রাজনীতি

২০৩১ সালের মধ্যে প্রত্যন্ত দ্বীপে মিসাইল প্রতিস্থাপন করবে জাপান

রাজনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:০৮, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬;  আপডেট: ০২:২০, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২০৩১ সালের মধ্যে প্রত্যন্ত দ্বীপে মিসাইল প্রতিস্থাপন করবে জাপান

মিসাইল প্রতিস্থাপনের জন্য এই দ্বীপটিকেই বেছে নিয়েছে জাপান।

জাপান ২০৩১ সালের মার্চের মধ্যে এর পশ্চিমের বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপে মিসাইল প্রতিস্থাপন করবে। দ্বীপটিতে মাটি থেকে আকাশে উৎক্ষেপনে সক্ষম এ মিসাইল প্রতিস্থাপন করা হবে। 

চীন ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানান জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কুইজুমি।

এ বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অবকাঠামোগত উন্নয়নের অগ্রগতির ভিত্তিতে মিসাইল স্থাপনের সময়সীমা কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। তবে, আমাদের বর্তমান লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে সব কাজ গুছিয়ে আনা।’

২০২২ সালেই ইয়োনাগুনি নামের ওই দ্বীপটিতে মিসাইল প্রতিস্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিলো জাপান। তবে, এবারই প্রথমবারের মতো এ উদ্যোগের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানালো দেশটি।

ইয়োনাগুনি নামের ওই দ্বীপটি তাইওয়ান থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তবে, মেঘমুক্ত দিনে তাইওয়ানের উপকূল থেকে পরিষ্কারভাবেই দ্বীপটি দৃশ্যমান হয়।

এদিকে, গত নভেম্বরে জাপান ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। তাইওয়ানে আক্রমণ করা হলে জাপান এর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করবে বলে চীনকে হুশিয়ারি দেন দেশটির নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। 

তাঁর এ বক্তব্যের পরই মূলত দেশ দুটির মধ্যে বৈরিতা আরও বেড়ে যায়।

কারণ, চীন বরাবরই তাইওয়ানকে এর একটি অংশ বলে দাবি করে। আর, চীনের সঙ্গে এ ভূখন্ডটি সংযুক্ত করতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেয় দেশটি। 

কিন্তু, জাপানের মতো যুক্তরাষ্ট্রও তাইওয়ানের ঘনিষ্ট মিত্র হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে, তাইওয়ান ছাড়াও আরও নানা বিষয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বৈরিতা সীমাহীন। 

ফলে, চীন তাইওয়ানে হামলা করলে স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান এবং সাথে এদের ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোও জড়িয়ে পড়বে। এর ফলে এ অঞ্চল বড় রকমের নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতেই দ্বীপটিতে মিসাইল স্থাপনের ঘোষণা দিলো জাপান। ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য মধ্যম পাল্লার এ মিসাইল দিয়ে অনাকাঙ্খিত যেকোনো বিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা সম্ভব বলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কুইজুমি জানান।

৫০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত যেতে এবং ৩৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরতে পারদর্শী এ মিসাইল একসাথে ১০০টি লক্ষ্যবস্তুকে খুঁজতে এবং একবারে ১২টি এ ধরনের বস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম।

তবে, বেশ কয়েক দশক থেকেই বিচ্ছিন্ন এ দ্বীপটিকে সেনা ঘাঁটি হিসেবে তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে জাপান। বর্তমানে দেশটির সেনাবাহিনীর ১৬০ সদস্য দ্বীপটির নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আছে। 

এদিকে, জাপানের এ ঘোষণার বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি চীন। তবে, গত নভেম্বরে জাপানি প্রতিরক্ষমন্ত্রী কুইজুমি ইয়োনাগুনি দ্বীপ সফরে গেলে এ বিষয়ে বেইজিং বলে, ‘জাপানের এ সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক উত্তেজনা সৃষ্টি ও সেনা শক্তি প্রয়োগের উসকানি দিচ্ছে।’

এ প্রতিক্রিয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই চীন ওই দ্বীপের কাছাকাছি ড্রোন উড়িয়ে তাদের ক্রোধের প্রকাশ ঘটায়। পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে যুদ্ধবিমান পাঠায় জাপান। 

বর্তমানে এমন এক দিনে জাপান এ ঘোষণা দিলো, যার মাত্র একদিন আগেই জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ২০টি জাপানি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চীন। এছাড়াও, জাপানের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য এরইমধ্যে নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। 

এর মধ্যে জাপান সাগরে চীনা যুদ্ধ জাহাজ প্রেরণ, বিরল প্রাকৃতিক খনিজ পদার্থের রফতানি কমিয়ে আনা, জাপানে চীনা পর্যটকের হার কমানো, দেশটিতে চীনা কনসার্ট বাতিল করা এবং এমনকি সৌহার্দের অংশ হিসেবে জাপানে পাঠানো চীনা দুটি পাণ্ডা ফেরত চাওয়ার মতো ঘটনা উল্লেখযোগ্য। 

সূত্র : বিবিসি।