রাজনীতি

নেপালে যাত্রীবাহী বিমান নিখোঁজ : বিধ্বস্ত হওয়ার আশঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০:৪৬, ২৯ মে ২০২২;  আপডেট: ২২:১২, ৩০ মে ২০২২

নেপালে যাত্রীবাহী বিমান নিখোঁজ : বিধ্বস্ত হওয়ার আশঙ্কা

পর্বতমালার কারণে দেশটিতে বিমান চলাচল প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ছবি : সিএনএন।

নেপালে আজ রবিবার সকালে নিখোঁজ হওয়া যাত্রীবাহী বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যাত্রী ও কর্মীসহ ২২ জনকে নিয়ে উড্ডয়ন করা বিমানটি হিমালয়ের পাদদেশে একটি গ্রামে ভূপাতিত হয়ে থাকতে পারে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত নেপাল টেলিভিশন এ খবর জানায়। বৈরি আবহাওয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করেছে।

হিমালয়ের পাদদেশে তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা একটি বিধ্বস্ত বিমান দেখতে পায়। লিয়ানকু খোলা নদীর উৎসস্থলে পড়ে থাকা ওই বিমানে তখন আগুন জ্বলছিলো বলে নেপালের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়।

দেশটির তারা এয়ার নামে বেসরকারি একটি এয়ারলাইনসের ওই বিমান আজ স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে জমসমের উদ্দেশে যাত্রা করে। এ সময় বিমানটিতে ১৯ জন যাত্রী ও ৩ জন কর্মী ছিলো। তাদের মধ্যে ৪ জন ভারতের, ২ জন জার্মানির এবং ১৬ জন নেপালের নাগরিক বলে এয়ারলাইনস সূত্র জানিয়েছে।

নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডু থেকে ১২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে বিখ্যাত পর্যটন এলাকা পোখারা থেকে বিমানটি যাত্রা করে। এটির গন্তব্য ছিলো উত্তর-পশ্চিমে ৮০ কিলোমিটার দূরত্বে আরেক জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা জমসম। তবে ২০ মিনিটের এ যাত্রা শেষ করে জমসমে অবতরণের মাত্র পাঁচ মিনিট আগে বিমানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়।

নেপালের সেনাবাহিনী বিমানটির সন্ধানে সহযোগিতা করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে উদ্ধারকারী দল রওয়ানা হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সন্ধান কাজ কঠিন হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

নেপালে এ পর্যন্ত রেকর্ড সংখ্যক বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। এভারেস্টসহ বিশ্বের সুউচ্চ ১৪টি পর্বতের ৮টিই এ দেশে অবস্থিত। দেশটির আবহাওয়া হঠাৎ করেই পরিবর্তিত হয়। এ ছাড়া দেশটির বেশিরভাগ বিমানবন্দর পার্বত্য এলাকায় হওয়ার কারণে খারাপ আবহাওয়ায় উড়োজাহাজ উড্ডয়ন ও অবতরণ প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

২০১৮ সালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ঢাকা থেকে কাঠমাণ্ডুগামী একটি বিমান রানওয়েতে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়ে এতে আগুন ধরে যায়। ওই দুর্ঘটনায় বিমানটিতে থাকা ৭১ জনের মধ্যে ৫১ জনই নিহত হয়। ১৯৯২ সালে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের একটি বিমান কাঠমাণ্ডুতে অবতরণের সময় একটি পাহাড়ে বিধ্বস্ত হয়ে এতে থাকা ১৬৭ জনের সবাই নিহত হয়।

সূত্র : সিএনএন, রয়টার্স।