ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের ঘোষণা ট্রাম্পের
রাজনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৩৯, ১২ আগস্ট ২০২৫; আপডেট: ০১:৪৫, ১২ আগস্ট ২০২৫

ওয়াশিংটন ডিসিতে জননিরাপত্তার সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির পুলিশ বিভাগকে গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে দেশটির প্রশাসন। একইসঙ্গে রাজধানীতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি বর্তমানে অপরাধী চক্রের নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে, গৃহহীনদের থাকার অস্থায়ী বাসস্থান বা বস্তিগুলো এক এক করে ধ্বংস করা হবে এবং এ কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।
এ ঘোষণা এমন এক সময় এলো, যখন গত সপ্তাহেই তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসীদের খোঁজে টানা সাত দিন তল্লাশি চালাতে শহরে এফবিআই এজেন্ট নিয়োগ দেন।
তবে, শহরে বড় আকারের কোনো অপরাধী চক্র নেই এবং এটি অপরাধপ্রবণ এলাকা নয় বলে এর আগে দাবি করেন ডিসির ডেমোক্রেটিক মেয়র মিউরিয়েল বৌসের। এছাড়া, গত তিন দশকের মধ্যে গত বছর এ শহরের অপরাধের মাত্রা সর্বনিম্ন ছিলো বলেও দাবি করেন তিনি।
পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যানেও মেয়রের দাবির সত্যতা পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে অপরাধের মাত্রা ৩৫ শতাংশ কমেছে। এমনকি ২০২৫ সালের এ সময় পর্যন্ত তা আরও ২৬ শতাংশ কমেছে বলেও পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়।
তা সত্ত্বেও রাজধানীর পরিস্থিতি উন্নয়নে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৮০০ ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে, এটি এ বাহিনীকে ব্যবহারের সবচেয়ে উপর্যুক্ত কারণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডিসির মেয়র। তিনি বলেন, ‘এ শহরকে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের সঙ্গে তুলনা করার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।’
একই ধরনের মন্তব্য করেছেন ওয়াশিংটনের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রায়ান স্কোয়্লেব। এ শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের মতো জরুরি কোনো অবস্থা তৈরি হয়নি এবং এ ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউস বিষয়টি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় ও আইন বিবর্জিত আচরণ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
একইসঙ্গে, এ সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন রোধে তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবেন বলেও অ্যাটার্নি জেনারেল উল্লেখ করেন।
এর আগে, গত জুনে লস অ্যাঞ্জেলেসে বড় আকারে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ সংঘটিত হয়। সে সময় বিক্ষোভ দমনেও ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছিলেন ট্রাম্প।
বিষয়টির উল্লেখ করে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসোম বলেন, ‘লস অ্যাঞ্জেলেসে গার্ড মোতায়েন করা ছিলো ট্রাম্পের প্রস্তুতি পর্ব। এখন তিনি আমেরিকার যে কোনো শহরকে যখন-তখন সেনাবাহিনীর আওতায় নিয়ে আসতে বিভিন্ন অজুহাত দাঁড় করান। শুধুমাত্র একজন স্বৈরশাসকই এ ধরনের কাজ করে থাকে।’
উল্লেখ্য,ন্যাশনাল গার্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি বিশেষায়িত ইউনিট। মূলত, রাষ্ট্রের হাতে এ বাহিনী নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকলেও যুদ্ধ বা এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টও একে ব্যবহার করতে পারেন।
সূত্র : ডয়চে ভেলে।