অন্যান্য

ভিয়েতনামে টাইফুন কাজিকির আঘাত

নিরাপদ আশ্রয়ে হাজার হাজার বাসিন্দা

প্রকাশিত: ২২:৩৬, ২৫ আগস্ট ২০২৫;  আপডেট: ২২:৪৯, ২৫ আগস্ট ২০২৫

ভিয়েতনামে টাইফুন কাজিকির আঘাত

টাইফুন কাজিকির প্রভাবে প্রদেশগুলোতে ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতও অব্যাহত রয়েছে।

ভিয়েতনামে আজ সোমবার আঘাত হেনেছে টাইফুন কাজিকি। শক্তিশালী এই টাইফুনের প্রভাবে দেশটির মধ্যভাগের প্রদেশগুলোতে ব্যাপক ঝড়ো বাতাস বয়ে যাচ্ছে। টাইফুনের আঘাত থেকে রক্ষায় এরই মধ্যে হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

ভিয়েতনামের স্থানীয় সময় বিকাল প্রায় তিনটায় নেই অ্যান ও হা তিনহ প্রদেশে আঘাত করে টাইফুন কাজিকি। এ সময় ঘণ্টায় ১৩৩ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো বাতাস বয়ে যায় বলে ভিয়েতনামের জাতীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা থেকে জানানো হয়। 

এ সময় ঝড়ো বাতাসের আঘাতে গাছ উপড়ে ল্যাম্পপোস্টের ওপর গিয়ে পড়ে বলে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব গণমাধ্যম জানায়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় টাইফুন আঘাত হানার আগেই বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা শক্ত বোর্ড দিয়ে জানালা এবং বাসাবাড়ি, হোটেল ও রেস্টুরেন্টের সামনের দরজা বালুর ব্যাগ দিয়ে আটকে দেয়। 

এদিকে, ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দেশটির উপকূলীয় ওই দুই প্রদেশের সব বিদ্যালয় ও বিমান বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে, আজ সকালের মধ্যেই প্রদেশ দুটির ৪০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব গণমাধ্যম ভিএন এক্সপ্রেস এসব তথ্য জানায়। 

টাইফুন কাজিকির প্রভাবে প্রদেশগুলোতে ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতও অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে হা তিনহ প্রদেশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াসহ ফোনের নেটওয়ার্কও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এদিকে, টাইফুনের কারণে সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্চতা বেড়ে উপকূলীয় তানহ হাও প্রদেশে বন্যা দেখা দিয়েছে। তবে, গতকালই এই প্রদেশটিসহ ভিয়েতনামের মধ্যাঞ্চলের আরও তিনটি প্রদেশ থেকে প্রায় ৫ লাখ ৮৭ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। 

বৈরি আবহাওয়ায় উদ্ধার কাজে কোস্ট গার্ড, নৌ ও বিমান বাহিনীকে সাহায্য করতে ৩ লাখেরও বেশি সেনা সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে ভিএন এক্সপ্রেস জানিয়েছে। 

তবে, টাইফুনটি বর্তমানে ধীর গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ধীরে ধীরে তা শক্তি হারাবে বলে আজ বিকালে আবহাওয়ার নতুন এক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। কিন্তু, এ অবস্থায়ও ঝড়ো বাতাস অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়। একইসঙ্গে, আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে এটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় নিম্নচাপে পরিণত হবে। 

এর প্রভাবে ভিয়েতনামের কিছু অঞ্চলে ২০০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে চীনের আবহাওয়া অধিদফতর এক পূর্বাভাসে জানায়। কোনো কোনো অঞ্চলে এর পরিমাণ ৬০০ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলেও জানানো হয়। 

পরবর্তীতে টাইফুনটি স্থলভাগ দিয়ে ভিয়েতনাম অতিক্রম করে। পরবর্তীতে এটি লাওস ও থাইল্যান্ডের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হবে বলে ওই পূর্বাভাসে জানানো হয়। এর প্রভাবে ওই দুই দেশে বন্যা ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

চীনের হাইনান দ্বীপের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র সানইয়াতে টাইফুন কাজিগির প্রভাব।

এদিকে, ভিয়েতনামে আঘাত করার আগে গতকাল রবিবার বিকালে চীনের হাইনান দ্বীপ ও গুয়ানডঙ্গ প্রদেশের কিছু অংশে আঘাত করে টাইফুন কাজিকি। তবে, আগাম সতর্কতা হিসেবে হাইনান দ্বীপের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র সানইয়াতে সব বিনোদন কেন্দ্র, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

উল্লেখ্য, এটি ভিয়েতনামে চলতি বছর আঘাত করা পঞ্চম টাইফুন। দেশটির সরকার একে টাইফুন ইয়াগির সঙ্গে তুলনা করছে। গত বছর আঘাত হানা ওই টাইফুনে ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলে প্রায় ৩০০ মানুষ নিহত হয়। একইসঙ্গে, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় অবকাঠামো, কল-কারখানা ও কৃষি জমির। 

সে সময় টাইফুন ইয়াগি ক্যাটাগরি ৪ মাত্রার হারিকেনের সমান শক্তি নিয়ে ভিয়েতনামে আঘাত করেছিলো। টাইফুন কাজিকি সে তুলনায় কিছুটা দুর্বল হলেও এর প্রভাবে মারাত্মক ঝড়ো বাতাস এবং প্রবল বন্যা অব্যাহত রয়েছে। 

সূত্র : সিএনএন।