রাজনীতি

রাশিয়ার তেলের ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

রাজনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:২৮, ৮ জানুয়ারি ২০২৬;  আপডেট: ০২:৩৪, ৮ জানুয়ারি ২০২৬

রাশিয়ার তেলের ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

গত মাস থেকেই আটলান্টিকে এ ট্যাঙ্কারটিকে নজরে রাখছিলো মার্কিন বাহিনী।

আটলান্টিক থেকে গতকাল বুধবার একটি তেলের ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করায় ম্যারিনেরা নামের রাশিয়ার পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারটি জব্দ করা হয়। মার্কিন কোস্ট গার্ড ও সেনা অভিযানের মধ্য দিয়ে এটি জব্দ করা হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। 

একইসঙ্গে ক্যারিবীয় সাগর থেকে আরেকটি ট্যাঙ্কার জব্দের কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। ট্যাঙ্কারগুলো গোপনে ভেনেজুয়েলা, রাশিয়া ও ইরানে তেল সরবরাহ করে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানায়। এ দেশগুলোর উপর মার্কিন অবরোধ রয়েছে।

মার্কিন সেনাবাহিনী একটি হেলিকপ্টারের সাহায্যে ম্যারিনেরা নামের ট্যাঙ্কারটি জব্দ করে বলে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংবাদমাধ্যম আরটি জানায়।

এ সময় তারা এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করে, যাতে হেলিকপ্টারটিকে জাহাজের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে হেলিকপ্টারটি ট্যাঙ্কারটি অনুসরণ করে এবং সাগরে ঝড় চলা সময় এটি জাহাজটি জব্দ করে বলে আরটি উল্লেখ করে।

গত মাস থেকেই আটলান্টিকে এ ট্যাঙ্কারটিকে নজরে রাখছিলো মার্কিন বাহিনী।

তবে, এটি সমুদ্র বিষয়ক আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী উল্লেখ করে মার্কিন এ কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন রাশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী।

এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৮২ সালের জাতিসংঘ কনভেশনের সমুদ্র বিষয়ক আইনানুযায়ী গভীর সমুদ্রে সব নাবিকেরই পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। একটি রাষ্ট্রের আওতাধীন যান সমুদ্রে অবস্থানের সময় কোনো দেশেরই ওই যানে নিরাপত্তা বাহিনী প্রয়োগের কোনো অধিকার নেই।’ 

জব্দ হওয়ার সময় জাহাজটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমায় ছিলো বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়। এ অবস্থায় প্রতিটি সমুদ্রযানের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানায় রাশিয়া।

এদিকে, ক্যারিবীয় সাগরে জব্দ হওয়া এম. সোফিয়া নামের দ্বিতীয় জাহাজটি পানামার পতাকাবাহী এবং এটিও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন বলে বার্তা সংস্থা রওটার্স জানায়। 

জাহাজটি চলতি মাসে তেল নিয়ে ভেনেজুয়েলা থেকে যাত্রা করেছিলো এবং ‘ছদ্দবেশে’ তা চীনে পৌঁছে দেওয়া এর উদ্দেশ্য ছিলো বলে জাহাজটির বিভিন্ন তথ্য ও সূত্র যাচাই করে রওটার্স জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল দিবে বলে দেশটি জানিয়েছে। এ তেল যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করা হবে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান।

এদিকে, ভেনেজুয়েলার পর এবার গ্রিনল্যান্ড দখলে নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে বলে মার্কিন প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। এ অবস্থায় মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে গ্রিনল্যান্ড।

সূত্র : আল-জাজিরা, বিবিসি, সিএনএন।