রাশিয়া থেকে তেল আমাদিন
ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ যুক্তরাষ্ট্রের
রাজনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১:৫৪, ৬ আগস্ট ২০২৫; আপডেট: ২৩:৪৬, ৬ আগস্ট ২০২৫

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া ব্যাপকভাবে ইউরোপে তেল সরবরাহ শুরু করলে দেশটি থেকে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে ভারত জানায়।
ভারতের উপর অতিরিক্ত আরও ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করায় জরিমানা হিসেবে এ শুল্কারোপ করা হয়। আজ বুধবার এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নির্দেশনা জারি করেন।
এর মধ্য দিয়ে এখন ভারতকে মার্কিন পণ্য আমদানিতে মোট ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হবে। আজ মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসের ওয়েব সাইটে এ সংক্রান্ত নির্দেশনার বিষয়টি প্রকাশ করা হয়।
বর্তমান এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক বার্তায় বলা হয়, ‘ইউক্রেনে রাশিয়ার কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতির জন্য হুমকি। ফলে, জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় আমাদের শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন ছিলো।’
এতে আরও বলা হয়, ‘রাশিয়া থেকে তেল আমদানির মধ্য দিয়ে দেশটির ক্ষতিকর কার্যক্রম বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকে অবমূল্যায়ন করেছে ভারত।’
নির্দেশ জারির ২১ দিন পর থেকে নতুন এ শুল্ক কার্যকর হবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের যেকোনো ধরনের মার্কিন ভোগপণ্য নতুন করে কেনার বা এরইমধ্যে গুদামে মজুদ করা পণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এ শুল্ক দিতে হবে। অন্যদিকে, আগের নির্ধারিত ২৫ শতাংশ শুল্ক আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় একটি বার্তা প্রকাশ করে ভারত। এতে বলা হয়, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কারোপের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন একটি কারণে তারা এ সিদ্ধান্ত নিলো, যা অন্য আরও অনেক দেশেই নিজ স্বার্থ রক্ষায় করে যাচ্ছে।’
তবে, এর আগেও শুল্কের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়ে ভারতকে সতর্ক করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে কতো লোক মারা যাচ্ছে, এ নিয়ে ভারতের কোনো দুশ্চিন্তা নেই।’
কিন্তু, তেল আমদানির কারনে শুল্ক বাড়ানোর যুক্তরাষ্ট্রের এ হুমকী ‘অযৌক্তিক ও অন্যায়’ বলে সে সময় উল্লেখ করে ভারত।
এছাড়া, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করতে উৎসাহ দিয়েছিলো বলে দাবি করে ভারত। মূলত, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাব দেয় বলে এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রানধির জাসওয়াল জানিয়েছিলেন।
এ ক্ষেত্রে, যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া ব্যাপকভাবে ইউরোপে তেল সরবরাহ শুরু করলে দেশটি থেকে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে ভারত জানায়।
উল্লেখ্য, এমন সময় হোয়াইট হাউস ভারতের উপর অতিরিক্ত এ শুল্কারোপের বিষয়ে জানালো যখন এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্পের পররাষ্ট্র বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইকঅফ মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি বৈঠক শেষ করেন।
মূলত, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা বিষয়ে আলাপ করতেই এ বৈঠক করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি, সিএনএন।