নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো)
নুসরাত জাহান
প্রকাশিত: ২৩:৩৭, ২০ আগস্ট ২০২৫; আপডেট: ২৩:৩৮, ২০ আগস্ট ২০২৫

গঠনগতভাবে ন্যাটোভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলো পারস্পরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়বদ্ধ।
ন্যাটো মূলত বিশ্বের স্বাধীন কয়েকটি রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সংস্থাটির সদস্য রাষ্ট্রগুলো মূলত প্রতিকূল পরিস্থতিতে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
সম্প্রতি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ইস্যুতে ন্যাটোর নাম আবারও আলোচনায় এসেছে। দেশদুটির মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে চলমান এ যুদ্ধে বিরতি টানতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতারাও। এ ক্ষেত্রে, যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার ক্ষেত্রে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যেখানে প্রথম থেকেই ইউক্রেনকে ন্যাটোর আওতাভুক্ত না করার শর্ত দিয়ে আসছেন, সেখানে ন্যাটোতে দেশটির অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন। তবে, বর্তমান এ আলোচনার এক পর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইউক্রেন ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়ার আশা ত্যাগ করলেই শুধু যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভাবতে পারে রাশিয়া।
এ অবস্থায়, 'ন্যাটো' কী এবং কেনই তা কোনো দেশের জন্য এতোটা গুরুত্বপূর্ণ, এসব প্রশ্ন আবারও সামনে চলে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এখানে 'ন্যাটো' মূলত কী, এর গঠন কাঠামো, সদস্য সংখ্যা এবং কাজের ধরন ইত্যাদি বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
ভূমিকা : ন্যাটোর পূর্ণ রূপ হলো নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (North Atlantic Treaty Organization)। সংস্থাটি 'নর্থ আটলান্টিক অ্যালায়েন্স' নামেও পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অর্থাৎ ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল এক চুক্তির মধ্য দিয়ে সংস্থাটি গঠিত হয়। মূলত তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সেনাবাহিনীকে মোকাবেলার উদ্দেশ্যেই সংস্থাটির গোড়াপত্তন হয়।
ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র : ১২টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে সংস্থাটি যাত্রা শুরু করে। তবে, বর্তমানে এর সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা ৩২। এর মধ্যে ইউরোপের ৩০টি এবং উত্তর আমেরিকার ২টি দেশ রয়েছে। প্রথমে যে ১২টি দেশ নিয়ে ন্যাটো যাত্রা শুরু করে, সেই দেশগুলো হলো - বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পর্তুগাল, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।
পরবর্তীতে স্নায়ু যুদ্ধের সময়কালে সংস্থাটিতে যোগ দেয় - গ্রিস, তুরস্ক, পশ্চিম জার্মানি, স্পেন এবং ইতালি। এ সময় পূর্ব জার্মানিকে নতুন দেশ নয়, বরং, নতুন ভূ-খণ্ড হিসেবে ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে, ১৯৯০ সালে পূর্ব ও পশ্চিম নিয়ে একত্রে একটি সম্পূর্ণ দেশ হিসেবে জার্মানি ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত হয়।
এছাড়া, স্নায়ু যুদ্ধের পর ১৯৯৯ সালে চেক রিপাবলিক, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড; ২০০৪ সালে বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া; ২০০৯ সালে আলবেনিয়া ও ক্রোয়েশিয়া; ২০১৭ সালে মন্টেনিগ্রো; ২০২০ সালে উত্তর মেসিডোনিয়া ন্যাটোর সদস্য দেশ হিসেবে সংস্থাটিতে যোগ দেয়। পরবর্তীতে, ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল ফিনল্যান্ড ও ২০২৪ সালের ৭ মার্চ সুইডেন যথাক্রমে ৩১ ও ৩২তম সদস্য হিসেবে ন্যাটোতে যোগ দেয়।
অন্যদিকে ন্যাটো বর্তমানে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং জর্জিয়া ও ইউক্রেনকে সংস্থাটিতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রধিকারের তালিকায় রেখেছে (In addition, NATO recognizes Bosnia and Herzegovina, Georgia, and Ukraine as aspiring members)।
তবে, এর ফলে রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর উত্তেজনা শুরু হয়। কারণ, সংস্থাটি বিশ্বের পূর্বাংশে বিশেষত ইউক্রেন, জর্জিয়া বা মলটোভায় তাদের শক্তি বিস্তৃত করবে না বলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ন্যাটোর কাছে গ্যারান্টি চাইলেও সংস্থাটি তা মেনে নেয়নি।
