রাজনীতি

ভেনেজুয়েলায় বড় আকারে হামলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের

প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটকের দাবি ট্রাম্পের

রাজনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:২১, ৩ জানুয়ারি ২০২৬;  আপডেট: ২২:৪১, ৩ জানুয়ারি ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় বড় আকারে হামলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের

গত ১৫ সেপ্টেম্বর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও ফাস্ট লেডি সিলিয়াকে জনসমক্ষে দেখা যায়। ছবি : ডয়চে ভেলে।

ভেনেজুয়েলায় বড় আকারের বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে আজ শনিবার হামলা ও আটকের এ ঘটনা ঘটে।

বর্তমানে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আজ স্থানীয় সময় সকাল এগারোটায় সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন।

মাদক ও অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে মাদুরোর বিরুদ্ধে ম্যানহাটানের কেন্দ্রীয় আদালতে মামলা দায়ের এবং বিচার করা হবে বলে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বোন্ডি জানান।

এদিকে, ‘চূড়ান্ত পর্যায়ের সেনা হামলার’ কারণে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করেছে ভেনেজুয়েলা। এ হামলায় দেশজুড়ে সেনা ও সরকারি কর্মকর্তাসহ অনেক জনগণের প্রাণহানি হয়েছে বলে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসে রদ্রিগেজ দাবি করেন।

তবে, তাদের কাছে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়ার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই বলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন।

এদিকে, বিবিসির প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে কারাকাসের বিভিন্ন এলাকায় বড় আকারে ধোঁয়ার কুণ্ডলি ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে।

এ অবস্থায় ‘ ভেনেজুয়েলায় জয় আসবে, তারা ব্যর্থ হবে না, হার মানবে না’ – বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির প্যাদরিনো লোপেজ।

তবে, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আপাতত আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলে ধারণা প্রকাশ করেছেন মার্কিন স্বরাষ্ট্রমমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

যুক্তরাষ্ট্র সেনা ঘাঁটিসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কারাকাস। ছবি : ডয়চে ভেলে।

এদিকে, ভেনেজুয়েলায় ‘শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা পরিবর্তন’ এর পক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট আর্সেলা ভন দার লিয়েন।

তবে, এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে চীন। অন্যদিকে, বৈশ্বিক নিরাপত্তায় এ ঘটনার বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য করেছে ফ্রান্স। একইসঙ্গে, কোনো দেশের আভ্যন্তরীণ সমস্যা বাইরের কোনো শক্তির মাধ্যমে সমাধান করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছে দেশটি।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও প্রেসিডেন্টকে আটকের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস।

উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মাসব্যাপী চলা উত্তেজনার মধ্যে বড় আকারের হামলার এ ঘটনা ঘটলো। প্রেসিডেন্ট মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক চোরাকারবারের অভিযোগ আনে যুক্তরাষ্ট্র।

এ অভিযোগে গত সেপ্টেম্বর থেকে ভেনেজুয়েলা উপকূলে ২০টিরও বেশি বিমান হামলা চালানো হয়। তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট।

একইসঙ্গে, গত বৃহস্পতিবার মাদক চোরাচালান রোধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে একটি চুক্তিতে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার আরও কিছু ছবি :

কারাকাসে প্রেসিডেন্ট ভবনের সামনে জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান। ছবি : ডয়চে ভেলে।

ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরণে মার্কিন বিমানের অবস্থান শনাক্ত হয়। ছবি : ডয়চে ভেলে।

মার্কিন বিমান হামলায় কারাকাসের বিভিন্ন অংশে সংঘটিত বিস্ফোরণের একাংশ। ছবি : ডয়চে ভেলে।

সূত্র : বিবিসি, সিএনএন, ডয়চে ভেলে ও আল-জাজিরা।