যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ
মার্কিন বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করলো স্পেন
রাজনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২:১৯, ৩০ মার্চ ২০২৬; আপডেট: ২২:২৭, ৩০ মার্চ ২০২৬
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের অ্যাডোল্ফ সুয়ারেজ বিমানবন্দরে অবস্থিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।
মার্কিন যুদ্ধ বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে স্পেন। ইরান যুদ্ধে জড়িত এমন যেকোনো ধরনের বিমানের জন্য এ সিদ্ধান্ত নিলো দেশটি। স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রোবেলস আজ সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ইরান যুদ্ধে আমরা আমাদের সামরিক ঘাঁটিও ব্যবহার না করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিষয়টি আমরা প্রথমেই মার্কিন সরকারের কাছে স্পষ্ট করেছি।’
মূলত, যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করে, এমন যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্যই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্পেনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল।
এ বিষয়ে এখনও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে, এর আগে ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করলে দেশটির উপর শতভাগ বাণিজ্য অবরোধ আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
কিন্তু, যুদ্ধের শুরু থেকেই একে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ ও ‘অবৈধ’ বলে প্রকাশ্যে এ যুদ্ধের তীব্র সমালোচনা করে আসছেন স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। এর অংশ হিসেবেই চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন বাহিনীকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
স্পেনের আন্দালুসিয়ায় অবস্থিত রোটা ও মোরোন নামের এ সামরিক ঘাঁটি দুটি স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে পরিচালনা করে থাকে।
এমনকি গত বুধবার তিনি ঘোষণা করেন, ‘ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো ধরনের বিমান আমাদের আকাশসীমায় ঢুকতে পারবে না - একটি বিমানও না, এমনকি বিমানে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত বিমানও নয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সার্বভৌম দেশ, যার এ ধরনের অবৈধ যুদ্ধে অংশ নেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই।’

গত ৪ মার্চ টেলিভিশনে দেওয়া ১০ মিনিটের এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ বর্তমানে চলমান ফিলিস্তিন ও ইউক্রেন যুদ্ধসহ ২০ বছর আগে সংঘটিত ইরাক যুদ্ধের কথাও উল্লেখ করেন।
সে সময় এ বিষয়ে তিনি বলেন যে, যেকোনো ধরনের যুদ্ধের ক্ষেত্রেই সব সময় স্প্যানিশ সরকারের নীতি হচ্ছে - ‘যুদ্ধকে না বলো।’
এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্পেনে তেল আমদানি অব্যাহত রাখতে সম্প্রতি দেশটিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের প্রতি আহ্বান জানায় স্পেন সরকার।
এক্ষেত্রে, স্পেন আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে ইরান তাদের এ আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দিবে বলে আশাবাদী দেশটি।
উল্লেখ্য, ইরান ও আরব পেনিনসুলার মাঝখানে অবস্থিত সংকীর্ণ এ প্রণালী দিয়ে সাধারণত বৈশ্বিক তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
কিন্তু, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আরব দেশগুলোর মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান অব্যাহতভাবে ড্রোন, মিসাইল ও মাইন হামলা চালানোর কারণে কার্যত এ প্রণালী বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়াসহ ক্রমাগতভাবে বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের তেলের দাম।
সূত্র : বিবিসি।



