রাজনীতি

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী : আদি ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা

নুসরাত জাহান

প্রকাশিত: ১২:৫১, ২৬ আগস্ট ২০২৫;  আপডেট: ১৪:৩৫, ২৭ আগস্ট ২০২৫

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী : আদি ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা

নিরাপত্তার অজুহাতে রাখাইন রাজ্যে সেনা হামলার কারণে হাজার হাজার রোহিঙ্গা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ছবি : দ্য কনভারসেশন।

বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতিতে দিনদিনই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে রোহিঙ্গা ইস্যু। এ রোহিঙ্গা কারা, কেন তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে, কতোজন রোহিঙ্গা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, শরণার্থী শিবিরের পরিস্থিতি, এ শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং জাতিসংঘের প্রস্তাবিত 'মানবিক করিডোর' - এসব বিষয় নিয়েই বিস্তারিত এ আলোচনা। আজ প্রকাশিত হলো এর দ্বিতীয় কিস্তি।

২০১৭ সালের স্থানাস্তরের কারণ 

২০১৭ সালে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) নামের একটি বিদ্রোহী দল রাখাইনের পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তল্লাশিচৌকিতে হামলার দায় স্বীকার করে। এ সময় মিয়ানমার সরকার তাদের জঙ্গি দল হিসেবে অ্যাখ্যা দেয়। একইসঙ্গে, এ হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের গ্রামে আক্রমণ করে ও তাদের শতাধিক গ্রাম ধ্বংস করে। এ সময় ২৭ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। সেনাবাহিনীর আক্রমণের প্রথম মাসেই অর্থাৎ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কমপক্ষে ৬ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনা ঘটে বলে বিশ্বব্যাপী চিকিৎসাসেবাদাতা সংস্থা ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ সূত্রে জানা যায়। অভিযান চলাকালে পালিয়ে যাওয়ার সময় রোহিঙ্গাদের লক্ষ করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী গুলি ছোঁড়ে এবং সীমান্তের কাছে স্থলমাইন পুঁতে রাখে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস একে জাতিগত হত্যাযজ্ঞ ও মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি বলে অ্যাখ্যা দেন। এ সময় মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে বলেও জাতিসংঘ কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাধারণ রোহিঙ্গাদের অত্যাচার, যৌন নিপীড়ন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ উসকে দেওয়া এবং নিরাপত্তা বাহিনীতে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সুযোগ করে দেওয়ার মতো আইনের ব্যাপক অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়।

২০১৮ সাল থেকেই মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের খালি পড়ে থাকা গ্রাম এবং কৃষিজমিগুলোতে ঘরবাড়ি ও নিরাপত্তা চৌকিসহ নানা ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করে আসছে। রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। কিন্তু, এটি রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের পরিবর্তে অন্য জনগোষ্ঠী স্থানান্তরের একটি প্রক্রিয়া বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। 

কিন্তু,  অবকাঠামো নির্মাণের এ উদ্যোগ মূলত আরসার হামলা ঠেকাতে সরকারের একটি কৌশল বলে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেন। কিন্তু, নানা প্রতিবেদনে দেখা যায়, বরং আরসার হামলার আরও আগে থেকেই মিয়ানমার সরকার রাখাইন রাজ্যে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে চলেছে। এ ছাড়া, নিরাপত্তার অজুহাতে রাখাইন রাজ্যে হামলা নতুন কোনো ঘটনা নয়; বরং, গত পাঁচ বছরে এ ধরনের যতো হামলা হয়েছে, বিশেষ করে ২০১২ ও ২০১৬ সালে এ ধরনের হামলার কারণে হাজার হাজার রোহিঙ্গা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। 

রোহিঙ্গারা পালিয়ে কোথায় যাচ্ছে  

বাংলাদেশ : রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই পালিয়ে বাংলাদেশে আসছে। কিন্তু, এ বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর আশ্রয়ের জন্য দেশে পর্যাপ্ত সম্পদের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে রয়েছে বলে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা সূত্রে জানা যায়। এ শরণার্থীদের অধিকাংশই বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার জনাকীর্ণ আশ্রয় শিবিরে বসবাস করছে, যা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে পরিণত হয়েছে। 

