পাকিস্তানে বন্যায় নিহত কমপক্ষে ৩৩৭
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৩:৫০, ১৭ আগস্ট ২০২৫; আপডেট: ০২:০২, ১৮ আগস্ট ২০২৫

পাঞ্জাবের রাওয়ালপিণ্ডির বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ছবি : সিএনএন।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাংশে আকস্মিক বন্যায় এ পর্যন্ত ৩৩৭ জন নিহত হয়েছে। আরও ডজনের মতো এখনও নিখোঁজ রয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আজ রবিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
পাকিস্তানের কিসওয়ার জেলার চোসিটি গ্রামে আজও কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এ গ্রামে এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৬০ জন নিহত এবং আরও প্রায় ১৫০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৫০ জনের অবস্থা গুরুতর।
এদিকে, খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে গত শুক্রবার অতিভারী বৃষ্টি ও মেঘের বিস্ফোরণের কারণে প্রবল বন্যার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় প্রদেশটির পাহাড়ি জেলা বুনেরে কয়েক ঘণ্টা ধরে অনুসন্ধানের পর ৫৪ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। জরুরি সেবা সংস্থার মুখপাত্র মোহাম্মদ সুহেইল এ তথ্য জানান।
তবে, গ্রামবাসীর অনেকেই এখনও নিখোঁজ রয়েছে বলেও জানান তিনি। কারণ, প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের সৃষ্টি হয়। এতে বড় বড় পাথরের চাঁই পাহাড়ের পাদদেশে থাকা বাড়িগুলোর উপর পড়ে এগুলো গুঁড়িয়ে দেয়। ফলে, এখন ওইসব পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হচ্ছে বলে মুখপাত্র সুহেইল জানান।
এদিকে, মেঘের বিস্ফোরণের কারণে ভারত-শাসিত কাশ্মীরজুড়ে ব্যাপক দুর্যোপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ অঞ্চলের কাথুয়া জেলার দুইটি গ্রামে আকস্মিক বন্যার খবর পাওয়া গেছে। এতে এক রাতেই কমপক্ষে ৭ জন নিহত ও আরও প্রায় ৫ জন আহত হয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়।
এ অবস্থায় আজ থেকে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত আরও বন্যা এবং ভূমিধসের আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। ফলে, স্থানীয় প্রশাসনকে এ সংক্রান্ত সতর্কবার্তা বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে, প্রবল বৃষ্টিপাত ও মেঘের বিস্ফোরণের পরও কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য সময়মতো সতর্কবার্তা দেয় নি বলে অভিযোগ করে বুনেরের ক্ষুব্দ বাসিন্দারা। ফলে, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে ও শেষ মুহূর্তে অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় বলে অভিযোগ করে তারা।
এ জেলার পীর বাবা গ্রামের স্কুল শিক্ষক মোহাম্মদ ইকবাল এ বিষয়ে বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে (এপি) বলেন, ‘যারা বেঁচে গেছে, তারা ঘর থেকে কিছুই নিয়ে বের হতে পারে নি। যদি আরও আগেই আমাদের সতর্ক করা হতো তাহলে হয়তো আরও অনেকে বেঁচে যেতো এবং বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারতো।’
তবে, সতর্কবার্তা জারির সব ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বুনের জেলায় খুবই আকস্মিকভাবে ও খুব দ্রুত ঘটনা ঘটে যাওয়ায় বাসিন্দাদের সতর্ক করার সময় পাওয়া যায় নি বলে সরকার থেকে দাবি করা হয়।
এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়া পরিবর্তনের যে ধারা বিরাজমান, পাকিস্তান বর্তমানে তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইনাম হায়দায় মালিক মন্তব্য করেন।
ফলে, জুনে বর্ষাকাল শুরু হলেও এরইমধ্যে পাকিস্তানে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়েছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে, আবহওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি মাসে আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের বিষয়ে সতর্ক করেন জেনারেল ইনাম।
তবে, স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া চিত্র ও আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যের সাহায্যে পাকিস্তানের আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি সতর্কতা সংকেত পাঠানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার কর্মকর্তা ইদ্রিস মাসুদ।
পরবর্তীতে এসব তথ্য গণমাধ্যম ও এলাকার স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে প্রচার করা সম্ভব বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘বর্ষাকালীন বৃষ্টি আগে শুধু নদীর পানি বাড়াতো, কিন্তু, এখন তা লোকালয়ে ব্যাপক বন্যার সৃষ্টি করছে।’
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে এবার বর্ষায় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত ২৬ জুন থেকে শুরু হওয়া প্রবল এ বৃষ্টিপাতে এ পর্যন্ত ৬০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে।
তবে, বেশ কয়েক বছর ধরেই বর্ষাকালে পাকিস্তানে এমন আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে জনজীবনে ব্যাপক ভোগান্তি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়ে চলেছে। মূলত, নদী পাড় ও পাহাড়ি এলাকার মানুষ এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে আবহাওয়ার ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানান। এ ক্ষেত্রে, পাকিস্তান বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য দায়ী গ্রিন হাউস গ্যাসের এক শতাংশেরও কম নিঃসরণ করলেও প্রতিনিয়তই দেশটি এর নেতিবাচক প্রভাবের শিকার হচ্ছে।
এর ফলে দেশটিতে প্রতিবছর ব্যাপক দাবদাহ, খরা, অতি বৃষ্টি, হিমবাহ গলে বন্যা এবং বিশাল মেঘের বিস্ফোরণে এক ঘণ্টারও কম সময়ে লোকালয় ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ঘটনা ঘটে চলেছে।
সূত্র : আল-জাজিরা।