অন্যান্য

ইন্দোনেশিয়ার বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪২

আক্রান্ত থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২:৩২, ৩০ নভেম্বর ২০২৫;  আপডেট: ২২:৪৬, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

ইন্দোনেশিয়ার বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪২

ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার বন্যাকবলিত এলাকাজুড়ে চলছে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজ।

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪২ জনে পৌঁছেছে। আজ রবিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়। রবিবার সকালে এ সংখ্যা ৩০০ ছিলো বলে জানানো হয়েছিলো।

বন্যা কবলিত এলাকা থেকে বাসিন্দাদের উদ্ধারের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু, বন্যার কারণে অনেক সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে, কিছু এলাকায় ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা সম্ভব হয়েছে।

বর্ষাকাল দীর্ঘায়িত হওয়ায় এর প্রভাবে মৌসুমি ঝড়ের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে চলতি বছর দক্ষিণপূর্ব এশিয়া সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে। বন্যার কারণে মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডেও ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতির শিকার হয়েছে এ অঞ্চলের লাখেরও বেশি মানুষ।

বর্তমানে বন্যার কারণে থাইল্যান্ডে ১৭০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আর, মালয়েশিয়ার উত্তরাংশের পার্লিস নামের রাজ্যে এ পর্যন্ত দুইজন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া, চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার কারণে দফায় দফায় সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় এ পর্যন্ত প্রায় ১৬০ জন নিহত হয়েছে।

সাইক্লোন সানইয়ার নামের খুবই অপ্রত্যাশিত এক মৌসুমি ঝড়ের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় বিপর্যয়কর ভূমিধস ও বন্যার সৃষ্টি হয়, যার প্রভাবে অনেক বাড়িঘর ভেসে যাওয়াসহ অনেক ভবন পানিতে তলিয়ে যায়।

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের এক বাসিন্দা অ্যারিনি অ্যামালিয়া বলে, ‘পানির প্রবল স্রোত কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে রাস্তা পর্যন্ত চলে আসে এবং বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ে।’

এ সময় বন্যা থেকে রক্ষায় সে তার দাদিকে নিয়ে তুলনামূলক উঁচু জায়গায় অবস্থিত এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরেরদিন তাদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি থেকে জরুরি কিছু জিনিস উদ্ধারে আসার পর পুরো বাড়ি বন্যার তোড়ে ভেসে গেছে বলে দেখে সে। অ্যামালিয়া বলে, ‘বাড়িটি এরইমধ্যে পুরোটা ডুবে গিয়েছিলো।’

এদিকে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজে সমস্যা হচ্ছে বলে জানা গেছে। যদিও এরইমধ্যে হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু, আরও শত শত মানুষ আটকা পড়েছে বলে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থা সংস্থা জানায়।

ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যার প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছে।

বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা তাপানুলিতে খাবারের সন্ধানে বাসিন্দাদের দফায় দফায় দোকান লুটপাটের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এ অবস্থায় আরও দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণে সুমাত্রাকে জাতীয় দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ঘোষণার  জন্য সরকারের উপর ক্রমেই চাপ বাড়ছে।

এদিকে, থাইল্যান্ডে গত এক দশকের মধ্যে সৃষ্ট সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় দক্ষিণাংশের সঙ্খলা প্রদেশে পানি ১০ ফুট উচ্চতায় উঠে এবং কমপক্ষে ১৪৫ জনের মৃত্যু হয়। দেশটির প্রায় ১০টি প্রদেশে দেখা দেওয়া এ বন্যায় ৩৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে গতকাল শনিবার সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়।

গত সপ্তাহে থাইল্যান্ডের হাত ওয়াই শহরে একদিনে ৩৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত ৩০০ বছরের মধ্যে এ এলাকায় এটি সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের ঘটনা। পরবর্তীতে, অঞ্চলটিতে দ্রুততার সঙ্গে নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে বলে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়।

এ অবস্থায় হাত ওয়াই শহরের হাসপাতালগুলোর সব মর্গ ভরে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত কর্মীদের বাধ্য হয়ে মরদেহ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ট্রাকে রাখতে হয় বলে সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়।

অন্যদিকে, টানা ৭ দিন বন্যার পানিতে আটকে থাকার পরও কোনো সংস্থা থেকে সাহায্য করার জন্য কেউ আসেনি বলে অভিযোগ করেছে হাত ওয়াইয়ের এক বাসিন্দা থানিতা খিয়াহোম।

তবে, সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করাসহ স্বজন হারানো পরিবারগুলোর জন্য ২০ লাখ বাথেরও (৬২ হাজার ডলার) বেশি ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি।