ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের অবকাশযাপন কেন্দ্রে সশস্ত্র ব্যক্তির অনুপ্রবেশ
নিরাপত্তারক্ষীর গুলিতে নিহত
রাজনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২:৩৫, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; আপডেট: ০০:৩৮, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পাম বীচ কাউন্টির মার-এ-ল্যাগোতে প্রায়ই অবকাশযাপন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার-এ-ল্যাগো নামের অবকাশযাপন কেন্দ্রে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। রাজ্যের পাম বীচ কাউন্টির বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ে থাকা ওই কেন্দ্রে অস্ত্র নিয়ে অনুপ্রবেশ করায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এলাকাটির নিরাপত্তায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মী ও পাম বীচ পুলিশ আজ রবিবার ভোররাতে গুলি করে ওই ব্যক্তিকে হত্যা করে। তবে, এ সময় কোনো পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার কর্মী আহত বা নিহত হয়নি।
এদিকে, এ ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি ম্যানেলিয়া ট্রাম্প ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থান করছিলেন।
সশস্ত্র ওই অনুপ্রবেশকারী প্রায় ২০ বছর বয়সী একজন শ্বেতাঙ্গ পুরুষ এবং নর্থ ক্যারোলিনার বাসিন্দা। ঘটনার একদিন আগে তাকে খুঁজে না পেয়ে তার পরিবার থেকে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করা হয়। এ সময় সে দেশের উত্তর থেকে দক্ষিণের দিকে গিয়ে থাকতে পারে বলে পরিবার থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।
এদিকে, রবিবার দিবাগত রাত দেড়টায় মার-এ-ল্যাগোর উত্তর দিকের গেট দিয়ে প্রবেশ করে ওই ব্যক্তি। মূলত, একটি গাড়ি বের হয়ে যাওয়ার সুযোগে সে ওই এলাকায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয় বলে জানা গেছে।
এ সময় তার কাছে শটগান ও দাহ্য পদার্থ ছিলো। পাম বীচ কাউন্টির শেরিফ রিক ব্র্যাডশো আজ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
অনুপ্রবেশকারীর উপস্থিতি টের পেয়ে তাকে অস্ত্রগুলো ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেয় নিরাপত্তা কর্মীরা। কিন্তু, সে দাহ্য পদার্থের কৌটাটি মাটিতে রাখলেও শটগানটি নিরাপত্তারক্ষীদের দিকে তাক করে। তখন নিরাপত্তাকর্মীরা বাধ্য হয়ে তাকে গুলি করে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পুরো বিষয়টি পুলিশের শরীরে লাগানো ক্যামেরায় ধরা পড়ে বলে সংবাদ সম্মেলনে শেরিফ ব্র্যাডশো জানান।
এদিকে, বাড়ি থেকে ওই স্থানে যাওয়ার পথেই সে শটগানটি কিনেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনুপ্রবেশকারী ওই ব্যক্তির ব্যবহৃত গাড়ি থেকে বন্দুকটির বক্স পাওয়া গেছে বলে নিরাপত্তা কর্মীরা জানিয়েছে।
বর্তমানে এফবিআই পুরো ঘটনা তদন্ত করছে। এতে ঘটনার সাক্ষ্যপ্রমাণ জোগাড় করাসহ ওই অনুপ্রবেশকারীর উদ্দেশ্য ও তার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে, পরিবারকে তার মৃত্যুর খবর না জানানো পর্যন্ত ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হবে না বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দাদেরও ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, তাদের বাড়িতে লাগানো নিরাপত্তা ক্যামেরার ছবি সংগ্রহেরও চেষ্টা করা হচ্ছে।
তাছাড়া, সন্দেহজনক কোনো কিছু নজরে এসেছে কিনা, সে ব্যাপারে জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পেনসালভেনিয়ায় নির্বাচনী প্রচার চলাকালে আততায়ীর গুলিতে আহত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় তার কানে সামান্য আঘাত লাগে।
অন্যদিকে, ওই বছরেরই শেষের দিকে ট্রাম্পের পাম বীচের গলফ কোর্সে রাইফেলসহ আটক হয় আরেক ব্যক্তি। চলতি মাসের প্রথম দিকে আদালতের রায়ে ওই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সূত্র : সিএনএন, ডয়চে ভেলে।



