সেনা অভ্যুত্থানের ৫ বছর
জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার
রাজনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২:২১, ১৮ আগস্ট ২০২৫; আপডেট: ২২:৪০, ১৮ আগস্ট ২০২৫

জান্তা সরকারপ্রধান একটি মুক্ত ও স্বচ্ছ নির্বাচনের আশ্বাস দিলেও এ নিয়ে দেশ ও দেশের বাইরে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে।
মিয়ানমারে চলতি বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের পর এটিই হতে যাচ্ছে দেশটির প্রথম কোনো নির্বাচন। নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য এরইমধ্যে ৫৫টির মতো দল তালিকাভুক্ত হয়েছে। আজ সোমবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। এর মধ্যে নয়টি দল সারা দেশের সব আসনেই প্রতিদ্বন্দীতা করবে বলেও জানানো হয়।
এ বিষয়ে মিয়ানমারের নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে বলে, ‘বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণে গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের প্রথম ধাপ আগামী ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, রবিবার অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী ধাপের তারিখও এক এক করে জানিয়ে দেওয়া হবে।’
২০২১ সালে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন গণতন্ত্রপন্থী দল দ্য ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সুচীকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখল করে জান্তা সরকার। ওই সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে।
সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিয়ানমারের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে চলমান এসব সংঘাতে দেশটিতে দীর্ঘ দিন ধরে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। এরইমধ্যে নিজ নিজ এলাকায় ভোট বর্জন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে বিভিন্ন সম্প্রদায়।
কারণ, বর্তমান এ নির্বাচন মূলত জান্তা সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করবে বলে ব্যাপকভাবে সমালোচনা করা হচ্ছে। এ অবস্থায়, একটি সুষ্ঠ নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের জন্য কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কিন্তু, যে কোনোভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন সেনাপ্রধান মিন আং লেইং। একইসঙ্গে, নির্বাচন নিয়ে কেউ সমালোচনা করলে বা এটি আয়োজনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাকে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। নির্বাচনের বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে মিয়ানমারের দীর্ঘদিনের মিত্র রাষ্ট্র চীন।
এদিকে, এনএলডিকে এ নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না বলে জানা গেছে। সেনা অভ্যুত্থানের আগে অনুষ্ঠিত পর পর দুটি নির্বাচনে ব্যাপক ভোটে জয়ী হয়েছিলো গণতন্ত্রপন্থী এ দলটি। ফলে, বর্তমানে মিয়ানমারজুড়ে আসন্ন এ নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
এ ক্ষেত্রে, জান্তা সরকার প্রক্সি রাজনৈতিক দলের মধ্য দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে তাদের ক্ষমতা নিশ্চিত করবে বলে সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন।
জান্তা সরকারকে বৈধতা দিতে সেনাবাহিনী লোক দেখানো নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে বলে গত জুনে জাতিসংঘের মিয়ানমারভিত্তিক বিশেষ প্রতিনিধি টম অ্যান্ড্যুস মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে, সরকারের এ জালিয়াতি বন্ধে নির্বাচন বর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, মিয়ানমারের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে জান্তা সরকারের ‘স্বচ্ছ নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের চিন্তা ‘অতি কল্পনা’ ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
সংস্থাটি বলে, ‘নির্বাচনের প্রধান শর্ত হিসেবে অবশ্যই প্রথম তাদের সব ধরনের সংঘাতের সমাপ্তি ঘটাতে হবে। একইসঙ্গে, অন্যায়ভাবে যাদের আটক করে রাখা হয়েছে তাদের মুক্তি দিতে হবে। এ ছাড়া, বিরোধী দলগুলোকে বাধা না দিয়ে বরং স্বাধীনভাবে সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে হবে।’
উল্লেখ্য, এর আগেও বেশ কয়েকবার নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয় জান্তা সরকার। মূলত, বিভিন্ন বিরোধী সশস্ত্র বাহিনীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়া এবং এসব বিপ্লবী বাহিনীর দেশের অধিকাংশ এলাকা দখল করে নেওয়াই ছিলো এর প্রধান কারণ।
এ ছাড়া, সেনা অভ্যুত্থানের পর এ পর্যন্ত সারা দেশে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এতে দেশটির অর্থনীতি যেমন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, একইসঙ্গে মানবাধিকার প্রশ্নে দেশটিতে একটি বড় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি।