স্বাস্থ্য ও জীবনধারা

উত্তর কোরিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে `অন্ত্রের অসুখ`

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২:৫৭, ১৬ জুন ২০২২;  আপডেট: ২৩:০০, ১৬ জুন ২০২২

উত্তর কোরিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে `অন্ত্রের অসুখ`

দেশটির ভঙ্গুর স্বাস্থ্যখাত কোভিড১৯ মহামারি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

উত্তর কোরিয়ায় সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে অন্ত্রের অসুখ। এরই মধ্যে দেশটির অনেক নাগরিক এ সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আক্রান্তদের সহায়তা দিতে দেশটির সাউথ হুয়াংহে প্রদেশের হাইজু এলাকায় গতকাল বুধবার ওষুধপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে এ অসুখে আক্রান্তের মোট সংখ্যা এখন পর্যন্ত জানানো হয়নি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি টাইফয়েড বা কলেরা হতে পারে। দেশটির সরকার মনে করছে, কোভিড১৯ সংক্রমণের প্রভাবে এমনটি ঘটেছে। এ অবস্থায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উন জরুরি ভিত্তিতে কোয়ারেন্টিন বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ।

এর আগে কয়েক মিলিয়ন নাগরিক জ্বরে আক্রান্ত হলে গত মে মাসে দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিলো। মনে করা হচ্ছিলো, এর সবই শনাক্ত না হওয়া কোভিড১৯ সংক্রমণের ঘটনা। এখনকার এই অসুস্থতার স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং এতে আক্রান্তের সংখ্যার ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য না দিলেও বলা হচ্ছে এটি অন্ত্রের (গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল ট্র্যাক্ট) অসুখ।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার 'ইউনিফিকেশন মিনিস্ট্রি'র একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, দেশটির সরকার সন্দেহ করছে, এটি কলেরা বা টাইফয়েডের প্রাদুর্ভাবের ঘটনা।

কেসিএনএ-তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে কিম জং-উন দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। এজন্য তিনি কোয়ারেন্টিনের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন।

সাউথ হুয়াংহে প্রদেশ উত্তর কোরিয়ার প্রধান কৃষি-অঞ্চল। ফলে, এ অঞ্চলে নতুন এ অসুখের প্রাদুর্ভাব বেশি হওয়ার কারণে গোটা দেশেই খাদ্য সঙ্কট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়ায় করোনা সংক্রমণের ঘটনা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। গত এপ্রিলেই দেশটিতে জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫ লাখ ছাড়িয়ে যায়। দেশটিতে করোনার সংক্রমণ পরীক্ষার কিটের স্বল্পতার তীব্র সঙ্কট রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ অনেকেই দেশটির ভঙ্গুর স্বাস্থ্যখাতে চরম দুর্ভোগের আশঙ্কার কথা জানিয়ে আসছে। কিন্তু এ অবস্থাতেও আন্তর্জাতিক মহল থেকে কোভিড১৯ পরীক্ষার সরঞ্জাম ও টিকা সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবে এখন পর্যন্ত সাড়া দেয়নি দেশটি।

সূত্র : বিবিসি।