এখানে বসবাসরত প্রায় ৪ লাখের বেশি শিশু শিক্ষা পায় না। কারণ, এখানে এসব শিশুদের বাংলাদেশ ও মিয়ানমার - উভয় দেশের সিলেবাসে পড়াশোনা করানোর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। একইসঙ্গে, শরণার্থী শিবিরের বাইরের কোনো বিদ্যালয়েও তাদের ভর্তি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ছাড়া রয়েছে নানা ধরনের মহামারি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা। স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, অস্বাস্থ্যকর এ শিবিরে যেকোনো সময় হাম, ধনুষ্টঙ্কার, ডিপথেরিয়া ও জন্ডিসের মতো রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ, শরণার্থী শিবিরগুলোতে সরবরাহ করা পানির ৬০ শতাংশেরও বেশি দূষিত, যার ফলে এখানে ব্যাপকভাবে পানিবাহিত রোগ-বালাই ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ ছাড়া, এখানকার অনেক শরণার্থীই বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার যাওয়ার খরচ জোগাতে চোরাচালান ও অবৈধ যৌনব্যবসায় লিপ্ত হয়ে পড়ছে। 

বাংলাদেশ ছাড়াও মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৫০ লাখের মতো রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। 

জীবন রক্ষায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। ছবি : আল-জাজিরা।

মালয়েশিয়া : জাতিসংঘের হিসাব মতে, ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় প্রায় ১ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছিলো। কিন্তু, দেশটিতে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের সেখানে বৈধ নাগরিকের স্বীকৃতি নেই এবং তারা সেখানে কোনো কাজের জন্য আবেদন করতে পারে না। এমনকি সেখানে তাদের নেই শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ারও কোনো সুবিধা। 

ভারত : সরকারি হিসাব মতে, দেশটিতে বর্তমানে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ হাজার রোহিঙ্গা দেশটিতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়েছে। কিন্তু, দেশটির হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সরকার রোহিঙ্গাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গণ্য করে এবং তাদের নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের শেষভাগে ভারত বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমারে ফিরে যেতে বাধ্য করে। সে সময় জাতিসংঘসহ আরও কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা দেশটির এ উদ্যোগের ব্যাপক সমালোচনা করে। 

থাইল্যান্ড : থাইল্যান্ড হচ্ছে এমন একটি দেশ যেটিকে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের চোরাকারবারির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফলে, রোহিঙ্গাদের জন্যও এ দেশ অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার একটি বড় সুযোগ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ ক্ষেত্রে, রোহিঙ্গারা প্রায়ই নৌকায় করে বাংলাদেশ বা মিয়ানমার থেকে থাইল্যান্ডে পৌঁছায়। পরে এখান থেকে তাদের অবৈধভাবে ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়।

তবে, এর মধ্যে সেনাশাসিত থাইল্যান্ড সরকার এ ধরনের একটি মানবপাচার চক্রকে আটক করে। মূলত, এসব চক্রের সদস্যরা যেখানে বন্দিদের আটকে রাখে, সেখানে একটি গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পরই এ চক্রকে আটক করে থাইল্যান্ড সরকার। তবে তাদের আটক করে শাস্তি দেওয়ার মধ্য দিয়ে এসব মানবপাচারকারী দলের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ করা সম্ভব হলেও খুব শিগগিরই তাদের নির্মূল করা সম্ভব নয় বলে কিছু বিশেষজ্ঞ মত দিয়েছেন। 

ইন্দোনেশিয়া : ইন্দোনেশিয়াতেও রোহিঙ্গাদের অবস্থান রয়েছে। কিন্তু, সেখানে তাদের অবৈধ অভিবাসী বলে গণ্য করা হয়। ফলে, অন্যান্য দেশের তুলনায় ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থান করা রোহিঙ্গার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তবে, দেশটি প্রায়ই তাদের উপকূলীয় এলাকা থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী বোঝাই নৌকা উদ্ধার করে তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে স্থানান্তর করে এবং একইসঙ্গে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে মানবিক সহায়তা দিয়ে থাকে।

