অন্যান্য

ইউরোপের দক্ষিণাংশজুড়ে ভয়াবহ দাবানল

তীব্র গরমে আবারও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩:১২, ১০ আগস্ট ২০২৫;  আপডেট: ২৩:৩১, ১০ আগস্ট ২০২৫

ইউরোপের দক্ষিণাংশজুড়ে ভয়াবহ দাবানল

গরম ও শুষ্ক বাতাস এবং দাবদাহের কারণে দমকল কর্মীদের আগুন নিভানোর কাজ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফ্রান্সের দক্ষিণাংশে সৃষ্ট দাবানল আবার জ্বলে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে দমকল কর্মীরা। প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে প্যারিসের সমান এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এ দাবানল আবার জ্বলে উঠার আশঙ্কা করছে তারা। 

কিন্তু, গরম ও শুষ্ক বাতাস এবং দাবদাহের কারণে দমকল কর্মীদের আগুন নিভানোর কাজ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ রবিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

ফ্রান্সের দক্ষিণাংশের ওদে নামের এলাকায় সৃষ্ট এ দাবানলে এ পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। গত প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে সৃষ্ট সবচেয়ে বড় এ দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আহত হয়েছে ১৯ জন দমকল কর্মী।

তবে, বর্তমানে দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে না। কিন্তু, এখনও এটি ১৬ হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে জ্বলছে বলে ওই অঞ্চলের দমকল বাহিনী প্রধান ক্রিস্টোফার ম্যাগনে গতকাল শনিবার জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, আজ বিকালের আগে এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয় বলেও সে সময় উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আরও কয়েক সপ্তাহ ধরে এটি জ্বলতে থাকবে।’ 

এ অবস্থায় দাবানলটির নতুন করে আবার ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ দমকল কর্মী কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু, এ সপ্তাহে এ অঞ্চলের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে আগামীকাল সোমবার হতে যাচ্ছে দেশটির উষ্ণতম দিন। 

গত সপ্তাহে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সফরে গেছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাসোয়া বাইরু। এ সময় এটি ‘নজিরবিহীন প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানের এ ঘটনা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও খড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।’ '

এদিকে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে সৃষ্ট প্রচণ্ড দাবদাহের প্রভাব ইউরোপের অন্যান্য অংশজুড়েও দেখা যাচ্ছে। আজ ইতালির ভিসুভিয়াস পর্বতে সৃষ্ট একটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনে দমকল কর্মীরা। এ সময় নিরাপত্তার স্বার্থে নেপলসের প্বার্শবর্তী এ পর্বতের হাইকিংয়ের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

গত শুক্রবারে ইতালির দক্ষিণাংশের ন্যাশনাল পার্ক থেকে এ দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে দমকল কর্মীর ১২টি দলসহ ছয়টি উড়োজাহাজ থেকে পানি ফেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। 

এদিকে, গত দুই দিনে গ্রিসের বিভিন্ন অংশে সৃষ্ট বেশ কয়েকটি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু, চলমান খড়া ও শুষ্ক বাতাসের কারণে যে কোন সময় তা আবার জ্বলে উঠতে পারে বলে আজ দেশটির জনপ্রতিরক্ষা কর্মকর্তা সতর্ক করেন। 

বর্তমানে গ্রিসের এথেন্স শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। এই এলাকার প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর কৃষি জমিসহ বন এবং ঝোপঝাড় আগুনে পুড়ে গেছে বলে দেশটির আবহাওয়া দফতর জানায়। 

এ অবস্থায় আগাম সতকর্তা হিসেবে এরইমধ্যে অনেক গ্রাম খালি করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৪০০ জনকে। তবে, ঘরে আগুন লেগে শুক্রবার গ্রিসে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। 

সূত্র : আল-জাজিরা।