ইয়েমেনের বন্দর নগরীতে সৌদি আরবের হামলা
বাকি সৈন্য ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা ইউএইর
রাজনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:০৬, ১ জানুয়ারি ২০২৬; আপডেট: ০৩:১২, ১ জানুয়ারি ২০২৬
বন্দরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা ডজনের মতো যান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত জোট থেকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়।
ইয়েমেন থেকে তাদের বাকি সৈন্য ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে সংযুক্ত আরব-আমিরাত (ইউএই)। ইয়েমেনের মুক্কালা নামের বন্দর নগরীতে সৌদি আরব হামলা চালানোর পর এ সিদ্ধান্ত কথা জানায় ইউএই। ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ইউএই অস্ত্র ও যুদ্ধযান দিয়ে সাহায্য করছে, এ অভিযোগ এনে ওই বন্দর নগরীতে হামলা চালিয়েছিলো সৌদি আরব।
তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ ইউএই ইয়েমেনে ‘খুবই বিপদজনক’ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে এবং এটি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে অভিযোগ করে সৌদি আরব। এ অবস্থায় তারা মঙ্গলবার সকালে মুক্কালাতে ‘সীমিত’ আকারে বিমান হামলা চালায় বলে সৌদি আরব জানায়। একইসঙ্গে, ইউএইর সেনাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইয়েমেন ত্যাগেরও নির্দেশ দেয় তারা।
তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি আরবের এ অভিযোগ অস্বীকার করাসহ বিমান হামলায় বিস্ময় প্রকাশ করে ইউএই। তবে, পরবর্তীতে ‘সাম্প্রতিক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে’ তারা স্বেচ্ছায় ইয়েমেন থাকা তাদের ‘কাউন্টারটেরোরিজম’ বাহিনীর বাকি সদস্যদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে বলে ইউএইর প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক ঘোষণায় জানান।
সৌদ আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ইউএই’র এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে, এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ দুটির মধ্যে বর্তমানে ক্রমাগতভাবে বেড়ে চলা বৈরি সম্পর্ক যে আরও তিক্ততায় রূপ নিয়েছে, ঘটনাটির মধ্য দিয়ে এটাই প্রমাণিত হলো।
এদিকে, ইউএই ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিপ্লব সংঘটিত করতে’ সেনাবাহিনী পাঠানো ও এর সংখ্যা বাড়িয়ে চলেছে বলে প্রথম অভিযোগ করে ইয়েমেনের সৌদি আরব সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল আলি ওলিমি। এর পর পরই তারা সেনা তৎপরতা চালায় বলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ঘোষণা দেয় সৌদি আরব।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জাতীয় নিরাপত্তা জন্য হুমকি, এমন কর্মকাণ্ড আমাদের জন্য চূড়ান্ত সতর্কতার বিষয় এবং এসব হুমকি প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় আমরা প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে কোনো দ্বিধা করবো না।’
এদিকে, ওই বন্দরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা ডজনের মতো যান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত জোট থেকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়। জোটের মুখপাত্র কর্তৃক ভিডিওটি প্রকাশিত হয়। একইসঙ্গে, মূলত এর আগে ইউএই থেকে জাহাজে আসা অনুমোদহীন যান ও অস্ত্র লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয় বলে জোটের মুখপাত্র জানান
একইসঙ্গে, ইয়েমেনে হামলা চালাতে ইউএই সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল নামে দেশটির সমর্থিত সেনাবাহিনীকে চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে সৌদি আরব। কিন্তু, দেশটির এ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে আবু ধাবি।
উল্লেখ্য, প্রতিবেশি রাষ্ট্র সৌদি আরব ও ইউএই মধ্যপ্রাচ্যের সর্বাধিক তেল সমৃদ্ধ দেশ। দেশ দুটি এক সময়কার ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং একইসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় অংশীদার। একসঙ্গে দেশগুলো পুরো বিশ্বের ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
সূত্র : সিএনএন।