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারের জান্তা সরকার নিজ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেছে। ফলে, তারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বর্তমানে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে। দশকের পর দশক ধরে এ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মিয়ানমারে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় সহিংসতার শিকার হয়ে আসছে। ১৯৭০ সাল থেকেই মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে আসছে। 

কক্সবাজাররে জনাকীর্ণ আশ্রয় শিবির বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে পরিণত হয়েছে।  ছবি : ইন্টারনেট।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনেকে অন্যান্য কয়েকটি দেশে আশ্রয় নিলেও এদের মধ্যে বড় সংখ্যক শরণার্থীই এসেছে বাংলাদেশে, যারা বর্তমানে কক্সবাজারের নিবন্ধিত দুটি শিবির ও ভাসানচরে অবস্থান করছে। সম্প্রতি মিয়ানমারে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে শরণার্থী প্রবেশের হারও বেড়ে গেছে। 

১৯৯০ এর দশকে দেশের শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা বেড়ে হয় আড়াই লাখ। বিশ শতকের শুরুর দিকে প্রায় ২০ হাজার রোহিঙ্গাকে তাদের আবাসস্থল থেকে বিতাড়িত করা হয়। আর এভাবে ২০১৫ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত বাংলাদেশের শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গার সংখ্যা তিন লাখ থেকে বেড়ে পাঁচ লাখে পৌঁছায়। এদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমানা সংলগ্ন নাফ নদীর উল্টো পাশের টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে আশ্রয় নেয়। 

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) - এর তথ্য মতে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ২৩ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে বলে ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন। 

অন্যদিকে, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নিচ্ছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত আরও প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। বর্তমানে আশ্রয় শিবিরগুলোতে ১২ লাখের মতো রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে। 

এভাবে, শরণার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় শিবিরগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। এখানে শিক্ষা, খাবার, সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যকর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার যেমন অভাব রয়েছে, তেমনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ছোঁয়াচে রোগের ব্যাপক ঝুঁকিতে রয়েছে এ শরণার্থীরা। এসব খাতে সাহায্যের জন্য ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাংক থেকে বাংলাদেশকে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার সাহায্যের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে, ২০১৯ সালের ১ মার্চ থেকে নতুন আর কোনো রোহিঙ্গাকে দেশে আশ্রয় দেওয়া হবে না বলে  ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ। 

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে গ্রহণ না করার নীতি অনুসরণ করার পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। শরণার্থী শিবিরগুলোতে স্থান সংকুলান না হওয়া এগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর পাশাপাশি অধিকাংশ রোহিঙ্গাই নিবন্ধিত নয়। এছাড়া, তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে অবৈধ, অনৈতিক কাজের অভিযোগও। এসবের মধ্যে নেশাজাতীয় দ্রব্য ইয়াবা চোরাচালানের অভিযোগ সবচেয়ে গুরুতর। এসব কারণে বাংলাদেশ সরকার বরাবরই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে চাপ দিয়ে আসছে। 

কিন্তু, মিয়ানমারের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। বরং, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে রোহিঙ্গা উৎখাতে দেশটির ক্ষমতাসীন সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধরা যে ‘রোহিঙ্গা নিধন কর্মসূচি’ চালায়, এতে ২৪ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা নিহত হয় বলে ২০১৮ সালের আগস্টে পরিচালিত এক গবেষণায় প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া, এ সময় কমপক্ষে ১৮ হাজার মুসলিম রোহিঙ্গা নারী ও কিশারী ধর্ষণের শিকার হয় বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে, ১ লাখ ১৬ হাজার রোহিঙ্গাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং আরও প্রায় ৩৬ হাজার জনকে আগুনে ফেলে হত্যা করা হয়। 

আসছে  তৃতীয় কিস্তি...