পরমাণু চুক্তি সংক্রান্ত বিরোধ
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হুমকি ট্রাম্পের
রাজনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩:২২, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬; আপডেট: ২৩:৪৮, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানের জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন।
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বুধবার পরমাণু কর্মসূচী বিষয়ে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরানকে আহ্বান জানান তিনি। তা না হলে দেশটির বিরুদ্ধে আরও বড় আকারের হামলার হুমকি দেন ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একইসময়, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং এর সঙ্গে আরও বেশ কয়েকটি নৌযান মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছে।
সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা আশা করছি ইরান খুব শিগগিরই আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে এবং একটি সুষ্ঠ ও যুক্তিসঙ্গত চুক্তিতে সম্মত হবে। আর, সেটি হবে - 'কোনো পরমাণু অস্ত্র নয়' - এটি উভয় রাষ্ট্রের জন্যই হবে উপযোগী।’
এ সময়ই তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, ‘সময় খুব দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। বিশাল রণতরী বহর ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এর আগেও আমি ইরানকে এ সংক্রান্ত চুক্তি করতে আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু, তারা আমার আহ্বানে সাড়া দেয়নি। আর, তারপরই ইরানে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ এর মতো বিধ্বংসী অভিযান পরিচালিত হয়। পরবর্তী হামলা হবে এর চেয়েও আরও ভয়ঙ্কর।’
গত বছর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনব্যাপী চলা যুদ্ধের সময় ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামের অভিযান পরিচালনা করেছিলো যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, সেনা অভিযানের ভয় দেখিয়ে জোর করে আলোচনায় রাজি করানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছে ইরান।
আজ দেশটির টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস রাঘচি বলেন, ‘তারা যদি সত্যিই একটি গঠনমূলক আলোচনা চায়, তাহলে তাদের অবশ্যই হুমকি দেওয়া, মাত্রাতিরিক্ত চাহিদা প্রকাশ করা এবং অযৌক্তিক সব বিষয় উত্থাপন করার মতো কাজগুলো বাদ দিতে হবে।’
এ অবস্থায় মার্কিন হামলা হলে তা প্রতিরোধে ইরান সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে পারে বলে আজ সতর্ক করেছে ইরানভিত্তিক জাতিসংঘ মিশন। এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি সতর্ক করে বলে, ‘এর আগে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় তাদের ৭ ট্রিলিয়ন ডলার অপচয় হওয়াসহ ৭ হাজারেরও বেশি মার্কিন নাগরিক নিহত হয়।’
এতে আরও বলা হয়, ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আগ্রহের ভিত্তিতে ইরান আলোচনা করতে রাজি; কিন্তু, তাদের উপর জোর খাটালে বা হুমকি দেওয়া হলে, নিজেদের রক্ষায় তারাও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তি প্রয়োগ করে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’
এদিকে, চলতি বছরের মধ্যে আজকে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে, ইরানে সম্প্রতি সংঘটিত বড় আকারের বিক্ষোভের সময় প্রথমবার দেশটির বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।
ইসলামী শাসন কায়েমকারী দেশটিকে নাড়িয়ে দেওয়া এ বিক্ষোভের সময় কোনো প্রতিবাদকারী নিহত হলে ইরানে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে, প্রতিবাদকারীদের হত্যার পরিকল্পনা বাতিল করা বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়ার পর দেশটিতে হামলার হুমকি থেকে সরে আসেন বলে সে সময় দাবি করেন তিনি।
কিন্তু, পরবর্তীতে ট্রাম্পের এ দাবি অস্বীকার করে ইরান। বরং, সে সময় বিক্ষোভ চলাকালে বহু প্রতিবাদকারীকে হত্যা করা হয় এবং ক্রমেই এ সংখ্যা বাড়তে থাকে।
একসময় এটি ৬ হাজার ছাড়িয়ে যায় এবং এদের অধিকাংশই বিক্ষোভকারী ছিলো বলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিটস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) নিশ্চিত করে।
উল্লেখ্য, নতুন এ হুমকি মূলত ইরানের পরমাণু কর্মসূচী সংক্রান্ত। তবে, কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে দেশটি। বরং, দেশের নাগরিকদের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে তাদের নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ ইউরেনিয়াম উৎপাদন করতে হয় বলে বরাবরই দাবি করে আসছে ইরান।
এদিকে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের পরমাণু উৎপাদন কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। কিন্তু, এতে দেশটির এ সংক্রান্ত কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
সূত্র : ডয়চে ভেলে।



