রাজনীতি

তুরস্কের ইংরেজি নাম এখন থেকে `তুর্কিয়ে`

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৫:৫৬, ৪ জুন ২০২২;  আপডেট: ১৫:৫৭, ৪ জুন ২০২২

তুরস্কের ইংরেজি নাম এখন থেকে `তুর্কিয়ে`

নাম পরিবর্তনের পেছনে তুরস্কের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণও রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

নিজ দেশের নাম পরিবর্তন করেছে তুরস্ক। এখন থেকে ইংরেজিতে 'টার্কি' (Turkey)-এর পরিবর্তে 'তুর্কিয়ে' (Turkiye) নামে পরিচিত হবে দেশটি। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ দেশটির নতুন এ নামের স্বীকৃতি দেয়। দেশটির সংস্কৃতি, সভ্যতা ও মূল্যবোধ নতুন এ নামেই সবচেয়ে ভালোভাবে প্রকাশ পায় বলে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান মন্তব্য করেছেন। আর নতুন এ নামের মধ্য দিয়ে বিশ্বে দেশটির ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসলো।

উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে খ্রিস্টানদের বড় এক ধর্মীয় উৎসব থ্যাংকসগিভিং। এ উৎসবের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রথা হচ্ছে নানা মুখরোচক খাবারের আয়োজন, যেখানে প্রধান খাবার থাকে টার্কি নামের বড় এক পাখির রোস্ট। তুরস্কের নামের ইংরেজি উচ্চারণও টার্কি। দেশটির নাম পরিবর্তনের পেছনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ উল্লেখ করে ইস্তাম্বুলভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ইডিএএম-এর চেয়ারম্যান সিনান উলগেন বলেন, ‘তুরস্কের নাম পরিবর্তনের প্রধান কারণ এ পাখিটির নামের সঙ্গে আমাদের দেশের নামের উচ্চারণের সাদৃশ্য। এ ছাড়াও চলতি ভাষায় ব্যর্থতা বোঝাতেও শব্দটি ব্যবহার করা হয়।’

জাতিসংঘের স্বীকৃতির পর আন্তর্জাতিকভাবে সবাই এখন দেশটির নতুন এ নাম ব্যবহার করতে বাধ্য। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এটির প্রচলন হতে আরও সময় লাগবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশটির নাম বদলের চেষ্টা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে ১৯৮০-এর দশকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তুরগুত ওজাল তুরস্কের নাম বদলের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে ওই উদ্যোগ তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি বলে জানান সিনান উলগেন।

নাম বদলের নেপথ্যে...
শুধু বিশ্বের কাছে নিজ দেশের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ানো নয় বরং নাম পরিবর্তনের পেছনে তুরস্কের অভ্যন্তরীণ অনেক রাজনৈতিক কারণও রয়েছে। কেননা, এরই মধ্যে এরদোগানের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়তে শুরু করেছে। আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের আগে করা বিভিন্ন জনমত জরিপ এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তুরস্কের ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৯৮.৫ বা ৬ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে। গত মাসে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশে যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। জাতীয় অর্থনীতির এ ভগ্নদশা তুরস্কের জনগণের অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলছে, যার প্রভাব পড়ছে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে। আর এসব থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়াই দেশের নাম পরিবর্তনের বড় কারণ বলে মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের।

কার্নেগি ইউরোপ থিঙ্ক ট্যাঙ্কের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফ্রান্সেসকো সিকার্ডি বলেন, ‘তুরস্কের রাজনীতির প্রশ্নে চলতি বছরটি গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় দেশটির ভোটারদের আস্থা অর্জনে এটি সরকারের আরেকটি কৌশল। তুরস্কের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি গত ডিসেম্বরে জানানো হয়েছে। এমন এক সময় এ ঘোষণাটি আসে যখন সব জনমত জরিপে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের অবস্থান ছিলো নিচের দিকে এবং একই সময় দেশটি গত ২০ বছরের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক শিরিন কোর্কমাজ মনে করেন, দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের সুনির্দিষ্ট কোনো নীতি না থাকার কারণে এরদোগান বরাবরই দেশের জনগণের আবেগের জায়গাকে টার্গেট করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি তুরস্কের জনগণের জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলেন এবং একইসঙ্গে বিরোধী দলকেও ঘায়েল করার চেষ্টা করেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালেও প্রেসিডেন্ট এরদোগান এ ধরনের আরেকটি উদ্যোগ নেন। তখন তিনি এক ডিক্রি জারির মধ্য দিয়ে তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে অবস্থিত ঐতিহাসিক বাইজেনটাইন হাজিয়া সোফিয়া জাদুঘরকে মসজিদে রূপান্তরিত করেন।

সূত্র : সিএনএন।