রাজনীতি

জার্মানি থেকে প্রায় ১৩শ অভিবাসী সিরিয়ায় ফিরে গেছে

রাজনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:০৩, ১৩ আগস্ট ২০২৫;  আপডেট: ২৩:০৮, ১৩ আগস্ট ২০২৫

জার্মানি থেকে প্রায় ১৩শ অভিবাসী সিরিয়ায় ফিরে গেছে

আসাদ সরকারের পতনে জার্মানিতে বসবাসরত সিরীয় অভিবাসীদের উল্লাস।

জার্মানি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩৩৭ সিরীয় নাগরিক নিজ দেশে ফিরে গেছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত এ সংখ্যক সিরীয় অভিবাসী নিজ দেশে ফিরে গেছে বলে আজ বুধবার জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।

বর্তমানে আরও ১০ লাখেরও বেশি সিরীয় নাগরিক জার্মানিতে বসবাস করছে। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে মূলত তারা অভিবাসী হিসেবে জার্মানিতে আসতে শুরু করে। 

তবে, বর্তমানে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশটিতে অভিবাসীর সংখ্যা কমিয়ে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো। এ উদ্দেশ্যে দেশটি গত ডিসেম্বর থেকে বিশেষ কারণ ছাড়া ব্যাপকহারে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদনপত্র নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। 

এ ক্ষেত্রে, সিরিয়ায় 'মারাত্মক কোনো সংঘাতের ঘটনা ঘটলে' জার্মানির অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক কেন্দ্রীয় কার্যালয় শুধু তাদের আবেদনপত্র গ্রহণ করছে বলে জানানো হয়। এছাড়া, অন্যান্যদের আবেদনপত্র আপাতত নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান।

তবে, একই সময় জার্মান সরকার থেকে সিরীয় অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে, জার্মানিতে তাদের অভিবাসীর মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে অল্প সময়ের জন্য তাদের নিজ দেশ থেকে ঘুরে আসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। 

গত এপ্রিলে জার্মান সরকার এ উদ্যোগ নেয় বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়। মূলত, তারা যাতে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে উৎসাহী হয়, এ উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান।

এ বিষয়ে গত এপ্রিলে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ‘এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সিরীয় অভিবাসীদের নিজ দেশে ফিরে যেতে উৎসাহী করা। এ ক্ষেত্রে, তাদের অল্প সময়ের জন্য মাতৃভূমি থেকে ঘুরে আসার সুযোগ এজন্য দেওয়া হয়েছে, যাতে সেখানে গিয়ে তারা এটা নিশ্চিত হতে পারে যে, তাদের বাসস্থান এখনও অক্ষত রয়েছে বা তাদের কোনো স্বজন এখনও জীবিত রয়েছে।’ 

তবে, একইসঙ্গে সিরীয়দের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও চলমান রাখা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যালেক্সান্দার দোবরিন্ত জানান। এ ক্ষেত্রে, প্রথম ধাপে সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের ফেরত পাঠানো হবে বলে জানানো হয়। 

এর আগে, জার্মানিতে বসবাসরত আফগানী অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মূলত, যারা অভিবাসনের ক্ষেত্রে ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিয়েছে এবং যারা সাজাপ্রাপ্ত আসামী, তাদের গত জুলাইয়ে ভাড়া করা উড়োজাহাজে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। 

তবে, সিরিয়ায় বর্তমান পট পরিবর্তনের পর এখন জার্মানির জোট সরকার ওই দেশের অভিবাসীদের নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। গত সপ্তাহে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দোবরিন্ত বলেন, ‘আমরা আফগানসহ সিরীয় অভিবাসীদেরও নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে উড়োজাহাজের আরও ফ্লাইটের ব্যবস্থা করছি।’ 

তবে, উভয় দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অনেক নাজুক থাকায় বর্তমানে আফগানী ও সিরীয় অভিসাসীদের নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করার বিষয়টি জার্মানিতে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। 

সূত্র : ডয়চে ভেলে।