পাকিস্তানে আত্মঘাতী ও বন্দুক হামলা : জঙ্গিদের আটকে সাড়াশি অভিযান
রাজনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩:০৯, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; আপডেট: ০১:০৬, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বেলুচিস্তানে হামলার পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পাকিস্তান সরকার।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আটকে আজ রবিবার অভিযান শুরু করেছে। গতকাল শনিবার দেশটির দক্ষিণপশ্চিমের বেলুচিস্তান প্রদেশে সংঘবদ্ধভাবে টানা বন্দুক ও বোমা হামলা চালায় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আজ এ উদ্যোগ নিলো দেশটি।
গতকাল নিরাপত্তা বাহিনী, সাধারণ জনগণ ও বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে টানা হামলা চালানো হয়। বর্তমানে এসব এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সাড়াশি অভিযান চালাচ্ছে বলে বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সারফারাজ বাগতি জানান। নিরাপত্তার কারণে ডজনের মতো এলাকা সিলগালা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গতকালের টানা এ হামলায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩১ নাগরিক এবং ১৭ নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়। একইসঙ্গে, পাল্টা আক্রমণে হামলাকারীদের মধ্যে কমপক্ষে ১৪৫ জন নিহত হয় বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।
বাগতি বলেন, ‘এ ধরনের হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে আমরা গোয়েন্দা সূত্রে আগেই জানতে পেরেছিলাম। তাই, আমরাও একদিন আগে থেকেই তা প্রতিরোধে পরিকল্পনা শুরু করি।’
এদিকে, গতকাল হামলাকারীরা সাধারণ নাগরিকের ছদ্মবেশে হাসপাতাল, স্কুল, ব্যাংক এবং মার্কেটে প্রবেশ করে সাধারণ মানুষের উপর হামলা করে বলে পাকিস্তানের জুনিয়র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানান। এ সময় সাধারণ নাগরিকদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তারা দোকনপাটে গুলি চালাতে থাকে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে, যেসব জেলায় হামলা চালানো হয়েছে সেগুলো সম্পূর্ণভাবে খালি করে দেওয়া হয়েছে বলে আজ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বাগতি জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছি, এতো সহজে আমরা তাদের পালাতে দেবো না। আমাদের রক্ত এতো সস্তা নয়, তাদের আটক না করা পর্যন্ত আমরা থামবো না।’
এদিকে, প্রদেশটির সবচেয়ে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি দল দ্য বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। এ সময় তারা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বন্দুক হামলা এবং বেলুচিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় বলেও স্বীকার করে।
কয়েক যুগ ধরেই বেলুচিস্তানের এ বিচ্ছিন্নতাবাদী দল পাকিস্তানের জন্য এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দলটিকে জঙ্গি দল হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
এদিকে, ভারতের ইন্ধনে দলটি এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। গতকাল হামলায় নিহতদের দাফনে উপস্থিত হয়ে এ কথা বলেন তিনি। তবে, তার এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ বা যুক্তি দেখাতে পারেননি তিনি।
একইসঙ্গে, আজ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েও একই দাবি করেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফ। এ সময় এসব জঙ্গিদের পুরোপুরিভাবে নির্মূল করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় জানান তিনি।

তবে, নিজেদের আভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের ব্যর্থতা থেকে মনোযোগ সরাতে তাদের ঘাড়ে দোষ চাপানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করে ভারত। একইসঙ্গে, এ হামলার সঙ্গে নিজেদের জড়িত থাকার যেকোনো অভিযোগ অস্বীকার করে দেশটি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের ভিত্তিহীন এ অভিযোগ অস্বীকার করাসহ বরং এ অঞ্চলের জনগণের বহুদিনের চাহিদা পূরণে দেশটিকে মনোযোগী হতে পরামর্শ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, আফগানিস্তান ও ইরানের সীমান্ত সংলগ্ন পাকিস্তানের এ প্রদেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৯০ লাখ বেলুচ বসবাস করে। কিন্তু, তারা প্রতিনিয়িত কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করে সংখ্যালঘু এ সুন্নি মুসলিম সম্প্রদায়।
কারণ, প্রদেশটি স্বর্ণ, হীরা, রুপা ও তামার মতো প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও দেশটির সবচেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠী এ বেলুচ জাতি। কেন্দ্রীয় সরকার এসব সম্পদের সুবিধাভোগী হলেও এ প্রদেশের জনগণের জীবনমানের তেমন কোনো উন্নতি কখনো চোখে পড়েনি।
ফলে, বহু বছর ধরেই নিজেদের স্বাধীন বা স্বায়ত্বশাসিত একটি অঞ্চলে পরিণত করার প্রচেষ্টার কারণে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাপক দমন-পীড়নের মধ্যে রয়েছে এ সম্প্রদায়। একই দাবিতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন অস্ত্রধারী বিচ্ছিন্নতাবাদী দল।
সূত্র : ডয়চে ভেলে।