কার্যক্রম : গঠনগতভাবে ন্যাটোভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলো পারস্পরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়বদ্ধ। অর্থাৎ সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কোনো দেশ বহিরাগত কোনো শক্তির আক্রমণের শিকার হলে ন্যাটোভুক্ত অন্যান্য দেশ নিজেদের সামরিক শক্তি নিয়ে তা প্রতিহত করতে বাধ্য। ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ৫ নম্বর ধারায় এ বিষয়ে বলা হয়েছে, সংস্থাটির সদস্যভুক্ত কোনো একটি দেশ যদি বাইরের কোনো দেশের সশস্ত্র হামলার শিকার হয় তাহলে একে ন্যাটোভুক্ত সব দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অন্য সদস্য দেশগুলো আক্রান্ত দেশটিকে রক্ষায় এগিয়ে আসবে। বর্তমানে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দফতর অবস্থিত। আর এর সেনা প্রতিরক্ষা জোটের সদর দফতর অবস্থিত বেলজিয়ামের মন্সে। ২০২০ সালে ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রভুক্ত সেনাবাহিনীর মোট ব্যয় ছিলো মোট বৈশ্বিক ব্যয়ের ৫৭ শতাংশ। ২০২৪ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে তাদের ব্যয়ের পরিমাণ মোট জিডিপির ২ শতাংশের মধ্যে রাখার সীমা নির্ধারণ করেছে ন্যাটোভুক্ত রাষ্ট্রগুলো।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট : ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ে। কারণ, যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এসে পশ্চিমা মিত্রদেশগুলোর সেনা সংখ্যা ব্যাপক হারে কমতে শুরু করে। এ সময়ের মধ্যে ফ্রান্স ও ইতালিতে নতুন করে ক্ষমতায় আসা কমিউনিস্ট দলগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। এ সময় অর্থাৎ যুদ্ধের সময় থেকে সোভিয়েত ইউনিয়ন নতুন শক্তি নিয়ে আর্বিভ‚ত হয় এবং তাদের সেনাবাহিনী মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। এভাবে ১৯৪৮ সালের মধ্যে মস্কোর নেতৃত্বে সোভিয়েত সেনাবাহিনী ইউরোপের এ দেশগুলোর মধ্যে যেগুলো কমিউনিস্ট নয় - এমন সরকার দমন করে ক্ষমতা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে শুরু করে। এভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়নের যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো, তা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ে। এ সময় দুপক্ষই জার্মানি দখলে নিতে নিজেদের তৎপরতা শুরু করে, যার ফলে জার্মানি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এর মধ্যে পশ্চিমের অংশ গণতান্ত্রিক ও পূর্বাংশ কমিউনিস্ট সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আর্বিভূত হয়।
১৯৪৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশাল পরিকল্পনা (মার্শাল প্ল্যান) নিয়ে হাজির হয়। এর মধ্য দিয়ে পশ্চিম ও দক্ষিণ ইউরোপের দেশগুলোকে বড় আকারের আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয় যাতে দেশগুলো একজোট হয়ে তাদের ভঙ্গুর অবস্থা কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এ সময় দেশগুলোর সামরিক শক্তি বাড়ানোর জন্য ১৯৪৮ সালের ব্রাসেলস চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও লুক্সেমবার্গ একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করে যা ‘ওয়েস্টার্ন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন’ নামে পরিচিতি লাভ করে। তবে সোভিয়েত ইউনিয়নকে প্রতিহত করতে খুব দ্রুতই এ জোটের সামরিক শক্তি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। একই সময় ব্রিটেন, কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতিসংঘের বিকল্প একটি সংস্থা গঠন নিয়ে গোপন আলোচনা চলতে থাকে। কিন্তু এ সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের পরিস্থিতি শুরু হলে এ আলোচনা সেখানেই চাপা পড়ে যায়। এ অবস্থায় ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে চেকোস্লোভাকিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়নের সহযোগিতায় কমিউনিস্ট অভ্ভুত্থ্যান ঘটলে পশ্চিমা দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা জোরালোভাবে অনুভব করতে শুরু করে। তখন আবারও ফ্রান্সসহ বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, লুক্সেমবার্গ ও নরওয়ে আলোচনার টেবিলে বসে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতেই ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল নর্থ আটলান্টিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এসব দেশ ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, পর্তুগাল, ইতালি, নরওয়ে, ডেনমার্ক ও আইসল্যান্ডও এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এর মধ্য দিয়েই আর্বিভ‚ত হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক জোট ন্যাটো।
গঠন কাঠামো : ন্যাটোর সব কার্যক্রম মূলত দুই ভাগে বিভক্ত :
প্রথমত : জনপ্রশাসন সংক্রান্ত অবকাঠামো, এবং
দ্বিতীয়ত : সেনাবাহিনী সংক্রান্ত অবকাঠামো
সামগ্রিকভাবে এর সব কাজই মূলত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পরিচালিত হয়ে থাকে।
