গতকাল রবিবার ভোরে হল্যান্ডের ওই প্রমোদতরীটি স্পেনের ক্যানারি দ্বীপের গ্রানাডিল্লা বন্দরে নোঙ্গর করে। এ সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং স্পেন সরকারের তত্ত্বাবধানে যাত্রীদের জাহাজ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে নিজ নিজ দেশের বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়।
ওই জাহাজে থাকা যাত্রীদের মধ্যে তিনজনের এরইমধ্যে মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত ১১ এপ্রিল প্রথম ও ২ মে দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তারা হান্তাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিলো বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এছাড়া, ২৪ এপ্রিল জাহাজ থেকে সেন্ট হেলেনাতে অবতরণের দুই দিন পর আরেক যাত্রীর মৃত্যু হয়। ৬৯ বছর বয়সী ওই নারী যাত্রী হল্যান্ডের নাগরিক ছিলেন এবং সে সময় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা ভ্রমণ করছিলো।
অন্যদিকে, ভাইরাসে সংক্রমিত প্রমোদতরীর যাত্রী দুই ব্রিটিশ নাগরিক বর্তমানে নেদারল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া, ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে আরেক ব্রিটিশ নাগরিককে বর্তমানে আন্টলান্টিকের একটি দ্বীপে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, হান্তাভাইরাস মূলত ইদুর জাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে থাকে। তবে, প্রমোদতরীটি দক্ষিণ আমেরিকায় থাকাকালে ভাইরাসটি জাহাজের এক যাত্রী থেকে আরেক যাত্রীর মধ্যে ছড়িয়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশঙ্কা করছে।
এ ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে জ্বর, চরম অবসাদ, মাংসপেশি ও পাকস্থলিতে ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া এবং শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দেয়।
সূত্র : বিবিসি।



