ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের তৃতীয় দিন
কাতার ও সৌদির জ্বালানি কেন্দ্রে ইরানের হামলা
লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হামলা চালিয়ে যাওয়ার হুশিয়ারি ট্রাম্পের
রাজনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩:৩৫, ২ মার্চ ২০২৬; আপডেট: ০১:১২, ৩ মার্চ ২০২৬
দোহার জ্বালানি কেন্দ্রে ইরানি হামলার পর উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কাতার। ছবি : ডয়চে ভেলে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনাতে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। এর অংশ হিসেবে আজ সোমবার কাতার ও সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে দেশটি।
ইরানি ড্রোনের আঘাতে তেল উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে, এ হামলার ঘটনার পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে কাতার।
এছাড়া, পারস্য উপসাগরীয় দেশ ওমানের একটি তেলের ট্যাঙ্কারে ইরানি হামলায় এ পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ব্যাপক উর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। এক পর্যায়ে তা ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় বলে জানা গেছে।
এদিকে, লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরানে হামলা অব্যাহত থাকবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে, ইরানি হামলায় নিহত তিন মার্কিন সেনা মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ারও হুশিয়ারি দেন তিনি।
এ অবস্থায় ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৫৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে পরমাণু কর্মসূচী সংক্রান্ত আলোচনার জন্য চাপ দিচ্ছে বলে মার্কিন গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি।

এদিকে, কুয়েতে মার্কিন বিমান বাহিনীর বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে, এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কুয়েতি বিমান বাহিনী ভুল করে বিমানগুলো ভূপাতিত করে বলে মার্কিন সেনাবাহিনী থেকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৩১ জন নিহত হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মূলত, লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র বিদ্রোহী দল হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাংশে বেশ কয়েকটি রকেট হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাবে ইসরায়েল এ হামলায় চালায় বলে দেশটি জানায়।
এ অবস্থায় হিজবুল্লাহর যেকোনো ধরনের সেনা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে লেবানন সরকার।

উল্লেখ্য, গত শনিবার ইরানে প্রথম হামলা চালায় ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র জোট। এতে ইরানের প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়তুল্লাহ আলি খামিনির মৃত্যু হয়।
এর পর পরই ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে ইরান।
সূত্র : বিবিসি, সিএনএন, আল-জাজিরা।