জনপ্রশাসন সংক্রান্ত অবকাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হলো :
দ্য নর্থ আটলান্টিক কাউন্সিল (এনএসি) : এখানে মূলত ন্যাটো সংক্রান্ত সব ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মূলত স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা (প্রতিরক্ষা বা পররাষ্ট্র মন্ত্রী) একত্র হয়ে ন্যাটোর কার্যাবলি নির্ধারণ করে থাকেন। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে এ কমিটির প্রতিনিধিরা কমপক্ষে সপ্তাহে একদিন বৈঠক করে থাকেন। সেক্রেটারি জেনারেলের সভাপতিত্বে এনএসির বৈঠক হয়ে থাকে এবং সবার সম্মতির ভিত্তিতে নতুন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এখানে ভোট বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র এখানে স্বাধীনভাবে তাদের মতামত জানাতে পারে।
ন্যাটোর সদর দফতর : বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দফতর অবস্থিত।
সেনাবাহিনী সংক্রান্ত অবকাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হলো :
দ্য মিলিটারি কমিটি (এমসি) : ন্যাটোর এ শাখা মূলত সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রধানদের (চিফস অব ডিফেন্স) সমন্বয়ে গঠিত, যারা নর্থ আটলান্টিক কাউন্সিলের (এনএসি) সামরিক নীতি ও কৌশল বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অন্যান্য কমিটির মতো এ কমিটির সদস্যরাও একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর প্রতিটি সদস্য দেশের সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এমসির সভাপতি পুরো কমিটি পরিচালনা করেন; একইসঙ্গে তিনি ন্যাটোর সামরিক অভিযানগুলোও পরিচালনা করে থাকেন।
অ্যালাইড কমান্ড অপারেশনস (এসিও) : ন্যাটো বিশ্বজুড়ে যে সেনা অভিযানগুলো পরিচালনা করে থাকে, সে সংক্রান্ত সার্বিক বিষয়াদি তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব এ কমিটির হাতে ন্যস্ত। জরুরি ভিত্তিতে কোনো দেশে সেনা পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ন্যাটোর প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের যে বিশেষ দল রয়েছে, এর সবগুলো এ কমিটির প্রতি দায়বদ্ধ।
অ্যালাইড কমান্ড ট্রান্সফরমেশন (এসিটি) : এ কমিটি ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত সেনা সদস্যদের প্রশিক্ষণসহ যে-কোনো ধরনের বদল বা রূপান্তর এবং এ বিষয়ক অন্যান্য দায়িত্ব পালন করে।
এ ছাড়াও ন্যাটো সাপোর্ট এজেন্সি, ন্যাটো কমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন এজেন্সি, ন্যাটো সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অর্গানাইজেশন এবং ন্যাটো স্যান্ডার্ডাইজড অফিসও এ সংস্থার অন্তর্ভুক্ত।
ন্যাটো পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলি : দ্য ন্যাটো পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলি (ন্যাটো পিএ) ন্যাটোর জন্য সার্বিকভাবে কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণ করে। এজন্য সংগঠনটি বছরে দুটি সভা করে। ন্যাটো পিএ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সরকার কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত সংসদীয় কমিটির সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে থাকে। তবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধি ছাড়াও অন্য ১৩টি সহযোগী সদস্যের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন। এর প্রতিনিধিরা মূলত ন্যাটো কাউন্সিলের নিরাপত্তা নীতি নিয়ে আলোচনা করে থাকেন।
ন্যাটোর আইনি বিষয়াদি : ন্যাটো বর্তমানে ৩২টি স্বাধীন দেশের সম্বন্বয়ে গঠিত। তবে ন্যাটোজোটে যোগ দেওয়ার কারণে এসব দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না। ন্যাটোর কোনো সংসদীয় ব্যবস্থা, কোনো আইন, কোনো পুলিশি ব্যবস্থা বা কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। ফলে, কোনো ধরনের সার্বভৌমত্ব না থাকার কারণে ন্যাটোতে অনেক কাজই সীমিত হয়ে পড়ে। অর্থাৎ কেউ যদি কোনো আইনি আদেশ মানতে বা কোনো দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হয় অথবা জ্যেষ্ঠ কোনো কর্মকর্তাকে অসম্মান করে তাহলে ন্যাটো কমান্ড থেকে এসব বিষয়ে তাদের শাস্তি দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে ন্যাটো তাদের অধস্তন সেনা বরাবর বিভিন্ন আদেশ জারি করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন অভিযানের পরিকল্পনা ও এ সংক্রান্ত আদেশ, বিভিন্ন কৌশলগত নির্দেশনা বা অন্যান্য ধরনের ছোট-বড় আদেশ, নির্দেশ ইত্যাদি। এ ক্ষেত্রে এর স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলো এসব আদেশ ও নির্দেশনা মানতে বাধ্য থাকে।
সূত্র : https://nato.usmission.gov/about-nato/
https://history.state.gov/milestones/1945-1952/nato
https://en.wikipedia.org/wiki/NATO
https://www.britannica.com/topic/North-Atlantic-Treaty-Organization